ঝিকরগাছার কোমরচান্দায় ফুফুর প্রতারনার ফাঁদে পড়ে জমি না পেয়ে হয়রানীর স্বীকার ভাইপো

0
6

আরিফুজ্জামান আরিফ ।।ঝিকরগাছার হাজিরবাগ ইউনিয়নের কোমরচান্দা গ্রামে পৈত্রিক জমি আপন ভাইপো আশিকুর রহমান বাবু কে টাকা নিয়ে না লিখে দিয়ে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে নানা ছলচাতুরী ও প্রতারনা করে জালিয়াতি করে বর্তমানে অন্যত্র লিখে দিয়ে বাবুর দখলে থাকা জমি থেকে উচ্ছেদ করার নানা ষড়যন্ত্রের পায়তারা চালাচ্ছে ফুফু সাফিয়া।

এমনকি বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে বাবুকে লাগাতার হুমকি ধামকি দিয়ে জমি দখলে নেওয়ার জোর পায়তারা চালাচ্ছে। অসহায় বাবু সুষ্ঠু বিচারে আশায় সমাজ পতিদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে।

সরজমিনে জানা যায়,কোমরচাদাঁ গ্রামের বাবর আলী মোড়ল মৃত্যুকালে তিন পুত্র ও তিন কন্যা রেখে মারা যান। এই তিন কন্যার এক কন্যা সাফিয়া খাতুন।এই সাফিয়ার বিয়ে হয় শার্শা উপজেলার উলাশী গ্রামের শফিকুল ইসলামের সাথে।

অপরদিকে প্রতারণার শিকার আশিকুর রহমান বাবু(৪০)ঐ মৃত বাবর আলীর তিন ছেলের মধ্যে এক ছেলে মৃত নুর আহমেদের পুত্র।বাবর আলী মারা যাওয়ার পর তার সকল সম্পত্তি তার তিন ছেলে ও তিন মেয়ের নামে ঔয়ারেস কায়েম হয়।

এ ব্যাপারে ফুফু কর্তৃক প্রতারনার স্বীকার আশিকুর রহমান বাবু জানায়,বিগত ২০১৩ সালে তার আপন ফুফু সাফিয়া খাতুন দাদার সম্পত্তির অংশীদার হিসেবে বিভিন্ন দাগ থেকে ১৮ কাঠা জমি লিখে দেওয়ার নাম করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নগত গ্রহন করে এবং একটি দাগের ১৮ কাঠা জমি আমার দখলে দিয়ে দেয়।

বর্তমানে সে জমি আমার দখলে আছে।কিন্তু সেই সময় থেকে ফুফু জমি আজ না কাল লিখে দেওয়ার নাম করে ৭ বছর টালবাহনা করে পার করে আসছে।

সম্প্রতি ফুফু সাফিয়া খাতুনকে আবারও আমার নামে জমি লিখে দেওয়ার কথা বললে সে প্রতারণা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে আমাকে কোন জমি না
লিখে দিয়ে প্রতারনা ও জালিয়াতি করে আমার ভোগ দখলে থাকা ওই ১৮কাঠা জমি অপর ভাই বোনদের না জানিয়ে গোপনে আতাত করে ছোট ভাই নুরুজ্জামানের নামে গোপনে লিখে দেয়।

প্রকৃতপক্ষে হিসাব অনুযায়ী বিক্রিত ঐ ১৮কাঠা জমি থেকে ৩.৩৩ শতক জমি সাফিয়া দাবিদার ও মালিক।কিন্তু জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কাউকে না জানিয়ে ১৮ কাঠা জমি বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিয়মকানুনের বহির্ভূত বলে জানা যায়।

বাবু আরো জানায়, বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের আশায় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ করলে তারা উভয়পক্ষকে ডাকে।কিন্তু ফুফু একই গ্রামের জমাত আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান,জিয়াদ আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান গং সহ স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে ঐ শালিসি বৈঠক বয়কট করে।

এদিকে দীর্ঘ ৭ বছর পূর্বে ফুফু সাফিয়াকে দেওয়া ঐ টাকা ধার দেনা করে টাকা দিয়ে জমি নিজের নামে না পেয়ে অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

অপর দিকে ফুফু সাফিয়া খাতুন বর্তমানে ভাইপো বাবুর দখলে থাকা ঐ জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য কুটকৌশল ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে। এমন কি বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে নানা ধরণের হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে।

সাফিয়ার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকার অনেকে প্রকৃত সত্য ঘটনা বলতেই সাহস পাচ্ছে না।

বিগত কয়েকদিন পূর্বে বাবু বাড়িতে না থাকার সুযোগে সাফিয়ার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা ঐ জমিতে গিয়ে জবরদখল করার চেষ্টা করে।এলাকাবাসী এসময় এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।

বর্তমানে বাবু অসহায় ও মানবেতার জীবনযাপন করছে।ফুফু সাফিয়াকে দেওয়া সুদ করে নেওয়া টাকার সুদে আসল গুনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু সমাধানের আশায় বাবু বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিচ্ছে। এবং বিচারের আশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তপূর্বক আশু জরুরি কার্যকরী পদক্ষেপের জন্য সুদৃষ্টি কামনা করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here