February 1, 2023, 7:36 pm

‘চোখ ওঠা রোগ’ সুনামগঞ্জের ঘরে ঘরে

সুনামগঞ্জের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে চোখের রোগ কনজাংটিভাইটিস। এটি একটি ভাইরাসজনিত চোখ ওঠা রোগ। প্রতিদিন এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। জেলার ১২টি উপজেলায় ইতোমধ্যে এই রোগে কয়েক হাজার লোক আক্রান্ত হয়েছে।

জেলা সদর হাসপাতাল এমনকি প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক, বেসরকারি হাসপাতাল ও প্রাইভেট ডাক্তারদের চেম্বারে চিকিৎসা নিতে দিন দিন আক্রান্তদের ভিড় বাড়ছে। পাশাপাশি জেলা শহরসহ প্রত্যেক উপজেলায় চোখের ড্রপের সংকট দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার ভার্ড চক্ষু হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভিড় করছেন। প্রায় ৪০% রোগী চোখ ওঠা সমস্যা নিয়ে এসেছেন। শহর গ্রাম-গঞ্জে বাড়ছে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা।

চিকিৎসকরা বলছেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। এটি ভাইরাসজনিত রোগ। কালো চশমা পরে ঘরে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে তা সেরে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই রোগটিকে কনজাংটিভাইটিস বা চোখের আবরণ কনজাংটিভার প্রদাহ।

জেলা সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলার কর্মরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ হলো চোখের নিচের অংশ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা, খচখচ করা বা অস্বস্তি। প্রথমে এক চোখ আক্রান্ত হয়। পরে অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে। চোখের নিচের অংশ ফুলে লাল হয়ে যায়। চোখ জ্বলে ও চুলকাতে থাকে। আলোয় চোখে অস্বস্তি বাড়ে।

তাদের পরামর্শ, চোখ উঠলে রোগীর করোনার উপসর্গ রয়েছে কিনা, তা খেয়াল রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনে করোনার পরীক্ষা করাতে হবে।

এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর ডা. রাজীব চক্রবর্তী বলেন, কনজাংটিভাইটিস রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। রোগীর ব্যবহৃত বস্তু রুমাল, তোয়ালে, বালিশ অন্যরা ব্যবহার করলে এতে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া কনজাংটিভাইটিসের জন্য দায়ী ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমেও ছড়ায়।

জেলা সদরের বাসিন্দা সুধাংশু শেখর তালুকদার জানান, এলাকায় প্রতিটি ঘরে চোখ ওঠা রোগ। অসংখ্য লোক এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে। অনেক ফার্মেসিতে এখন মক্সিফ্লক্সাসিনসহ অনেক চোখের ড্রপ পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও বেশি দামে এসব ড্রপ বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন আহম্মদ হোসেন বলেন, কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা একটি মৌসুমি ভাইরাসজনিত রোগ। গত মাস যাবত এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা ছাড়াই ৭ দিনে এই রোগ ভালো হয়। তবে চোখে জ্বালা-যন্ত্রণা করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ড্রপ ও ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু রোগটি ছোঁয়াচে তাই করোনায় যে রকম স্বাস্থ্যবিধি ঠিক অনেকটাই ওই রকমই মানতে হয়। চোখ ওঠা অবস্থায় চোখে হাত দেওয়া যাবে না। তবে ড্রপার ব্যবহারের আগে এর মান ও মেয়াদ সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতেও এই রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওষুধ ও ড্রপের সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ অতিরিক্ত রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। আর যারা ওষুধ ও ড্রপ বেশি দামে বিক্রি করেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     আরও সংবাদ :