December 9, 2021, 12:06 am

উন্নয়নের মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং দুর্গাপূজা

রাশিদা-য়ে আশরার কবি ও সাহিত্য সম্পাদক দৈনিক পদ্মা সংবাদ।

“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।”
যে যে দেশে জন্মগ্রহণ করে সে সে দেশের নাগরিক সেটা তার জন্মগত অধিকার তেমনি নাড়ির টান-স্নেহের বন্ধন মানুষের স্বভাবজাত আচরণ। ৫০- বছর স্বাধীনতা উত্তর যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ- বাংলাদেশ।শেকড় থেকে শিখরে ওঠা-হাটি হাটি পায়ে উন্নয়নের মহাসড়কে দাঁড়িয়ে বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ এগিয়ে এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। অথচ তলাবিহীন ঝুড়ি খ্যাত এই দেশটিকে স্বীকৃতি দিতে চায়নি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তান নামে খ্যাত এই বাংলাদেশের অংশটি তখনো আশা কল্পনার দোলাচলে।
৭১- এর ১৬-ই ডিসেম্বর বাঙালি জাতির সূর্যসন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ হয়ে, বাংলার দামাল ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এই বাংলার মাটিকে করেছেন শত্রুমুক্ত ও পবিত্র; গেঁথেছেন বিজয়ের ইতিহাস! এদেশের লাল সবুজ পতাকা সগর্বে স্থান পাচ্ছে আজ বিশ্ব মানচিত্রে।

কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ ও মহল সৃষ্টির শুরুতে অর্থাৎ আদিম যুগ থেকে আবহমানকাল ধরে নিকৃষ্ট মনের। তারা কখনোই নিজের ছাড়া অন্যের ভালো চায়না, না তারা সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে। এদেশে যেমন আছে বিজয়ের ইতিহাস তেমনি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার নীল নকশা ও কাল রাত্রির মতো নষ্ট ইতিহাসের
নজিরবিহীন ঘটনা।জাতিতে জাতিতে,দাঙ্গা-হাঙ্গামা কিছু গোড়া মৌলবাদীরা- সব সময় জাতির জন্য হুমকি স্বরূপ। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে এবার শারদীয় দুর্গাপূজায়, প্রতিমার পায়ের নিচে পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে। সহিংসতা কখনোই শান্তি আনয়ন করতে পারেনা- সবার আগে প্রয়োজন মনের শুদ্ধি। এ ধরনের নিন্দনীয় ঘটনা ও গর্হিত কাজের তীব্র প্রতিবাদ করছি বাংলাদেশের একজন নাগরিক ও সৃষ্টিশীল মানুষ হিসাবে।

সৃষ্টিকর্তা চাইলে এক জাতি এক ধর্ম এক সমাজ সৃষ্টি করতে পারতেন কিন্তু তিনি বিভিন্ন জাতি, গোত্র ও সম্প্রদায় রূপে পৃথিবীতে মানুষকে প্রেরণ করেছেন, যাতে করে মানুষ ভালো-মন্দ এবং একে অপরকে বুঝতে পারে। একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে সামাজিকভাবে বসবাস করতে পারে কারন মানুষ সামাজিক জীব।

স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন, “তোমরা অন্য গোত্রের সম্প্রদায় কে গালি দিও না, তাহলে তোমার আল্লাহ তা’য়ালাকে ওরা গালি দেবে।”
কেউ যদি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে প্রতিমার পায়ের নিচে পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে থাকে তাহলে মানুষরূপী ভয়ঙ্কর এক অমানুষ সাপ তার মধ্যে বসবাস করছে- কোন মানুষ এমন করতে পারেনা। আর তার ফলশ্রুতিতে মূর্তি ও মন্দির ভাঙচুর করা, জাতিতে জাতিতে বিভেদ সৃষ্টি করা। এক সময় থেমে যাবে সকল আলোচনা-সমালোচনা, সমস্ত কোলাহল কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও আনন্দের উৎসব দুর্গাপূজা। তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে শতকরা ৯৫% মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের নিন্দা ছাড়া কি এমন
গর্বের কাজ হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়।

অপরদিকে পবিত্র কুরআন শরীফ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার বা ধৃষ্টতা কিভাবে হতে পারে মানুষের? স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত নাযিল কৃত সমগ্র মানুষ জাতির জন্য সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আল কোরআন;
যে উপহার তিনি প্রেরণ করেছেন পৃথিবীতে…তার মর্যাদা কত বড় হতে পারে, এই শ্রদ্ধাবোধ টুকু তার ভিতরে নেই- মানুষরূপী তার জন্ম গ্রহণ করাটাই বৃথা! প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত, সে যে ধর্মেরই হয়ে থাক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় এ বিষয়ে তৎপর হবেন- একটি দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দাঁড়িয়ে… জাতির কাছ থেকে তিনি নিশ্চয়ই এ ধরনের সহিংস ব্যবহার আশা করেন না। প্রতিটি অপরাধের মূল কারণ খুঁজে বের করে প্রকৃত দোষীদের কে আইনের আয়ত্তায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা জনগণ প্রত্যাশা করে। উন্নতির চরম উৎকর্ষের পৌঁছাতে হলে সবার আগে প্রয়োজন আইনের শাসন ও তার প্রয়োগ। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ:
BengaliEnglish