October 22, 2021, 11:34 am

জীবন ঘনিষ্ঠ নিগূঢ় আলোচনা ও মুক্তির পথ

সদাচরণ ও সদ্ব্যবহার জীবনের জন্য কতটা অপরিহার্য এবং পুরস্কারঃ
রাশিদা-য়ে আশরার
(কবি ও লেখক) কবি ও সাহিত্য সম্পাদক দৈনিক পদ্মা সংবাদ।

পৃথিবী এমনি এমনি সৃষ্টি হয়ে যায়নি-সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির মাঝে অপরূপ রূপে তিনি সাজিয়েছেন তার মানব সন্তানকে; প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৌন্দর্য ও কাঠামো দিয়ে রক্ত মাংস অস্থিমজ্জায় সুনিপুণভাবে তৈরি করেছেন অবয়ব। বোঝার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দিয়েছেন বুদ্ধি বিবেক, হৃদয়াঙ্গম করার জন্য হৃদয় আত্মা মন আর মানুষ হিসাবে মানবতা- মনুষত্ব! কিন্তু আমরা কতটুকুই বা আমাদের এই পরিপূর্ণ রূপটিকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারছি লোভ-লালসা ও স্বার্থপরতার জনসমুদ্রে হারিয়ে?

সদাচরণ সদ্ব্যবহার মানুষের জীবনের জন্য কতটা অপরিহার্য?
এবং তার পুরস্কার সম্পর্কে আসুন আমরা বুখারী শরীফের একটি উদাহরণের মাধ্যমে জানি-
বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও ততটা সাধারণ নয়, নিম্নরূপ বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

হযরত আয়েশা ( রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন,
যে, হারিস ইবনে হিশাম (রঃ) রাসুলুল্লাহ (সঃ)- কে জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসুলল্লাহ (সঃ) কিরূপে ওহী আসে আপনার নিকট? রাসুলুল্লাহ (সঃ)
বলিলেন, ‘কখন কখন আসে ঘন্টার শব্দের মত এবং উহাই আমার পক্ষে সবচেয়ে কষ্টদায়ক। তারপর উহা হয় আমা হইতে কিন্তু ইতিমধ্যে আমি মনে করিয়া লই যাহা বলা হয়। আবার কখন কখন ফেরেশতা মানুষের রূপে আসিয়া কথা বলেন আমার সঙ্গে এবং আমি মনে করি তে থাকি যাহা তিনি বলেন।”
হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, “আমি দেখিয়াছি, খুব শীতের দিনেও তাঁহার নিকট ওহী আসিয়া বন্ধ হইয়াছে।
আর তাঁহার ললাট হইতে ঘাম বহিতেছে।
অপর হাদিসে হযরত আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত,
তিনি বলিলেন, প্রথমে রাসুলুল্লাহ( সঃ)-এর উপর ওহী আসিত তাহা ছিল নিদ্রায় শুভ স্বপ্ন; তিনি যে স্বপ্নই দেখিতেন উহা সুস্পষ্ট হইত ঊষার আলোর মত। তারপর নির্জনতা প্রিয় করা হইল তাহার নিকট তখন তিনি নির্জনেতে বসবাস করতে লাগিলেন। তিনি হেরা গুহায় ইবাদতের মগ্ন থাকতেন ওখানে থাকা অবস্থায় একদিন জিবরাইল ফেরেশতা তাহার নিকট আসিয়া বলিলেন, ‘পড়ুন’। ‘তিনি বলিলেন আমি তো পড়িতে জানি না।’ নবী (সাঃ) বলিয়াছেন,”তখন তিনি আমাকে এমনভাবে চাপিয়া ধরিল যে, আমার কষ্ট চরমে পৌঁছিল।”সহি বুখারী-২
“এভাবে তিন বার আমাকে বলতে বলিলেন ‘বল’এবং ফেরেশতা একইভাবে চাপিয়া ধরিয়া বলিলেন পড় তোমার প্রভুর নামে-আমি বলিলাম পড়িতে জানিনা” অতঃপর ফেরেশতা বলিলেন ‘পড়ুন’ । “আপনার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন।”সৃষ্টি করিয়াছেন মানুষকে ‘জমাট রক্ত হইতে এবং পড়ুন, আপনার প্রভু অতি মহান, দ্বীনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের সাহায্যে।”সহি বুখারি হাদিস-৩
রাসূল (সঃ) তারপর বাড়িতে ফিরে এলেন এমন অবস্থায় যে,তাহার হৃদপিণ্ড ধড়ফড় করিতেছিল।
তিনি খাদিজা (রাঃ) বলিলেন, “ঢাকিয়া দাও আমাকে, তোমরা ঢাকিয়া দাও আমাকে।”তখন তাঁহার (বাড়ির লোকেরা) ঢাকিয়া দিল তাঁহাকে এবং দুর হইল তাঁহার ভয়। তিনি তাঁর স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) কে বলিলেন, আমার প্রাণের ভয়ে হইতেছে।’ তখন খাদিজা (রাঃ) বলিলেন, “কখনো নয়; কসম আল্লাহর,”তিনি কখনো লাঞ্ছিত করবেন না আপনাকে।”আপনি তো রক্ষা করেন আত্মীয়তার বন্ধন, বহন করেন (অপরের) বোঝা; উপার্জনক্ষম করেন নিঃস্ব কে; আহার দেন অতিথিকে; সাহায্য করেন দৈব দুর্বিপাকে (অপর অর্থ সত্যাশ্রয়ীর দুর্দশায়)।

