May 12, 2021, 11:22 am

কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা কবরীর চিরবিদায়

অনলাইন ডেস্ক।।
বড় অসময়ে চলে গেলেন কিংবদন্তী অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় তিনি চলে গেলেন। শুক্রবার রাত ১২টা ২০মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এ সময়ে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। কবরীর ছেলে শাকের চিশতী খবরটি নিশ্চিত করেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা।
কিছু দিন আগে খুসখুসে কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষার জনল দেন সারাহ বেগম কবরী। গত ৫ এপ্রিল দুপুরে পরীক্ষার ফল পেলে জানতে পারেন তিনি করোনা পজিটিভ। সেদিন রাতেই তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। প্রথম দিকে আইসিইউ সংকট দেখা দেয়। কিন্তু ৮ এপ্রিল দুপুরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে কবরীর জন্য আইসিইউ পাওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে লাইফ সাপোর্ট নেওয়া হয়। তবে শেষরক্ষা হলো না।
কবরী ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।বাংলা চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী, নির্মাতা ও সাবেক এমপি সারাহ বেগম কবরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোক জানিয়েছেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড হাছান মাহমুদ, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক। আরও শোক জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ সিনেমা দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয় কবরীর। এরপর ১৯৬৫ সালে অভিনয় করেন ‘জলছবি’ ও ‘বাহানা’ সিনেমায়। ১৯৬৮ সালে ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’। ১৯৭০ সালে ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’ তার উল্লেখযোগ্য সিনেমা। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সিনেমায় অভিনয় করোন কবরী। ১৯৭৫ সালে নায়ক ফারুকের সঙ্গে ‘সুজন সখী’ সিনেমায় অভিনয়ের পর আগের সব জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছান কবরী। এরপর কেবলই এগিয়ে চলা সামনের দিকে। তার জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আগন্তুক’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘সারেং বৌ’, ‘দেবদাস’, ‘হীরামন’, ‘চোরাবালি’, ‘পারুলের সংসার’। ৫০ বছরের বেশি সময় চলচ্চিত্রে রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল ও বুলবুল আহমেদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
ঢাকার সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন রাজ্জাক-কবরী। অভিনয়ের জন্য কবরী পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন কবরী। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন কবরী। শিল্পাঙ্গনের পাশাপাশি রাজনীতিতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও অসংখ্য নারী অধিকার ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন।
১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তার আসল নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণদাস পাল এবং মা লাবণ্য প্রভা পাল।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ:
BengaliEnglish