June 22, 2021, 9:33 am

রামগতিতে সুপারির বাম্পার ফলন

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
রামগতি উপজেলায় এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। সুপারির মোকামগুলোতে খুচরা পাইকারি কেনা-বেচায় ব্যস্ত চাষি ও পাইকাররা। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি উৎপাদনে উপযোগি। এ জনপদের এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে সুপারির গাছ নেই। বাজার দর ভালো থাকায় সুপারি চাষে আগ্রহ বাড়ছে এখানকার মানুষের। তবে নদী ভাঙার কারণে দিন দিন সুপারির চাষও কমে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য বেশ উপযোগি। সুপারি বাগান করার মধ্য দিয়ে এ উপজেলার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার এ উপজেলায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কাঁচা-পাকা সুপারির দাম কিছুটা বেশি। এতে ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। পরে এ ফুল থেকে সৃষ্ট সুপারি পুরোপুরি পাকে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে। মূলত কার্তিক মাস আর অগ্রহায়ণ মাসেই সুপারির ভরা মৌসুম। তবে এবার সময়ের আগেই বাজারে এসেছে সুপারি। এবার আশ্বিন মাসের শেষের দিকে বাজারে আসতে শুরু করে সুপারি। এখন উপজেলার প্রতিটি বাজারেই প্রচুর পরিমাণে সুপারি আসছে। এখানকার সুপারির প্রায় ৭০ শতাংশ নদীনালা, খালডোবা, পুকুর ও পানিভর্তি চৌবাচ্চায় ভিজিয়ে রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আর ৩০ শতাংশ সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ছাড়াও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। উপজেলার আলেকজান্ডার, রামদয়াল বাজার, বিবিরহাট, রামগতি বাজার, আযাদনগর, হাজিগঞ্জ, বান্দেরহাট, জমিদারহাট, চরসেকান্তর ও আশ্রমসহ উপজেলার প্রতিটি বাজারে সুপারিকে ঘিরে চলছে জমজমাট ব্যবসা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা নিজেদের চাহিদা মতো সুপারি স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন। এ বছর প্রতি পান সুপারি (৮০টি) মানভেদে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, প্রতি কাউন (১২৮০টি) ২৫শ’ টাকা থেকে দুই হাজার ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে এবার বাজারে সুপারির দাম অন্যন্য বছরের তুলনায় বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, নদী ভাঙার কারণে এ বছর সুপারির আবাদ অনেক কম হয়েছে। রামগতিতে ছোট বড় মিলিয়ে বর্তমানে ৪৮ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। আর এসব বাগানে এ বছর উৎপাদিত হয়েছে ১২০ মেট্রিকটন সুপারি। এ মৌসুমে উৎপাদিত সুপারির বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ:
BengaliEnglish