চুয়াডাঙ্গা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকা রিচার্জে ২শ’ নম্বর এন্ট্রি দিতে হিমশিম খাচ্ছে জনগণ প্রি-পেমেন্ট মিটার দুর্ভোগে অর্ধলাখ গ্রাহক

Padma Sangbad
১১৭

যশোরের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার রিচার্জ করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। টাকা রিচার্জ করার সাথে সাথে তাদের প্রায় দুইশ’টি টোকেন নম্বর মিটারে এন্ট্রি দিতে হচ্ছে। যা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন অর্ধলাখ গ্রাহক। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার সমাধান দিতে পারছেন না। তারা বলছেন, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে গ্রাহকের অ্যাপস আপডেটের কারণে রিচার্জে প্রথমবার এ সমস্যা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের দুটি সার্কেলের আওতায় যশোরে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এরমধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১ এর আওতায় ৫২ হাজার দুইশ’ ও বিভাগ-২ এর আওতায় ৫৭ হাজার ৭৪৬ জন গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহকদের মাঝে ৪৬ হাজারের অধিক স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানো হয়েছে। ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে শহরজুড়ে গ্রাহকের বাড়িতে মিটার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে যশোরে ৪৬ হাজার মিটার বসানো হয়েছে। ২০২১ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এরপর দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় বাকি ৬৪ হাজার গ্রাহকের মাঝে এ স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হবে। এরআগে এ প্রকল্পের আওতায় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাও স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানো হয়েছে।

এদিকে, যশোরের গ্রাহকদের কাছে প্রি-পেমেন্ট মিটার এখন গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। মিটারে টাকা রিচার্জ করতে গিয়ে মানুষকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যেহেতু নতুন এ প্রযুক্তিতে মানুষকে টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হচ্ছে, সেহেতু তারা নতুন প্রযুক্তির এ মিটারে টাকা রিচার্জ করতে গিয়ে জানুয়ারি থেকে ব্যাপকভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মিটারে টাকা রিচার্জ করলেই তাদেরকে প্রায় দুইশ’টি টোকেন নম্বর এন্ট্রি দিতে হচ্ছে। তা না হলে মিটারে টাকা রিচার্জ হচ্ছে না বা বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হচ্ছে না। যা অত্যন্ত ঝামেলাপূর্ণ কাজ। এ কাজ করতে গিয়ে গ্রাহকরা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই মিটারে বিপুল সংখ্যক টোকেন নম্বর এন্ট্রি দিতেও পারছেন না। এ নিয়ে তারা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও কোন সমাধান পাচ্ছেন না।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছেন, অ্যাপস অটো আপডেটের কারণে সাময়িক এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ সমস্যা স্থায়ী নয়। দেশে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অস্থায়ী এ সমস্যা। গ্রাহককে প্রতিবার মূল্য বৃদ্ধির পর এ সমস্যার সম্মুখিন হতে হবে। এরপর আগের মতই মিটার পুরনো স্টাইলে রিচার্জ করা যাবে।
এ ব্যাপারে যশোর বিদ্যুৎ ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিম বলেন, দেশে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করায় অ্যাপসে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুতের পুরনো মূল্যে মিটারের অ্যাপস সেটিং করা রয়েছে। সেই হিসেবেই মিটার থেকে টাকা কাটা হয়। কিন্তু সরকার বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর পর অ্যাপসে নতুন মূল্য সেটিং করা হয়েছে। এ কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রাহককে মিটারে প্রথমবার রিচার্জ করলেই শতাধিক টোকেন নম্বর দেয়া হচ্ছে। এ নম্বরগুলো মিটারে এন্ট্রি দেয়া হলে গ্রাহকের আইডি অটো আপডেট হয়ে যাবে। এরপর তাকে রিচার্জে আর অতিরিক্ত নম্বর দিতে হবে না। আগের নিয়মেই তিনি মিটার রিচার্জ ও বিদ্যুতের সকল সেবা পাবেন।
তিনি বলেন, স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার নিয়ে গ্রাহকের উৎকণ্ঠার কারণ নেই। এ মিটার নিয়ে কারো কোন সমস্যা হলে সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করবেন। প্রয়োজনে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা বাড়ি গিয়ে তাদের সকল সমস্যার সমাধান করে দেবেন বলে তিনি জানান।।

