September 26, 2022, 3:55 pm

খুললো প্রাণের বইমেলার দ্বার

অনলাইন ডেস্ক।
দেশে মহামারি করোনা ভাইরাস, চৈত্র বৈশাখ মাসে কাল বৈশাখ ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দুয়ার খুললো মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলার।
বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিকেলে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলার’ উদ্বোধন করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা পরিস্থিতির কারণে গণভবন থেকে তিনি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সচিব বদরুল ইসলাম, বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান, মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী প্রমূখ।
বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত আমার দেখা নয়াচীন-এর ইংরেজি অনুবাদ ঘঊড ঈঐওঘঅ ১৯৫২-এর গ্রন্থ-উন্মোচন করা হয়। গ্রন্থটি ইংরেজি’তে অনুবাদ করেছেন অধ্যাপক ফকরুল আলম। এ সময় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২০ প্রদান করা হয়। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার- ২০২০ পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলো- কবিতা-মুহাম্মদ সামাদ, কথাসাহিত্য-ইমতিয়ার শামীম, প্রবন্ধ/গবেষণা-বেগম আকতার কামাল, অনুবাদ- সুরেশরঞ্জন বসাক, নাটক- রবিউল আলম, শিশুসাহিত্য- আনজীর লিটন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা- সাহিদা বেগম, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞান-অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনী- ফেরদৌসী মজুমদার, ফোকলোর মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে তিন লক্ষ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একুশে বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। সরকারে কিংবা বিরোধী দলে যেখানেই থাকি, আমি সবসময় বইমেলায় অংশগ্রহণ করি। এবার সশরীরে উপস্থিত না থাকতে পারলেও ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে আপনাদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছি। এবারের বইমেলা আমাদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের বিষয়; করোনা মোকাবেলায় আমরা টিকা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছি। তারপরও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে বইমেলায় আসতে হবে।


তিনি বলেন, বই আমাদের জ্ঞানের দরজা প্রশস্ত করে। বর্তমানে ডিজিটাল বহু মাধ্যমে বইয়ের বিকল্প পাঠকের কাছে সহজে পৌঁছে গেলেও এখনও ছাপা বইয়ের আবেদন কখনও পুরনো হবার নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে বিশ্বব্যাপী এক বিস্ময়ের নাম। তবে আমাদের একই সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের যথাযথ অনুবাদ বিশ্বের ভাষাভাষী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। কারণ যথাযথ অনুবাদের মাধ্যমেই আমাদের জনজীবন, সংস্কৃতি ও গণমানুষের অন্তরঙ্গ পরিচয় পাওয়া যাবে।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারির বিরুদ্ধ-বাস্তবে আমরা নির্ধারিত সময়ের পরে হলেও সকলের সহযোগিতায় আজ থেকে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলা ২০২১ আয়োজন করার সংকল্প গ্রহণ করেছি। জনগণের স্বাস্থ্যসুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবার গত বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিসরে বইমেলার স্থান বিস্তৃত করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, এবারের বইমেলা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত না হলেও আজ ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে কারণ বাংলাদেশের মানুষ বইয়ের অনুরাগী ও সংস্কৃতিপ্রেমী। স্বাধীনতার মাস মার্চ থেকে শুরু করে বাংলা নববর্ষ পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত এবারের মেলায় সবাই স্বাস্থ্যসচেতন থেকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবেন- এই প্রত্যাশা করছি।
অনুষ্ঠানসূচি:
শুক্রবার (১৯ মার্চ) অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিন। এদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮:৩০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুভাষ সিংহ রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আরমা দত্ত এমপি এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
প্রতি বছর ভাষার মাসে শহীদদের স্মরণে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হলেও এবছর মহামারির কারণে নিয়মের বত্যয় ঘটেছে। এ বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বৃহস্প্রতিবার (১৮ মার্চ) থেকে বইমেলা শুরু হয়েছে। চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এবারের বইমেলা উৎসর্গিত হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।
এবারের বইমেলার মূল থিম ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও বইমেলা শুরু হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গন ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গায়। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৮০টি ইউনিট; মোট ৫৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৩৪টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৩টি প্যাভিলিয়ন রয়েছে।
এবার সোহরাওয়ার্দীতে ৩টি প্রবেশ পথ ও ৩টি বাহির পথ রয়েছে। প্রত্যেক প্রবেশ পথে সুরক্ষিত ছাউনি রয়েছে, যাতে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে মানুষ আশ্রয় নিতে পারে। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     আরও সংবাদ :