চুয়াডাঙ্গা ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে কালের সাক্ষী নীলকুঠি যেখানে চলতো অমানুষিক নির্যাতন

Padma Sangbad
৪২

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরের খালিশপুর গ্রামে কপোতাক্ষ নদের পাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইংরেজ শাসন আমলের অভিশপ্ত নিদর্শন নীলকুঠি। এ নদ দিয়েই নৌকায় মহেশপুরে আসতেন ইংরেজরা। আঠারো শতকের শুরুর দিকে কোটচাঁদপুর দুতিয়ারকাঠি কুঠির মালিক ব্রিজবেন মহেশপুরের খালিশপুরের কপোতাক্ষ নদের তীরে কুঠিটি স্থাপন করেন। দক্ষিণমুখী এ ভবনের দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট, প্রস্থ ৪০ ফুট ও উচ্চতা ৩০ ফুট। দক্ষিণ দিকে রয়েছে প্রশস্ত বারান্দা। ১২ কক্ষবিশিষ্ট দ্বিতল ভবন এটি। নিচ তলা থেকে দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলো আয়তনে বড়। চুন, সুরকি ও পাকা ইট দিয়ে তৈরি করা হয় ভবনটি। কুঠির নিচ তলায় ছিল নীল চাষের খাজনা আদায় ও নির্যাতন কক্ষ। দ্বিতীয় তলায় আদায়কারীরা রাতযাপন করতেন। বিশ্রাম ও গোসল করার জন্য নির্মিত পাকা সিঁড়ি কপোতাক্ষের তীর পর্যন্ত নামানো। এখানে ১৮১০-১৮৫৮ সাল পর্যন্ত নীলকররা নীল চাষ পরিচালনা করত। এলাকার কৃষকের মাধ্যমে নীল চাষ করে পাঠানো হতো ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। দিনের পর দিন অত্যাচারে মাত্রা বাড়াতে থাকে ইংরেজ নীলকরদের। যারা নীলচাষ করতেন না তাদের এ কুঠিতে এনে করা হতো নির্যাতন। কুঠির সামনে থাকা গাছে বেঁধে চলত অমানুষিক নির্যাতন। গ্রাম থেকে নারীদের ধরে এনে রাখা হতো কুঠির কক্ষগুলোয়।উপমহাদেশে নীল বিদ্রোহের সূচনা হওয়ার পর অন্যান্য নীলকুঠির মতো এ নীলকুঠিটিও রেখে চলে যান নীলকররা। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জমিদাররা এটি তাদের কাছারি হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময় তত্কালীন নীলকুঠির মালিক জমিদারও জায়গাটি ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত রয়েছে স্থানটি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে নথিভুক্ত করলেও অদ্যাবধি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। স্থানটি দর্শনীয় করতে দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।।

আপডেট : ০৮:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২

ঝিনাইদহে কালের সাক্ষী নীলকুঠি যেখানে চলতো অমানুষিক নির্যাতন

আপডেট : ০৮:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২
৪২

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরের খালিশপুর গ্রামে কপোতাক্ষ নদের পাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইংরেজ শাসন আমলের অভিশপ্ত নিদর্শন নীলকুঠি। এ নদ দিয়েই নৌকায় মহেশপুরে আসতেন ইংরেজরা। আঠারো শতকের শুরুর দিকে কোটচাঁদপুর দুতিয়ারকাঠি কুঠির মালিক ব্রিজবেন মহেশপুরের খালিশপুরের কপোতাক্ষ নদের তীরে কুঠিটি স্থাপন করেন। দক্ষিণমুখী এ ভবনের দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট, প্রস্থ ৪০ ফুট ও উচ্চতা ৩০ ফুট। দক্ষিণ দিকে রয়েছে প্রশস্ত বারান্দা। ১২ কক্ষবিশিষ্ট দ্বিতল ভবন এটি। নিচ তলা থেকে দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলো আয়তনে বড়। চুন, সুরকি ও পাকা ইট দিয়ে তৈরি করা হয় ভবনটি। কুঠির নিচ তলায় ছিল নীল চাষের খাজনা আদায় ও নির্যাতন কক্ষ। দ্বিতীয় তলায় আদায়কারীরা রাতযাপন করতেন। বিশ্রাম ও গোসল করার জন্য নির্মিত পাকা সিঁড়ি কপোতাক্ষের তীর পর্যন্ত নামানো। এখানে ১৮১০-১৮৫৮ সাল পর্যন্ত নীলকররা নীল চাষ পরিচালনা করত। এলাকার কৃষকের মাধ্যমে নীল চাষ করে পাঠানো হতো ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। দিনের পর দিন অত্যাচারে মাত্রা বাড়াতে থাকে ইংরেজ নীলকরদের। যারা নীলচাষ করতেন না তাদের এ কুঠিতে এনে করা হতো নির্যাতন। কুঠির সামনে থাকা গাছে বেঁধে চলত অমানুষিক নির্যাতন। গ্রাম থেকে নারীদের ধরে এনে রাখা হতো কুঠির কক্ষগুলোয়।উপমহাদেশে নীল বিদ্রোহের সূচনা হওয়ার পর অন্যান্য নীলকুঠির মতো এ নীলকুঠিটিও রেখে চলে যান নীলকররা। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জমিদাররা এটি তাদের কাছারি হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময় তত্কালীন নীলকুঠির মালিক জমিদারও জায়গাটি ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত রয়েছে স্থানটি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে নথিভুক্ত করলেও অদ্যাবধি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। স্থানটি দর্শনীয় করতে দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।।