উপরোল্লেখিত এই ঘটনা এবং উদাহরণস্বরূপ আমরা জানতে পারি মানুষের প্রতি আমাদেরকে কতটা সদাচরণ ও সদ্ভাব মনোভাব পোষণ করতে হবে। আর এতেই সবচেয়ে বেশি পূর্ণতা এবং নেক কাজ অর্থাৎ নেক আমলের বা ভাল আমলে পরিপূর্ণ হবে আমাদের নিত্তীর পাল্লা বা ডায়েরি বা হিসাব নিকাশের খাতা। বিচার দিবসে যার ভালো কাজের হিসাব যত বেশি হবে তার আমলনামা দেয়া হবে ডান হাতে আর অন্যদের দেওয়া হবে বাম হাতে এভাবেই বহু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জান্নাত লাভ হবে। চোখ বন্ধ করে একটু অনুভব করুন!

যিনি আমাদের পালনকর্তা তিনি পৃথিবীতে আমাদের কে প্রেরণ করেছেন তাঁর নিশ্চয় একটি উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা আছে। এ পৃথিবীতে যা কিছুই তিনি পাঠিয়েছেন তার কোনো কিছুই নিছক অপ্রয়োজনীয় নয়। ‌তাই কিছু নিয়ম-নীতি মানুষের জন্য রয়েছে।মানুষ ইচ্ছা করলে যা কিছু করতে পারে না রয়েছে সুনিদৃষ্ট বিধি-বিধান, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ও হাদিস সমূহ। তিনি প্রেরণ করেছেন যুগে যুগে বিভিন্ন নবী ও রাসূল, পবিত্র কিতাব সমূহ। তার মধ্যে থেকে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব বা ধর্মগ্রন্থ পবিত্র আল-কুরআন, সর্বশেষ নবী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হলেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আর আর তাঁর উপরেই এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নাযিল করেন।

আমার ব্যক্তিগতভাবে একটি প্রশ্ন জাগে মনে মানুষ সবসময় শ্রেষ্ঠ জিনিসটি চাই তাহলে এক্ষেত্রে কেন নয়?
সৃষ্টিকর্তা আমাদের পালনকর্তা তিনি চাইলে এক দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করতে পারতেন অথচ তিনি ৭- দিনে সৃষ্টি
এই পৃথিবী ও ভূমন্ডল। তিনি চাইলে সভ্যতা একদিনে তৈরি করতে পারতেন অথচ বিবর্তনের ধারায় যুগে যুগে সৃষ্টি হয়েছে সভ্যতা! যিনি বলেন হও-বলতে দেরি, হতে দেরি নয় তিনিই অসীম শক্তিধর…এভাবেই ধ্বংস হবে পৃথিবীর যত সৃষ্টি মুহূর্তেই!

সৃষ্টিকর্তা এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য করেছেন তাঁর শ্রেষ্ঠ জীব একমাত্র মানুষদের জন্য। সুচারু ও সুপরিকল্পিত ভাবে প্রতিটি জিনিস,বস্তু খাদ্য খাবার প্রেরণ করেছেন। মানুষ যেমন সুন্দর তেমনি সুন্দর পৃথিবী আকাশ বাতাস গ্রহ-নক্ষত্র, ফুল পাখি নদী ও প্রকৃতি। এর মধ্যে অনেক কিছু আছে আমরা চোখে দেখতে পারিনা তবুও অনুভব করতে পারি, কত সুন্দর ও বৈচিত্র্যময়…কত সৌন্দর্যময় সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠত্বের অসীম দান! শুকরিয়া সৃষ্টিকর্তার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ:
BengaliEnglish