December 9, 2021, 1:40 am

মানবাধিকার কাউন্সিলের মহাসচিব – বাঁকুড়ার রাজমিস্ত্রি

 

বিবেক রায় : কলকাতা , ভারত।

 

 

পৈতৃক ভিটে ছেড়ে চলে এসে বাবুদের হাতে পায়ে ধরে পুকুর পাড়ে একটু আশ্রয় চেয়ে নিয়েছিলেন পিতা পার্বতী |
একটি ঝিটেবেড়া তালপাতার ছাওনি কুঁড়ে ঘরে বিশ্বজিতের জন্ম l
অবহেলার রোদ বৃষ্টি ঝড় মাথায় নিয়ে শৈশব থেকেই , রুটি-রুজির সন্ধানে কখনো রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে , কখনো মাঠেঘাটে , কখনো চায়ের দোকানে , আবার কখনো প্রেসে কাজ করতে করতে কোন রকমে মাধ্যমিক দ্বিতীয় স্থানে পাস করে পাকাপাকি রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে পেশায় নিজেকে যুক্ত করেন বাঁকুড়ার বিশ্বজিৎ |
ক্লাস এইট পাশ করে দূরের গ্রাম লেগো’তে বন্ধু’র সহযোগিতায় ভর্তি হয়ে পড়াশোনা জন্য বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন | কোথাও কাজ করতে করতে পড়াশোনাটা চালিয়ে যাবে এই ইচ্ছা, কিন্তু বাসে ভাড়া দিতে না পারায় বাস থেকে কন্ডাক্টর যখন নামিয়ে দিতে যায় তখন ঐ বাসের মহান ব্যক্তিত্ব মোহম্মদ নূরআলী মন্ডল তাকে বাস থেকে নামিয়ে তাঁর বাড়ি নিয়ে যান | সেখানে উনি স্কুলের সাথে যোগাযোগ করে- তার পড়াশোনার সুযোগ করে দেন |
কিন্তু বাবা মা’র কষ্ট দেখতে না পেরে আবার রাজমিস্ত্রির কাজে যোগদেন |
এভাবেই প্রচন্ড দারিদ্রের সাথে লড়াই করতে করতে পড়াশোনা , খেলাধুলা , এবং মার্ক্সবাদী ভাবনায় তৈরী করে রাজনৈতিক মতাদর্শে একজন কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন |
এর সাথে সাথে সাংস্কৃতিক চর্চা , সাহিত্য চর্চা , রাত্রে টিউশনি পড়ানো |
২০০৩ সালে একটি রাজমিস্ত্রির টিম তৈরী করেন |
সেই সূত্র ধরে একটি কোল্ডস্টোরেজের বিস্বস্ত হয়ে ওঠেন এবং ঐ স্টোরে কাজও পান | প্রথমে ক্লার্ক পরে ক্যাশিয়ার |
তখন নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী , সাহিত্য সংগঠক , সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিতও করে ফেলেছেন |
‘ঐকতান’ পত্রিকা সম্পাদনা , “ঐকতান সাংস্কৃতিক শিক্ষা সদন ” সাংস্কৃতিক সংগঠনের অধ্যক্ষের পদ সামলে বঙ্গীয় সঙ্গীত পরিষদের পরীক্ষক হয়ে ওঠেন | পরিচয় ঘটে পদ্মশ্রী দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় , কবি রানা চট্টোপাধ্যায় , উত্তর বসু থেকে শুরু করে প্রথম সারির কবি সাহিত্যিকদের সঙ্গে | স্নেহ ভালোবাসা পান প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের | তিনিই ভালোবেসে নাম দেন সংগ্রাম মিত্র |
তখন গ্রাম শহর ছাড়িয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় কবিতা লেখায় হাত পাকিয়ে নিয়েছেন | সফল আবৃত্তিকার হিসেবে নিজেকে চিহ্নিত করেছেন | তারপর অনেকটা পথ অতিক্রম করে চাকরি , রাজনীতি সব ত্যাগ করে কলকাতায় পাড়ি দেন | প্রথমে একটি প্রকাশনী সংস্থায় কাজ , পরে ধীরে ধীরে একজন প্রকাশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তোলেন | ‘মেঘমল্লার’ ওয়েলফেয়ার স্যোসাইটির সভাপতি , ‘মেহনতী’ সংঘের সম্পাদক , অজশ্র সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা |
