October 22, 2021, 12:56 pm

মানবতার অবক্ষয় ও হিজড়া সম্প্রদায়!

রাশিদা- য়ে আশরার,কবি ও লেখক।
বিশেষ প্রতিনিধি দৈনিক পদ্মা সংবাদ।

হিজড়া সম্প্রদায় মানবাধিকার বঞ্চিত তৃতীয় লিঙ্গের একটি জনগোষ্ঠী। তারা নারীও নয় পুরুষও না তাই তারা সমাজে অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। তারা অন্ধকার জগতের বাসিন্দা হিসাবে মানবেতর জীবন যাপন করে- প্রতিকূল পরিবেশ ও সামাজিক অসুস্থ দৃষ্টিভঙ্গি, নিচ মানসিকতার কারণে তারা সব রকম সুযোগ-সুবিধা থেকে আজও বঞ্চিত হচ্ছে, অথচ তারা আমাদের সমাজেরই মানুষ। তারা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ তাই তারা মানুষ হয়ে ও অবহেলিত।

বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে কিছু হিজড়া সমাজকর্মী
পশ্চিমা বেসরকারি সংগঠন (এনজিও) হিজড়াদের নারী বা পুরুষ দ্বৈত সত্তার পরিচয় এর পরিবর্তে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে পরিচয়ের জন্য আন্তর্জাতিক লবিং শুরু করে এর ফলে ভারত,বাংলাদেশ আইনগতভাবে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। কিন্তু সরকারি ভাবে স্বীকৃত হলেও আইনিভাবে তাদের সুরক্ষিত করা হয়নি।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১১ হাজার হিজড়া রয়েছে। আবহমান কাল ধরে এই জনগোষ্ঠী অবহেলা- বঞ্চনা, বৈষম্যে, নির্যাতন- নিপীড়নের শিকার, যার কারণে পেটের তাগিদে ও স্বভাবগত কারণে তারা ও নানান অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, কখনো গালিগালাজ করে ছোট শিশুদের নিয়ে নাচ-গান করে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে, অসংলগ্ন ভাবে কথা বলে,চলাফেরা করে। কাজেই সাধারণ মানুষ তাদেরকে বাঁকা চোখে দেখে এমনকি তাদের সংস্পর্শ দূর থেকে দূরে থাকতে চায়।

এই জনগোষ্ঠীর, আর্থসামাজিক, শিক্ষাব্যবস্থা, বাসস্থান, স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্প্রতি করন অত্যন্ত প্রয়োজন।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন সরকার স্কুল অনুগামি হিজড়া সন্তানদের উপবৃত্তি প্রদান, বৃদ্ধ হিজড়াদের বৃদ্ধ ভাতা, ও অন্যান্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু হয়েছে বর্তমানে।

লিঙ্গ ভেদে তারতম্য ছাড়া সবকিছুই তাদের স্বাভাবিক, সমাজের মানুষের অবহেলা নির্যাতন ও পরিবার থেকে পরিত্যক্ত হয়ে তারা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠে ও অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। যদি সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শিশুকাল থেকে স্বাভাবিক শিশুর মত সমাজে সুশিক্ষা লাভ করে- বেড়ে ওঠে তাহলে তারাও সমাজে সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করতে সক্ষম। বড়ই পরিতাপের বিষয় নিজ পরিবারে ও তাদের ঠাই হয়না, পিতা মাতা ভাই বোন কেউ তাদের ভালো চোখে দেখে না সম্পত্তির ভাগ থেকেও তারা বঞ্চিত।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য সম্পত্তি আদায়ের ক্ষেত্রে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৬১-সালের আইন অনুসারে মুসলিম আইনে পুত্র সন্তান-কন্যা সন্তানের সম্পত্তি ভাগের নীতিমালা রয়েছে কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গের জন্য কোন নির্দেশনা নেই।

হিন্দু খৃষ্টান সব ধর্মেই সম্পত্তি থেকে তারা বঞ্চিত। ভারতেও একই অবস্থা, তবে পাকিস্তানের একটি প্রদেশ একটি নিয়ম চালু করেছে, যারা বেশিরভাগ পুরুষের মতো দেখতে বা স্বভাবের তারা পুত্র সন্তানের মতো ভাগ পাবে আর যারা কন্যা স্বভাবের তারা কন্যাদের নিয়ম অনুযায়ী সম্পত্তির ভাগ পাবে।

পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই সন্তানের জন্য প্রথম এবং প্রধান আশ্রয় পরিবার কিন্তু যদি সেখান থেকে বঞ্চিত হয় একটি শিশু তাহলে পৃথিবীর আর কোথাও তার নিরাপদ আশ্রয় আছে বলে মনে হয় না। পিতা-মাতা তারা জন্মদাতা, এই সাধারন ঘরেই হিজড়া, বিকলাঙ্গ, মানসিক রোগী বিভিন্ন রকম অসামঞ্জস্যপূর্ণ সন্তান এর জন্ম হয় কিন্তু তারা কোনদিনই সুবিচার পায় না। নিজের পিতা যদি বলেন তোমার তো ছেলেমেয়ে হবে না, সংসার নেই সম্পত্তি দিয়ে কি করবা? অথচ এ কথা একবারও ভেবে দেখেনা তাকে সুশিক্ষায় ও স্বশিক্ষায় শিক্ষিত করে বড় করে তুললে, সম্পত্তির অধিকার দিলে একটু আদর স্নেহ ভালোবাসা দিলে-
সেও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে, চাকরি অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে, অন্তত বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন অর্থাৎ মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে তাহলে আগাছা অরণ্য মত পথে-ঘাটে লাঞ্ছিত হয়ে অমানবিক জীবন থেকে রেহাই পায়, বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পায়। অথচ কি নির্মম মানুষের ভাবনা-চিন্তার জায়গা, সত্যিই বিচিত্র এ পৃথিবী আর বিচিত্র এই পৃথিবীর মানুষ, সমাজ ও সম্প্রদায়!

মানুষের মানবতা মনুষ্যত্ব ও বিবেকের ঘরে যখন জরা ব্যাধি-সততার ঘরে কপাট- নীতিহীনতার দরজায় তালা
তখন মানুষ নামের মিথ্যা আবরণে ঢাকা এই সমাজের কাছ থেকে একজন মানুষ কতটুকু নিরাপদ থাকতে পারে? সমাজের চোখে যে পর্দা পড়েছে স্বার্থপরতার সেই স্বার্থপরতার লেলিহান শিখায় পুড়ে ছারখার জীবন; আইন মানুষের জন্য- আইনের জন্য মানুষ নয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ:
BengaliEnglish