July 1, 2022, 1:55 pm

ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় হামলা, আহত ৫

সুচিত্রা রায়,স্টাফ রিপোর্টার:

সাভারের আশুলিয়ায় ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় ৫ জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেছে উত্যক্তকারীরা।

সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন, নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার দিঘলীয়া গ্রামের মোঃ মসিউর রহমানের ছেলে মো. রাতুল শেখ(১৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আব্দুল হকের ছেলে রজব আলী (২২), সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার খইচালা গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে পিকআপ চালক আইয়ুব আলী (২১) ও তার সহযোগী ইয়াসিন (১৮), সারোয়ারের ছেলে গাড়ীর হেলপার হানিফ (১৮)।

হামলার ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম।
আহতদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, এনাম মেডিকেল কলেজ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রোববার(২২মে) বিকালে ৫ টার পরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় শাপলা বিল্ডিং এর মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, রাতুল ও রজব আলী আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ব্রুকহিল মার্কেটের নিকট মীম ফুড বেকারীতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কোপের আঘাতে ঘটনাস্থলেই রজবের ভুড়ি বের হয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। আহতের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সাভারের এনাম মেডিকেলে রেফার্ড করেন।

এদিকে পিকআপ চালক আইয়ুব ও ইয়াসিন কে উদ্ধার করে প্রথমে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করেন।
অন্যদিকে হানিফকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। তার একটি পা অপারেশন করে বাদ দিতে হবে বলে জানা গেছে।

রাতুল শেখ নামের একজনকে সন্ধ্যা সাড়ে সাত টার দিকে পুলিশ উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে।

অভিযুক্তরা হলেন, আশুলিয়ার জামগড়া চিত্রশাইল কাঠালতলা এলাকার মতিন প্রধান ও তার ৪ ছেলে খলিল প্রধান, অলীল প্রধান, মহসিন প্রধান, ওয়াসিম প্রধান, মোশারফ প্রধান, মোশারফ প্রধানের ছেলে আনাস প্রধান, পিতা অজ্ঞাত সোহাগ(২৩), বাশারের ছেলে আল-আমিন, নুরুজ্জামানের ছেলে রিফাত, পিতা অজ্ঞাত রাব্বী, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার বেলতলী গ্রামের মোঃ জাহিদুল ইসলামের ছেলে নাইমুর রহমান রাব্বীসহ অজ্ঞাত আরো ১৫-২০ জন।

আহত বেকারী শ্রমিক রাতুল বলেন, আমি আর রজব বেকারীর বিল তোলার জন্য বিকেল ৫ টার দিকে শাপলা বিল্ডিং মোড় এলাকায় আসি। পরে হঠাৎ করে একদল ছেলে এসে আমাকে কোপ দেয়। তাদের হাতে রামদা সহ বিভিন্ন অস্ত্র ছিল। তখন রজব দৌড় দেয়। রজবের খবর আমি জানিনা। আমি তখন দৌড়ে স্থানীয় একটি বাড়িতে ঢুকে আশ্রয় নেই। আমাকে ধাওয়া করে সন্ত্রাসীরা সেই বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করে। সেই বাড়িতেও দরজায় কুপিয়েছে তারা। পরে আমাকে পুলিশ এসে উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে রজবকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে নেয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কোত্থেকে অনেকগুলো ছেলেপুলে এসে হামলা চালায়। কারা কাদের কেন মারছে আমরা জানিনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এর আগে এক মেয়ে ইভটিজিং করে সোহাগ নামে এক ছেলে। পরে সেই মেয়ের ভাই সোহাগকে এ ব্যাপারে নিষেধ করলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে গতকাল রাতে শুনেছি এক ধাপ মারামারি হয়েছে। আজ তার জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা বেপরোয়া হয়ে যাকে সামনে পেয়েছে তাদেরই কুপিয়েছে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। তদন্ত চলছে এখন আর কিছু আপাতত বলা যাবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     আরও সংবাদ :