অধিকার বঞ্চিত মানুষের সাথে দীর্ঘ দিন পথ চলতে চলতে গড়ে তুললেন- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিল ICHFR | এর আগে কয়েক সরকারি বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনের হয়ে কাজ করে নিজেকে তৈরী করে নিয়ে –
2016 সালের আজকের দিনে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিল ICHFR |
সংগঠন গড়ে তোলার ভাবনা তাঁরই মস্তিস্কপ্রসূত | সাথে পান নৃত্য শিল্পী সুচেতা লাহিড়ী, চিত্র পরিচালক অরিন্দম গোস্বামী সহ ৭ জনকে | তাঁদের নিয়ে সংগঠনের পথ চলা শুরু করেন |
অধিকার বঞ্চিত কয়েক হাজার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কখনো বাড়ি হারা বৃদ্ধা মায়ের পাশে , কখনো অসহায় রুগীর পাশে , কখনো নির্যাতিতা মহিলাদের জন্য কাজ করতে করতে সারা পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে যায় সংগঠনের নাম |
প্রথম ইন্ডিয়া পার্টের সূচনা হয় কলকাতার মৌলালি যুবকেন্দ্রে 2016 সালের ২৩ সে ডিসেম্বর | এবং প্রথম জেলা কমিটি গঠন হয় তাঁরই জেলা বাঁকুড়ায় 2017 সালের জানুয়ারি মাসে | এভাবে সারা রাজ্য ও দেশ ছাড়িয়ে ভারত , বাংলাদেশ সহ ১৪ টি দেশের মানুষ প্রতিনিধিত্ব করছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিল ICHFR অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর হিউম্যান এন্ড ফান্ডামেন্টাল রাইটস সংস্থায় |
ঐ সংগঠনের আজ ষষ্ঠ তম প্রতিষ্ঠা দিবস |
এই ছয়টি বছরে ছিনিয়ে নিয়েছেন অজশ্র স্বীকৃতি ,শ্রেষ্ঠ মানবাধিকার সম্মান (দিল্লি )-২০১৭
শ্রেষ্ঠ সংগঠক পদক সম্মান – ২০১৯ , ( ঢাকা ) বিবেকজ্যোতি সম্মান – ২০১৯ (আসাম ) l থেকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুরস্কার, সম্মান স্বীকৃতিতে ICHFR ঘর ভরিয়ে তুলেছেন মহাসচিব সংগ্রাম মিত্র |
কত মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন সংগঠনের হয়ে | সংগঠনকে ব্যবহার করে অনেকে সুযোগের অপব্যবহার করেছেন | আবার বিরোধিতাও করেছে কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ | কারো প্রতি তাঁর ক্ষোভ অভিমান নেই ۔۔| শুধু মানুষের জন্য কাজ করতে চান প্রচার নয় শুধুই কাজ |
সারা বিশ্বে পৌঁছতে চান মৌলিক ও মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলন নিয়ে আজ ষষ্টতম প্রতিষ্ঠা দিবসে এই বার্তা দেন সংগ্রাম মিত্র | সারা বিশ্বে যত মানবাধিকার কর্মী আছেন তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আহ্বান জানান এগিয়ে আসার | কোন তাঁবেদারি নয় – আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসকে সরকারি ছুটি ঘোষণা , মানবাধিকার কর্মীদের ভাতা , প্রতিটি কলেজে মানবাধিকার শিক্ষা , ইত্যাদি সহ ১২ দফা দাবির স্বপক্ষে সকলকে হাতে হাত মিলিয়ে জোরালো আওয়াজ তোলার ডাক দেন বাঁকুড়ার রাজমিস্ত্রি তথা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিলের মহাসচিব সংগ্রাম মিত্র l

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ:
BengaliEnglish