চুয়াডাঙ্গা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া বন্ধের সুপারিশ

Padma Sangbad
৫৮

বাংলাদেশে ৩৬ টি এন্টিবায়োটিকে কোনো কাজ করছে না। উল্টো মানবদেহের ক্ষতি করছে। এখনই এ বিষয়ে সচেতন না হলে সামনে ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে বলে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন গবেষকরা।
রোববার ‘এন্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতা: নিজে জানুন, অন্যকে জানান, প্রতিরোধের এখনই সময়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, এন্টিবায়োটিকের ইচ্ছেমতো ব্যবহার মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অনেক সময় চিকিৎসকরা একবারেই হাইএন্টিবায়োটিক লিখছেন। যা খাওয়ার পর অপেক্ষাকৃত কম পাওয়ারের এন্টিবায়োটিকে আর কাজ হচ্ছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা এন্টিবায়োটিক লিখলেও রোগীরা কোর্স কমপ্লিট করেন না। যে কারণে উপকারের তুলনায় অপকার হচ্ছে বেশি। এভাবে অনিয়ম করার কারণে একসময় এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে যাচ্ছে। আর একবার রেজিস্ট্যান্স হলে তাতে কোনো রকম ইতিবাচক কাজ না করে নেতিবাচক কাজ করে।
বক্তারা বলেন, এন্টিবায়োটিকের ইচ্ছেমতো ব্যবহারের কারণে পরিবেশেও এর অস্তিত্ব পাচ্ছেন গবেষকরা। এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। সেইসাথে ওষুধ কোম্পানির মালিক ও ডাক্তারদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। সর্বোপরি আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। মানুষকে এখনই সচেতন হওয়ার কথা বলছেন গবেষকরা। অসচেতনভাবে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে দেশে প্রতি বছর ২৬ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে বলে আলোচনা সভায় উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সচেতনতা সপ্তাহের সমাপনী দিনে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
এন্টিবায়োটিক শরীরের যেসব ক্ষতি করে
বাংলাদেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপরও অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খান ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই। আবার অনেকে নির্দিষ্ট কোর্স শেষ করেন না।
এ কারণে কী ক্ষতি হয় মানবদেহে-
এ বিষয়ে হলি ফ্যামিলি কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিভাগের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সাধারণত ভাইরাল ইনফেকশন যেমন সর্দি, কাশি, জ্বর এসবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত না। তবে, যদি ইনফেকশন বা সংক্রমণ দ্বিতীয় পর্যায়ে যায় তখন দেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের মূল লক্ষ্য থাকে রোগের জীবাণু একদম মেরে ফেলা।
ডাক্তার জাকারিয়া বলেন, ‘চিকিৎসক একজন রোগীর অবস্থা বুঝে পাঁচ থেকে সাতদিনের একটি কোর্স দিয়ে থাকেন। কিন্তু কেউ যদি দু’দিন খেয়ে আর না খান তখন ওই অ্যান্টিবায়োটিক রোগীর শরীরে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর ওই রোগীর জন্য আগের চেয়ে বেশি মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দরকার হয়।’ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহার বা কোর্স শেষ না করার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রথমত, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যায়। ডাক্তার জাকারিয়া বলেন, এমনিতেই বাতাসে নানা ধরনের জীবাণু এবং ভাইরাস থাকে। সেগুলো প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। এসব কারণে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। যেকোন রোগে সহজেই আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়।
তার মতে, সাধারণত খুব সিরিয়াস অবস্থা না হলে চিকিৎসকদের অ্যান্টিবায়োটিকের নির্দেশনা দেয়া উচিত না।
যশোর সরকারি মুরগি উন্নয়ন ও প্রজনন খামারের উপপরিচালক বখতিয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী ও যশোর প্রাণিসম্পদ গবেষণা কেন্দ্রের সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. আবু হারিস মিয়া। স্বাগত বক্তৃতা করেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন যশোর ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ খান, খাদ্য বিক্রেতা ফরহাদ হোসেন, পোল্ট্রি খামারি শাওন হোসেন। কোরআন তেলোয়াত করেন ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন।
আলোচনা সভার আগে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