আপডেট : ১২:০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

টাকা রিচার্জে ২শ’ নম্বর এন্ট্রি দিতে হিমশিম খাচ্ছে জনগণ প্রি-পেমেন্ট মিটার দুর্ভোগে অর্ধলাখ গ্রাহক

আপডেট : ১২:০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
১১৭

যশোরের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার রিচার্জ করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। টাকা রিচার্জ করার সাথে সাথে তাদের প্রায় দুইশ’টি টোকেন নম্বর মিটারে এন্ট্রি দিতে হচ্ছে। যা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন অর্ধলাখ গ্রাহক। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার সমাধান দিতে পারছেন না। তারা বলছেন, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে গ্রাহকের অ্যাপস আপডেটের কারণে রিচার্জে প্রথমবার এ সমস্যা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের দুটি সার্কেলের আওতায় যশোরে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এরমধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১ এর আওতায় ৫২ হাজার দুইশ’ ও বিভাগ-২ এর আওতায় ৫৭ হাজার ৭৪৬ জন গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহকদের মাঝে ৪৬ হাজারের অধিক স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানো হয়েছে। ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে শহরজুড়ে গ্রাহকের বাড়িতে মিটার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে যশোরে ৪৬ হাজার মিটার বসানো হয়েছে। ২০২১ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এরপর দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় বাকি ৬৪ হাজার গ্রাহকের মাঝে এ স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হবে। এরআগে এ প্রকল্পের আওতায় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাও স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানো হয়েছে।

এদিকে, যশোরের গ্রাহকদের কাছে প্রি-পেমেন্ট মিটার এখন গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। মিটারে টাকা রিচার্জ করতে গিয়ে মানুষকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যেহেতু নতুন এ প্রযুক্তিতে মানুষকে টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হচ্ছে, সেহেতু তারা নতুন প্রযুক্তির এ মিটারে টাকা রিচার্জ করতে গিয়ে জানুয়ারি থেকে ব্যাপকভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মিটারে টাকা রিচার্জ করলেই তাদেরকে প্রায় দুইশ’টি টোকেন নম্বর এন্ট্রি দিতে হচ্ছে। তা না হলে মিটারে টাকা রিচার্জ হচ্ছে না বা বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হচ্ছে না। যা অত্যন্ত ঝামেলাপূর্ণ কাজ। এ কাজ করতে গিয়ে গ্রাহকরা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই মিটারে বিপুল সংখ্যক টোকেন নম্বর এন্ট্রি দিতেও পারছেন না। এ নিয়ে তারা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও কোন সমাধান পাচ্ছেন না।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছেন, অ্যাপস অটো আপডেটের কারণে সাময়িক এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ সমস্যা স্থায়ী নয়। দেশে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অস্থায়ী এ সমস্যা। গ্রাহককে প্রতিবার মূল্য বৃদ্ধির পর এ সমস্যার সম্মুখিন হতে হবে। এরপর আগের মতই মিটার পুরনো স্টাইলে রিচার্জ করা যাবে।
এ ব্যাপারে যশোর বিদ্যুৎ ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিম বলেন, দেশে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করায় অ্যাপসে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুতের পুরনো মূল্যে মিটারের অ্যাপস সেটিং করা রয়েছে। সেই হিসেবেই মিটার থেকে টাকা কাটা হয়। কিন্তু সরকার বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর পর অ্যাপসে নতুন মূল্য সেটিং করা হয়েছে। এ কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রাহককে মিটারে প্রথমবার রিচার্জ করলেই শতাধিক টোকেন নম্বর দেয়া হচ্ছে। এ নম্বরগুলো মিটারে এন্ট্রি দেয়া হলে গ্রাহকের আইডি অটো আপডেট হয়ে যাবে। এরপর তাকে রিচার্জে আর অতিরিক্ত নম্বর দিতে হবে না। আগের নিয়মেই তিনি মিটার রিচার্জ ও বিদ্যুতের সকল সেবা পাবেন।
তিনি বলেন, স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার নিয়ে গ্রাহকের উৎকণ্ঠার কারণ নেই। এ মিটার নিয়ে কারো কোন সমস্যা হলে সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করবেন। প্রয়োজনে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা বাড়ি গিয়ে তাদের সকল সমস্যার সমাধান করে দেবেন বলে তিনি জানান।।