September 23, 2021, 8:37 pm

টানা ১৪ দিনের লকডাউনে কোনই সুফল আসেনি

🔴কমেনি মৃত্যুহার বেড়েছে সংক্রমণ
🔴এক সপ্তাহ বাড়তে পারে লকডাউন
🔴কমেনি মৃত্যুহার বেড়েছে সংক্রমণ
🔴হাসপাতালের ৯০ শতাংশ শয্যা রোগীতে ঠাসা

অনলাইন ডেস্ক।
কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন সময়ে জারি করা হয় লকডাউন। এসব বিধিনিষেধ কখনো লকডাউন, কঠোর লকডাউন, কার্যকর লকডাউন কিংবা কঠোর বিধিনিষেধ নামে আরোপ করা হয়। কোভিড-১৯ বিষয়ক কারিগরি জাতীয় পরামর্শক কমিটি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের পরামর্শক্রমে ঢাকঢোল পেটানো এসব লকডাউন সংক্রমণ ঠেকাতে খুব বেশি কাজে আসেনি। লকডাউন বাস্তবায়নে শুরু থেকেই ছিলো সমন্বয়হীনতা। দফায় দফায় হয়েছে সিদ্ধান্তের বদল। ফলে লকডাউনে কর্মহীন হয়েছে মানুষ, লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে সংক্রমণ ও মৃত্যু! গত পয়লা জুলাই থেকে জারিকৃত কঠোর লকডাউনের শিথিলতা আসে ১৫ জুলাই। আটদিন পর ২৩ জুলাই ফের জারি করা হয় কঠোর বিধিনিষেধ। ঈদেও আগে শহর থেকে সংক্রমিত ব্যক্তিরা গ্রামে গিয়ে ছড়িয়েছেন সংক্রমণ। এখন শহরের চেয়ে গ্রামে বেড়েছে শনাক্ত-মৃত্যু। গতকাল ২৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার অধিকাংশ গ্রামের রোগী। দেড় বছরের লম্বা সময়েও দূর হয়নি এসব সমন্বয়হীনতা।

গেলো ২৭ জুলাই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ৫ আগস্টের পর আরও বৃদ্ধি করা হবে। এ সময় গার্মেন্ট মালিকরা শিল্পপ্রতিষ্ঠান খোলার আবেদন করলেও সেটি নাকচ করা হয়। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, চলমান বিধিনিষেধ ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। ব্যবসায়ী ও অন্যরা আবেদন জানালেও (কারখানার কাজ চালানোর) আমরা তা গ্রহণ করিনি। তখন জানানো হয়, গার্মেন্ট খুললে অনেক মানুষ ঢাকায় চলে আসবে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। কিন্তু এসব সিদ্ধান্তের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ঘোষণা আসে পয়লা আগস্ট থেকে চালু হচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান। তবে ঈদে গ্রামে গিয়ে আটকেপড়া শ্রমিকরা কিভাবে কর্মস্থলে ফিরবেন সে বিষয়ে দেয়া হয়নি কোনো নির্দেশনা। ফলে উপেক্ষিত হয়েছে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক। দৃশ্যমান হয় ফের সমন্বয়হীনতা। অলিখিত চাপ ছিলো কর্মস্থলে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে হতে পারে ছাঁটাই। শ্রমিকরা নিজেদের চাকরি বাঁচাতে নানা ভোগান্তি আর স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে রাজধানীসহ বিভিন্ন নগরীতে ফেরে। যদিও পরে সমালোচনা এড়াতে মধ্যরাতে গণপরিবহন চালুর ঘোষণা আসে।

জনস্বাস্থ্যবিদদের ধারণা, একের পর এক এমন ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দৃশ্যমান হতে পারে। এ জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য, কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া রোধ করতে কঠোর লকডাউন কার্যকর করার বিকল্প নেই। এখন হাসপাতালে ৯০ শতাংশের বেশি বেডে রোগী ভর্তি। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গণসংক্রমণ ঘটলে পরিস্থিতি সামলানো আরও কঠিন হবে। কর্মস্থলে ফেরত শ্রমিকদের কোভিড-১৯ টেস্ট ও আইসোলেশন নিশ্চিত করারও দাবি উঠেছে। সেই সাথে আরও ১০ দিনের কঠোর লকডাউন বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিকে গত ২৩ জুলাই থেকে আরোপিত দুই সপ্তাহের লকডাউন শেষ হবে আগামী ৫ আগস্ট। অন্যদিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর কঠোর লকডাউন ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে করণীয় নির্ধারণে আবারো বৈঠকে বসছেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনলাইনে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, ওই সভায় বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ আলাপ আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণের বিষয় চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। বৈঠক থেকে কিছু শর্ত শিথিল করে আরেক দফা বিধিনিষিধ বাড়ানো হতে পারে। এর মেয়াদ হতে পারে আরও সাতদিন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ৫ আগস্টের পর আরও সাতদিনের জন্য লকডাউনের মেয়াদ বাড়লে সে ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অফিস সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হতে পারে। সীমিত পরিসরে চালু করা হতে পারে গণপরিবহন। রপ্তানিমুখী শিল্প-কলকারখানা তো চালু করা হয়েছে, সেটি চালু থাকবে।

সূত্র জানিয়েছে, আকজের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১২ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, ১৬ জন সচিব, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আইইডিসিআর পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেবেন। ইতোমধ্যেই সভায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তথ্যমতে, গত ১ জুলাই থেকে ১৪ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করতে শুরু করে সরকার। তবে, ঈদ উদযাপনের জন্য আটদিনের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। পরে গত ২৩ জুলাই থেকে আবারো দুই সপ্তাহের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ:
BengaliEnglish