ঝিনাইদহে ফাঁদের নাম ‘অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশন৫ কোটি টাকা হাতিয়ে চম্পট

0
2

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনে জীববৈচিত্র, প্রাণী জগৎ ধ্বংস হতে চলেছে, এই দুর্বিসহ বিপর্যয়ের ভয়াবহতা রক্ষা এবং প্রভাব মোকাবেলা ও পরিবেশ উন্নয়নে সচেতন করা সহ ফ্রী গাছের চারা বিতরণ’র জন্য এসেছিল তারা। আর চলে গেল কয়েক কোটি টাকারও বেশী হাতিয়ে। টাকার পরিমান ৫ কোটিরও বেশী বলে সদস্যদের ধারণা । কিন্তু এসবের কিছুই জানেন না সরকারের কোন দপ্তর। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও ছিলনা কোন নজরদারী । পড়ে আছে অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশনের শাখা অফিস, আঞ্চলিক অফিস, প্রধান কার্যালয়। এসব কার্যালয়ে ঝুলছে বড় বড় তালা, কোথাও কোথাও এখনো আছে চোঁখ ধাধানো ‘অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশন’র বড় বড় সাইনবোর্ড । তবে নেই পিয়ন, অফিস সহকারী, সুপার ভাইজার, ফিল্ড সুপার ভাইজার, ম্যানেজার, ম্যানেজমেন্ট অফিসার, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, লাপাত্তা হয়েছে সবাই । এদের কার্যক্রম ছিল ঝিনাইদহ সহ মাগুরা এবং কুষ্টিয়া জেলাতেও ।চলতি বছরের শুরুর দিকে যখন করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব, চারিদিকে ভয় আর উদ্বেগ আতঙ্ক শুরু হয়েছে। মার্চ মাসের দিকে কাজকর্মহীন হয়ে ক্রমেই মানুষ যখন অসহায় ঠিক তখনই সমাজসেবায় ত্রাতা(!) হিসাবে হাজির হয় ‘অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশন’ নামের একটি বে-সরকারী সংগঠন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন ওরফে রানা মন্ডল ঝিনাইদহের হড়িনাকুন্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের মান্দিয়া গ্রামের মৃত আইজুদ্দিন মন্ডলের ছেলে। আর তার স্ত্রী উম্মে মোমেনিন ওরফে ইভা এই অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশনের পরিচালক । সংগঠনটি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা শহরের কবিরপুরে চোখঁ ধাধানো সাইনবোর্ড লাগিয়ে দ্বিতলায় অফিস নিয়ে জনবল নিয়োগ দিয়ে শুরু করে সদস্য সংগ্রহ। শৈলকুপার শেখপাড়া বাজারে একটি বহুতল ভবনের চারতলাতে খোলা হয় অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়। আর হরিণাকুন্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের মান্দিয়া বাজারে খোলা হয় প্রধান কার্যালয়। উপজেলা শহরের পাশে লোহাপট্টিতে খোলা হয় আরোও একটি অফিস।শৈলকুপা শাখা অফিস ও শেখপাড়ার আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ নিয়োগ করা হয় সুন্দরী নারীদের। গাছের চারা বিতরণ, সেলাই প্রশিক্ষন ও প্রশিক্ষন শেষে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরন আর স্বল্প সূদে দীর্ঘ মেয়াদী লোন এবং বয়স্ক ভাতার কথা বলে শুরু করে ইউনিয়নে ইউনিয়নে সদস্য সংগ্রহ আর সঞ্চয় নেয়া। ১টি গাছ আর জৈব সারের প্যাকেট দিয়ে নেয় ৫০ থেকে ১শ টাকা । সেলাই প্রশিক্ষণ বাবদ নেয় ২’শ ৭০ টাকা। আর লোন নেয়ার সদস্য বাবদ ৩’শত টাকা । উপজেলা জুড়ে এভাবে গত ৯মাসে ৫০ হাজার থেকে কমপক্ষে ১লাখ সদস্য সংগ্রহ করা হয়। সদস্যদের কাছ থেকে এভাবে অর্থ আদায় করা হয়েছে ২কোটি ২৭ লক্ষ থেকে কমপক্ষে ৩কোটি টাকা ।শুধু ঝিনাইদহ নয় একযোগে মাগুরা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ এই ৩টি জেলাতে এই কথিত ফাউন্ডেশন অনুরুপ কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা ও মিরপুর থানা, মাগুরা জেলা সদরের ইছাখাদা এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা ও হরিণাকুন্ডু উপজেলাতে ছিল কার্যক্রম। তবে সঞ্চয় সংগ্রহের পর বর্তমানে সকল অফিসই গুটিয়ে নিয়েছে। তবে তার নিজ উপজেলা হরিণাকুন্ডুতে প্রধান কার্যালয় সহ আরোও একটি অফিস থাকলেও সেখানে ছিল না কোন সদস্য সংগ্রহ বা সঞ্চয় জমা কার্যক্রম।৩জেলা থেকে লাখ লাখ সদস্য সংগ্রহ করে কমপক্ষে ৫কোটি টাকারও বেশী হাতিয়ে নিয়েছে সংগঠনটি। এই প্রতিষ্ঠানে যাদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে ৫হাজার, ১০ হাজার সহ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা। প্রথম মাসের বেতন পেলেও ৮মাসের বেতন দেয়া হয়নি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশনের অবগতি পত্রে দেখা যায়, তারা লিখেছে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাকৃতিক জীবও বৈচিত্র এবং প্রাণী জগত ধ্বংস হতে চলেছে। এ দূর্বিসহ বিপর্যয়ের ভয়াবহতা রক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ও পরিবেশ উন্নয়নে অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে গাছের চারা লাগানো, গাছ সংরক্ষন ও পরিবেশ উন্নয়নে জনগনকে সচেতন করাসহ বর্ষা মৌসুমে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরনের জন্য আপনার নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকায় সদস্য তালিকাভূক্ত করা হচ্ছে এ ব্যাপারে আপনাকে অবগতি করিলাম’। শুধুমাত্র অবগত করে দীর্ঘদিন বিভিন্ন উপায়ে আর্থিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও গোয়েন্দা সংস্থা সহ সরকারী কোন প্রতিষ্ঠানেরই নজরদারী ছিল না সাইনবোর্ড সর্বস্ব এ প্রতিষ্ঠানটির উপর ।অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশনে ফিল্ড অফিসার হিসাবে কর্মরত শৈলকুপা পৌর এলাকার আউশিয়া গ্রামের তুহিন হোসেন, হরিহরা গ্রামের পিকুল হোসেন সহ কর্মরতরা জানান, লোক মারফত তারা জানতে পারেন অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশনে চাকুরীর সুযোগ আছে। বেশ কিছুদিন ঘুরাাঘুরির পর চলতি বছরের শুরুতে তিনি সহ আরো ২০ নারী পূরুষ প্রত্যেকের ৫ হাজার টাকা জামানত রাখার শর্তে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। মার্চ মাস থেকে শুরু হয় সদস্য সংগ্রহ। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা সাধারন মানুষকে জানালে দু-এক মাসের মধ্যে তাদের সদস্য সংখ্যা দাড়াই ৫০ হাজারের বেশী। প্রথমে সদস্যদের আস্থা অর্জনে তাদের মাঝে ৫০ টাকার বিনিময়ে নিজ নার্সারী থেকে বিতরন করা হয় এক ফুটেরও কম উচ্চতার একটি করে গাছের চারা। এরপর সদস্যদের সংগঠিত করা হয় সেলাই প্রশিক্ষন ও প্রশিক্ষন শেষে বিনামূল্যে সেলাই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here