কালীগন্জে ড্রাগন চাষে সফল শেখ রাসেল

0
12

শাহ আলম কালীগঞ্জ ( ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় বিদেশী ফল ড্রাগন চাষ করে সফল হয়েছেন শেখ রাসেল আহম্মেদ নামের এক যুবক। রাসেল উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত শেখ আবুল কাশেমের ছেলে। বাড়ির আঙ্গিনায় ড্রাগান চাষ শুরু করে বর্তমানে মাঠে দুই বিঘা জমিতে চাষ করে প্রথম বছরেই আশানুরুপ ফলন পেয়েছেন। মাত্র দেড় বছর পরেই তার গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় প্রায় ৬০ জন কৃষক ১৫০ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ করছেন।
রাসেল আহমেদ জানান, তার বাড়ির আঙ্গিনায় আশপাশে ১৬ শতক জমিতে মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিল। ১৫ বছর আগে লাগানো এসব গাছ মাত্র এক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। গাছ গুলি কাটার সময় তার মা তাকে বাধা দেন। সে সময় রাসেল তার মাকে বলেন, ১৫ বছর আগে লাগানো সব গাছ বিক্রি করে দাম পাওয়া গেছে এক লাখ টাকা। আর আপনি আমাকে দোয়া করলে আমি প্রতি বছর আপনাকে ড্রাগন থেকে এক লাখ টাকা লাভ দিব। এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাছগুলি কাটা হয়। ২০১৯ সালে মাত্র ১৬ শতক জমিতে প্রথমে ড্রাগন চাষ শুরু করি। একই সময়ে মাঠে আরো এক বিঘা জমিতে ড্রাগনের চাষ করি। এবার বাড়ির আঙ্গিনাসহ মাঠের গাছে প্রচুর ড্রাগন ফল ধরেছে। কেজিতে ৪ থেকে ৫টি যে ফল হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন। কেজি ৪ থেকে ৫শ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু করোনার সময় বাজারদর ভাল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ২ থেকে আড়াইশত টাকা কেজি দরে ড্রাগন পাইকারী হারে বিক্রি হচ্ছে।

চলতি বছর আরো এক বিঘা জমিতে ড্রাগনের চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে তার এখন ড্রাগনে আবাদ আছে দুই বিঘা ১৬ শতক জমিতে।
রাসেলের ভাষ্য, ইউটিউব চ্যানেলে লাভজনক চাষের বিভিন্ন ভিডিও দেখে তিনি ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হন। তার এক বিঘা জমিতে ২২০ টি পিলার আছে। প্রতিটি পিলারের মূল্য পড়েছে ২২০ টাকা। প্রতিটি পিলারে গোড়ায় চারটি করে ড্রাগনের চারা রোপন করা হয়েছে। অর্থাৎ এক বিঘায় ৮৮০টি চাষা রোপন করেছেন। তিনি পিলার গুলি বাইরে থেকে না কিনে নিজেই তৈরি করেছেন। এতে পিলার মজবুদ হয়েছে। পিলার, টায়ার, চারা, সার, কীটনাশক, সেচ পরিচর্যা বাবদ এক বিঘা জমিতে তার প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ড্রাগন চাষে প্রথম বছরটায় বেশি খরচ হয়। এরপর থেকে আর তেমন কোন খরচ নেই। আর একবার ড্রাগন গাছ হলে একটানা ২০ থেকে ২৫ বছর ফল পাওয়া যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহিদুল করিম বলেন, রাসেলের ড্রাগনের চাষে কৃষি বিভাগ তাদের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। ফল বিক্রির জন্য মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। ড্রাগন লাভজনক ফসল হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলে পুষ্টিকর এ ফলের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here