September 26, 2022, 4:02 pm

জাল সনদে চাকরি নেয়া শিক্ষিকা সুরাইয়া ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জশিট

অনলাইন ডেস্ক।
উজিরপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও শেরে বাংলা পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুরাইয়া ইসলামের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি নেয়ার অভিযোগ প্রথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
চাকরি নেয়ার সময় সুরাইয়া ইসলাম জাল সনদ দেয়ার ঘটনায় উজিরপুর সদরের শেরে বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ১৬ নভেম্বর উজিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উজিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান গত ২৫ জানুয়ারি সুরাইয়া ইসলামকে অভিযুক্ত করে ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪২০ ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে- সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া ইসলাম গত ৮ বছর চাকরীকালীন সময়ে সরকারি আর্থিক সুবিধা ও স্কুল তহবিল থেকে ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৭১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
উজিরপুর থানার ওসি জিয়াউল আহসান অভিযুক্ত সুরাইয়া ইসলাম বীনার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর শেরে বাংলা পাইলট গত বছরের ২০ অক্টোবর সহকারী শিক্ষক (উদ্ভিদ বিজ্ঞান) সুরাইয়া ইসলামের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচায়ের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষর (এনটিআরসিএ) কাছে আবেদন করেন উজিরপুর শের ই বাংলা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান।
এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ সহকারী শিক্ষক (উদ্ভিদ বিজ্ঞান) সুরাইয়া ইসলামের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই করলে ভূয়া ও জাল সনদ দিয়ে চাকরি নেয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষর (এনটিআরসিএ) সহকারী পরিচালক (পমূপ্র-৩) তাজুল ইসলামের গত ১১ নভেম্বর স্বাক্ষরিক চিঠিতে বলা হয়, মো. আলাউদ্দিন আকনের কন্যা সুরাইয়া ইসলাম ২০০৭ সালের তৃতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার রোল নং-৬১১৬০০২৬, রেজিস্ট্রেশন নং-৭০১২২৭২ সনদ দিয়ে চাকরি নেন।
সনদটি সঠিক নয়, সনদটি জাল ও ভুয়া। ওই রোল ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বরের প্রকৃত সনদধারীর নাম আবুল হাসনাত মো. রাসেল, পিতা গোলাম হোসাইন। সনদধারী সুরাইয়া ইসলাম জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন মর্মে দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বিধায় উক্ত জাল ও ভূয়া সনদধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক অত্র অফিস অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া গেল।
আদালতে দায়ের হওয়া মামলার চার্জশিটে বলা হয়েছে, সুরাইয়া ইসলাম সহকারী শিক্ষক পদে (উদ্ভিদ বিজ্ঞান) নিয়োগ পাওয়ার জন্য ২০১২ সালের ২৮ মার্চ আবেদন করেন। ১১ মে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৭ জন প্রার্থী অংশ নেন। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় নির্বাচনী বোর্ড সুরাইয়া ইসলামকে নিয়োগ প্রদানে ম্যানেজিং কমিটিকে সুপারিশ করে। ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৫ মে সুরাইয়া ইসলামকে নিয়োগ দেন।
২০১২ সালের ১ নভেম্বর সুরাইয়া এমপিওভুক্ত হয়ে ৩১ অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত চাকরি করার পরে জাল ও ভূয়া সনদ দিয়ে চাকরি নেয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। মামলা দায়ের হওয়ার পর গত ৩০ ডিসেম্বর লিখিতভাবে এনটিআরসিএ সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম পুলিশকে জানিয়েছেন শিক্ষক সুরাইয়া ইসলাম জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক সুরাইয়া ইসলাম ভুয়া ও জাল সনদ দিয়ে চাকরি নিয়েছিল তদন্তে এটা প্রথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে সে কারণে আদালতে তাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     আরও সংবাদ :