মাল্টা চাষ করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ পেয়ছে মুজিবনগরের ইসমাইল

0
13

অনলাইন ডেস্ক।।
মাল্টা চাষ হতো শুধু সিলেটে। সেই ধারণা পাল্টে যাচ্ছে। দেশের অনেক এলাকায় এখন মাল্টা চাষে সাফল্যের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশ গিয়ে ব্যর্থ হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন মুজিবনগরের ইসমাইল। জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও একটি কাজের সন্ধান মেলাতে পারেন নি। তারপর এলো সেই মহেন্দ্রক্ষণ। মুজিবনগর উপজেলার কৃষি সম্পাসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. মোফাক্কর হোসেনের পরামর্শে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন মাল্টা চাষ।
এতে তার প্ররিশ্রম স্বার্থক হয়েছে। মাল্টা চাষ করে তার দিন বদলে গেছে। সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। এই সফতলা শুধু মুজিবনগরের ইসমাইলের একার নয়। এই সফলতা বাংলাদেশের সকল বেকার যুবকের। সে কোনো বেকার যুবক ভাই-বোনরা ইসমাইলের মতো মাল্টা চাষ করে সফল হতে পারেন।
এখন শুনুন মুজিবনগরের ইসমাইলেন সফলতার গল্প। মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের মরহুম নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন। ইসমাইল হোসেন বলেন, আমি বেশ কিছুদিন আগে বিদেশ গিয়েছিলাম। সেখানে সুবিধা করতে না পারায় দেশে ফিরে আসি। তারপর হতাশার ক্ষত নিয়ে এ দোর থেকে ওদোর ঘুরে বেড়িয়েছি, একটি কাজের সন্ধানে। হঠাৎ একদিন মুজিবনগর উপজেলার কৃষি সম্পাসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. মোফাক্কর হোসেনের কাছে যাই। তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়ে বলেন ভাই আপনি চাষে মনোযাগী হন। কৃষি কর্মকর্তা আরোও বলেন, বর্তমানে মাল্টাচাষে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমি রাজি হলাম। তিনি আমাকে প্রাথমিকভাবে ৫০টি বারী মাল্টার চারা হাতে তুলে দেন। তিনি হাতে তুলে দিয়েও ক্ষান্ত হননি। চারা লাগানো থেকে শুরু করে সবধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। এ ধরনের কর্মকর্তা সব এলাকায় থাকলে দেশের যুব সমাজ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন।
এরপর ইসমাইল মাল্টাচাষ পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রথমে দুই বাই দুই ফুট গর্ত খুড়ে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ও গোবর সার দিয়ে মাটি তৈরি করে গর্তে এক একটি করে মাল্টাচারা রোপন করুন। দুই থেতে তিন দিনের মধ্যে কমপক্ষে একবার সেচ দেয়া জরুরি। বছরে চার থেকে পাঁচটি সেচ দেয়া যেতে পারে, কিন্তু সেটি মার্টির মানের ওপর নির্ভর করে। মাল্টাগাছের একটি বাড়তি সুবিধা আছে যে খুব একটা পরিচর্যা লাগেনা। এছাড়া রোগ বালাই পোকা মাকড় উপদ্রব একদম নেই বললেই চলে। গাছ লাগানোর দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ফল আসা শুরু করে। গাছের যত বয়স হবে ফলন তত ভালো হবে।
ইসমাইল আরো বলেন, প্রথমে দশ কাঠা জমিতে আমি পঞ্চাশটি চারা রোপন করি। তা থেকে বিশ হাজার টাকার ফল বিক্রয় করি। পরবর্তী সময়ে ষাট থেকে সত্তর হাজার টাকা পর্যন্ত মাল্টা বিক্রি করে লাভবান হয়েছি। বর্তমানে আমি তিন বিঘার ওপর মাল্টা চাষ অব্যাহত রেখেছি। ভবিষ্যতে আমার পরিকল্পনা আছে যে কমপক্ষে একশ’ বিঘা জমিতে মাল্টার আবাদ করবো। মাল্টা ফলটি ভিটামিন যুক্ত, সুস্বাদু ও দেখতে সুন্দর এবং সহজ পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। বর্তমানে আমি শুধু আবাদই করিনা তার পাশাপাশি আমি ওই গাছ থেকে গুটি কলম করে বিভিন্ন এলাকায় উৎসাহি চাষিদের সরবরাহ করে থাকি।
আমার বিশ্বাস যে কোন বেকার ভাইবোন এই মাল্টাচাষ করে বেকারত্বের অভিশাপ পরিত্রাণ পাবেন।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here