December 9, 2021, 12:30 am

এই মানুষটি সেই মানুষ !!

আসিফ কাজল।।

সমগ্র ঝিনাইদহ জুড়ে তখন রক্তের হোলি খেলা। প্রতিনিয়ত হিমশীতল মৃত্যু যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। সাধারণ কৃষক থেকে জনপ্রতিনিধি কেও বাদ যায়নি চরমপন্থিদের বোমা, ছুরি ও গুলির নিশানা থেকে। শহর থেকে গ্রাম জুড়ে বোমাবাজী। যেখানে সেখানে ছাড়ানো ছিটানো ক্ষতবিক্ষত লাশ। এক সঙ্গে ৭টি পর্যন্ত মৃত্যু দেখেছে ঝিনাইদহবাসি। পোড়াহাটী ইউনিয়নের কংশির সেভেন মার্ডার, হরিণাকুন্ডর মান্দিয়া গ্রামে ফাইভ মার্ডার ও কুঠিদুর্গাপুর গ্রামে ফোর মার্ডার উল্লেখযোগ্য। গুলির আর ছুরির লড়াই দেখতে দেখতে মানুষ যখন ক্লান্ত ঠিক তখন এক শান্তির বারতা নিয়ে ঝিনাইদহবাসির খেদমতে এলেন এসপি জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। বয়সে তরুন এক সাহসী পুলিশ অফিসার। ঝিনাইদহের সাংবাদিকরা এই মানুষটির পাশে থেকে সব সময় সাহস যুগিয়েছেন। তাইতো তিনি অবলিলায় বাঘা বাঘা সন্ত্রাসী ও চরমপন্থি অস্ত্রবাজদের ঘায়ের করতে পেরেছিলেন। জেলাবাসি বিশেষ করে স্বজন হারানো পরিবারগুলো এসপি মাতুব্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে বহুকাল। সন্ধা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এটিএন বাংলার সাংবাদিক নিজাম জোয়ারদার বাবলু, এনটিভির মিজানুর রহমান বাবুল, চ্যানেল আইএর শেখ সেলিম, আরটিভির মাহির ফয়সাল ও বিটিভির আমি তটস্থ থাকতাম, এই বুঝি বন্দুক যুদ্ধের খবর এলো। ক্যামেরা পার্সন রাকেশ ও জাহাঙ্গীর আমাদের সঙ্গে থাকতো। তখন সংবাদ পাঠানোর ব্যবস্থা এখনকার মতো এতো আধুনকি ছিল না। রাত ১২টার পর থেকে নিজেদের মধ্যে খবরা খবর নেয়া শুরু হয়ে যেতো। অনেক সময় এসপি জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর নিজেই বন্দুক যুদ্ধের কথা জানাতেন ও সাংবাদিকদের পুলিশ প্রটেকশনে ঘটনাস্থলে পৌছানোর ব্যবস্থা করে দিতেন। তখন আমাদের তারুন্যদিপ্ত মন। মগজ আর মননে শুধুই কেবল সাংবাদিকতা। এক সময় খুনোখুনির পারদ কমে আসলো। এসপি জাহাঙ্গীর ভাই বদলী হয়ে চলে যাওয়ার পরও তিনি আমাদের ভুলতে পারলেন না। সেই টিম ওয়ার্ক চ্যালেঞ্জ ও সাহস যোগানোর প্রেরণা। তাই সহজেই হয়তো তিনি ভুলতে পারেনি। প্রতিনিয়ত খোজ খবর রেখেছেন। কারণ আমরা ছিলাম সন্ত্রাস মুক্ত ঝিনাইদহ গড়ার ক্ষেত্রে তার সহযোদ্ধা। ঝিনাইদহে আসার আগে থেকেই তিনি নিয়মিত ম্যাসেজ দিচ্ছিলেন ‘আমি আসছি’। অবশেষে দেখা হলো। তিনি এখন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি। শনিবার বহুদিন পর দেখা ঝিনাইদহ সার্কট হাউসে। শশ্রুষামন্ডিত মুখাবয়বে ‘ঝিনাইদহ জয়ের’ মৃদু হাসি লেগে আছে। আমিও বদলে গেছি। দেখা হতেই হাতটি বাড়িয়ে দিলেন। শীতের দুপুর। বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়ায় গরম হাতের উষ্ণতা যেন নির্ভরতা ও আস্থা অর্জনের স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দিল। জানি একজন সাধারণ পুলিশ সুপারকে নিয়ে এ ভাবে লেখা অনেকেই পচ্ছন্দ করবেন না। কিন্তু চরমপন্থি জামানায় যদি এমন লেখাটি লেখা হতো তাহলে ‘পুলিশের দালাল’ সাব্যস্ত করে নির্ঘাত মৃত্যুদন্ড দেয়া হতো। নির্ভয়ে লেখার সেই পরিবেশটি তৈরী করে গেছেন পুৃলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। আরেকজন পুলিশ সুপারের কথা না উল্লেখ করলেই নয়। তিনি হলেন এসপি আকরাম হোসেন ভাই। অনেক নামি ও দুধর্ষ সন্ত্রাসীকে তিনি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে গেছেন। তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন জানি না। এসপি আকরাম ভাই ও এসপি জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মতো সফল পুলিশ সুপার ঝিনাইদহে এসেছিলেন বলে এখনকার পরিবেশটা নতুন প্রজন্মের কাছে এতো রঙ্গিন ও নিরাপদ মনে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ:
BengaliEnglish