September 29, 2022, 1:26 am

ক্ষুধা!

রাশিদা-য়ে আশরার।
কত স্বপ্ন তলিয়ে যায় মনের চোরাবালিতে
কত স্বপ্ন ঝরে যায় অকালে অকাতরে;
কত আশার সমাধি হয় স্বপ্নের বালুচরে-
কত সাধ শেষ হয় জীবনের অন্ধ গলিতে!
কত ফুল ফোটার পূর্বে মুকলেই ঝরে
কত বৃক্ষ নিরবে কাঁদে শুকনো পাতার মর্মরে;
কত তাজা প্রাণ নীরবে নিভৃতে থেমে যায়
অন্তহীন পথের বাঁকে জীবন নদীর মোহনায়!
কত পথশিশুর জীবন থমকে যায় দাপুটে
ক্ষুধার তীব্র জ্বালা না সইতে পেরে;
প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ডাস্টবিনের
উচ্ছিষ্ট খাবার জোটে!
একইভাবে ভরছে উদর কোন বদ্ধ উন্মাদ
কুকুরের পাশে বসে ধনীদের পরিত্যক্ত খাবারে!
ভাবি সত্যি তো- এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি,
ঐ জানোয়ারের মাঝে কতটুকু তফাৎ আছে বাকি?
ওদের ভেজা শরীরে স্পষ্ট ফুটে ওঠে মহামারী-
রক্তে ফুটে ওঠে দুর্ভিক্ষের ছবি;
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শিত হয়েছে থরে থরে
সাজানো এঁকেছেন ক্যানভাসে কত সব্যসাচী!
পেটে ক্ষুধার গলিত লাভা বারুদের মত জ্বলে-
ওদের ছোঁয়াচে নিমগ্ন ক্ষুধা বিষবাষ্প ছড়ায়
সারা শরীরে…
কবে মিটবে ওদের মৌলিক প্রয়োজন
মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বিবেক;
ন্যূনতম অন্ন,বস্ত্র ,চিকিৎসা, শিক্ষাও বাসস্থান
কপালে জোটে না সরকারি অনুদান-
মেরে খায় দালাল, প্রভাবশালী সুবিধাভোগী
নেতাগন!
নগ্ন ক্ষুধার জ্বালা পারদের মত উঠানামা করে,
অর্ধমৃত জরাজীর্ণ দেহে- থেমে যেতে চায় হৃদস্পন্দন;
প্রতিনিয়ত মৃত আত্মারা নিবিড় ভাবে ডাকে
চোখের সামনে অদ্ভুতুড়ে নৃত্য করে আপন কঙ্কাল ;
নৈপথ্যে ক্ষুধার্ত শকুনিরা অপেক্ষায় থাকে-
বড় বড় লাল লোভাতুর চোখে নরমাংসের খোঁজে!
মৃত্যু দ্বীপে দাঁড়িয়ে বাস্তবতার কার্পেটে সত্য
ওঠে ভেসে…
পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিতে চায় ক্ষণে ক্ষণে
ওদের জীবনে সীমাহীন অন্ধকার দুচোখে নামে;
ফুরাই না দুর্ভেদ্য প্রগাঢ় অন্ধকার হয়না ভোর-
চেয়ে থাকে পথ পানে অস্তিত্ব পানে সুদীর্ঘ প্রতীক্ষায়;
হয়তো ডাকবে কখনো প্রভাতী আলোই হাতছানি
নতুন সূর্যের-
অথবা থাকবে নিয়ত নিয়তির খেলায় নিষিদ্ধ
মানব ভাসমান পতঙ্গ রূপে!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     আরও সংবাদ :