আপডেট : ১২:১২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪

ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া বন্ধের সুপারিশ

আপডেট : ১২:১২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪
৫৮

বাংলাদেশে ৩৬ টি এন্টিবায়োটিকে কোনো কাজ করছে না। উল্টো মানবদেহের ক্ষতি করছে। এখনই এ বিষয়ে সচেতন না হলে সামনে ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে বলে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন গবেষকরা।
রোববার ‘এন্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতা: নিজে জানুন, অন্যকে জানান, প্রতিরোধের এখনই সময়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, এন্টিবায়োটিকের ইচ্ছেমতো ব্যবহার মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অনেক সময় চিকিৎসকরা একবারেই হাইএন্টিবায়োটিক লিখছেন। যা খাওয়ার পর অপেক্ষাকৃত কম পাওয়ারের এন্টিবায়োটিকে আর কাজ হচ্ছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা এন্টিবায়োটিক লিখলেও রোগীরা কোর্স কমপ্লিট করেন না। যে কারণে উপকারের তুলনায় অপকার হচ্ছে বেশি। এভাবে অনিয়ম করার কারণে একসময় এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে যাচ্ছে। আর একবার রেজিস্ট্যান্স হলে তাতে কোনো রকম ইতিবাচক কাজ না করে নেতিবাচক কাজ করে।
বক্তারা বলেন, এন্টিবায়োটিকের ইচ্ছেমতো ব্যবহারের কারণে পরিবেশেও এর অস্তিত্ব পাচ্ছেন গবেষকরা। এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। সেইসাথে ওষুধ কোম্পানির মালিক ও ডাক্তারদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। সর্বোপরি আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। মানুষকে এখনই সচেতন হওয়ার কথা বলছেন গবেষকরা। অসচেতনভাবে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে দেশে প্রতি বছর ২৬ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে বলে আলোচনা সভায় উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সচেতনতা সপ্তাহের সমাপনী দিনে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
এন্টিবায়োটিক শরীরের যেসব ক্ষতি করে
বাংলাদেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপরও অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খান ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই। আবার অনেকে নির্দিষ্ট কোর্স শেষ করেন না।
এ কারণে কী ক্ষতি হয় মানবদেহে-
এ বিষয়ে হলি ফ্যামিলি কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিভাগের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সাধারণত ভাইরাল ইনফেকশন যেমন সর্দি, কাশি, জ্বর এসবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত না। তবে, যদি ইনফেকশন বা সংক্রমণ দ্বিতীয় পর্যায়ে যায় তখন দেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের মূল লক্ষ্য থাকে রোগের জীবাণু একদম মেরে ফেলা।
ডাক্তার জাকারিয়া বলেন, ‘চিকিৎসক একজন রোগীর অবস্থা বুঝে পাঁচ থেকে সাতদিনের একটি কোর্স দিয়ে থাকেন। কিন্তু কেউ যদি দু’দিন খেয়ে আর না খান তখন ওই অ্যান্টিবায়োটিক রোগীর শরীরে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর ওই রোগীর জন্য আগের চেয়ে বেশি মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দরকার হয়।’ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহার বা কোর্স শেষ না করার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রথমত, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যায়। ডাক্তার জাকারিয়া বলেন, এমনিতেই বাতাসে নানা ধরনের জীবাণু এবং ভাইরাস থাকে। সেগুলো প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। এসব কারণে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। যেকোন রোগে সহজেই আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়।
তার মতে, সাধারণত খুব সিরিয়াস অবস্থা না হলে চিকিৎসকদের অ্যান্টিবায়োটিকের নির্দেশনা দেয়া উচিত না।
যশোর সরকারি মুরগি উন্নয়ন ও প্রজনন খামারের উপপরিচালক বখতিয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী ও যশোর প্রাণিসম্পদ গবেষণা কেন্দ্রের সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. আবু হারিস মিয়া। স্বাগত বক্তৃতা করেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন যশোর ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ খান, খাদ্য বিক্রেতা ফরহাদ হোসেন, পোল্ট্রি খামারি শাওন হোসেন। কোরআন তেলোয়াত করেন ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন।
আলোচনা সভার আগে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।