চুয়াডাঙ্গা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শার্শায় পাটের ফলন ও দাম দুটোই ভালো, হাসি ফুটেছে চাষির মুখে

Padma Sangbad
১৫৩

শার্শা প্রতিনিধি।।
‘সোনালি আঁশ’ পাটের বাম্পার ফলন আর বাজারে ভালো দাম—দুইয়ে মিলে স্বস্তিতে রয়েছেন যশোরের শার্শা উপজেলার পাটচাষিরা। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণে প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সন্তোষ। এর সঙ্গে অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত পাট জাগ দেওয়ার কাজও সহজ করেছে।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, গত বছর মৌসুমের শুরুতে নতুন পাট ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছিল। এবার মৌসুমের শুরুতেই পাট বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে। বর্তমানে বাজারে সেই দাম বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর দোআঁশ মাটির কারণে এবার শার্শায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে। এক বছরের ব্যবধানে পাটের আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর।

কৃষকদের জন্য এবার আরেকটি বড় স্বস্তির কারণ ছিল পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। গত বছর বৃষ্টির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তিতে পড়তে হলেও চলতি মৌসুমে সেই সংকট তেমন দেখা যায়নি।

তবে ফলন ও দাম ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তাও রয়েছে কৃষকদের। বিশেষ করে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। গত বছর যেখানে শ্রমিকপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে, এবার তার চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে প্রতি মণে উৎপাদন খরচ প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

উপজেলার কোটা গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, “এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো পাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে।”

বাগআঁচড়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী শিরাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় হাট থেকে পাট কিনে তারা ফরিদপুর, খুলনা, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করেন। বর্তমানে পাটের বাজারদর ভালো থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষের মধ্যেই আগ্রহ বেড়েছে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদরের কারণে এবার পাট চাষ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন। সরকারের প্রণোদনা, বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শও পাট চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। আগামীতে উপজেলায় পাট চাষ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।।

আপডেট : ০১:৫৮:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শার্শায় পাটের ফলন ও দাম দুটোই ভালো, হাসি ফুটেছে চাষির মুখে

আপডেট : ০১:৫৮:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫৩

শার্শা প্রতিনিধি।।
‘সোনালি আঁশ’ পাটের বাম্পার ফলন আর বাজারে ভালো দাম—দুইয়ে মিলে স্বস্তিতে রয়েছেন যশোরের শার্শা উপজেলার পাটচাষিরা। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণে প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সন্তোষ। এর সঙ্গে অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত পাট জাগ দেওয়ার কাজও সহজ করেছে।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, গত বছর মৌসুমের শুরুতে নতুন পাট ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছিল। এবার মৌসুমের শুরুতেই পাট বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে। বর্তমানে বাজারে সেই দাম বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর দোআঁশ মাটির কারণে এবার শার্শায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে। এক বছরের ব্যবধানে পাটের আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর।

কৃষকদের জন্য এবার আরেকটি বড় স্বস্তির কারণ ছিল পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। গত বছর বৃষ্টির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তিতে পড়তে হলেও চলতি মৌসুমে সেই সংকট তেমন দেখা যায়নি।

তবে ফলন ও দাম ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তাও রয়েছে কৃষকদের। বিশেষ করে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। গত বছর যেখানে শ্রমিকপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে, এবার তার চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে প্রতি মণে উৎপাদন খরচ প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

উপজেলার কোটা গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, “এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো পাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে।”

বাগআঁচড়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী শিরাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় হাট থেকে পাট কিনে তারা ফরিদপুর, খুলনা, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করেন। বর্তমানে পাটের বাজারদর ভালো থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষের মধ্যেই আগ্রহ বেড়েছে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদরের কারণে এবার পাট চাষ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন। সরকারের প্রণোদনা, বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শও পাট চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। আগামীতে উপজেলায় পাট চাষ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।।