September 22, 2021, 1:59 am

সঙ্কটের ৩ বছর : নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে আইএসসিজি

অনলাইন ডেস্ক ।
মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। এই তিন বছর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের টিকে থাকার সংগ্রাম, সক্ষমতা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদারতার প্রতি সম্মান জানিয়ে দিনটিকে স্মরণ করেছে ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) অংশীদাররা, জাতিসংঘের সংস্থা ও এনজিওসমূহ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আইএসসিজি এক্সটার্নাল রিলেশনস ইউনিট এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশের যে গ্রামগুলোতে শরণার্থীরা প্রথম এসেছিল সেই গ্রামগুলোর বাসিন্দারাই ‘প্রথম সাড়াদানকারী’। সেই সময় তারা তাদের খাবার ভাগ করে নিয়েছিলেন, আশ্রয় দেয়ার জন্য ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং আতঙ্কিত মানুষদের মানবতা দেখিয়েছিলেন।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের ফলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। কক্সবাজারে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ আট লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। শরণার্থীদের আগমনের ফলে আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে স্থানীয় জনগোষ্ঠী।
এদিকে শরণার্থীদের জীবন রক্ষায় জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ এবং ১৩০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। গত তিন বছরে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও শরণার্থী ক্যাম্পের আশেপাশে বন উজাড় এবং অন্যান্য পরিবেশ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার পাশাপাশি করোনাভাইরাস রোধে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে করোনা মহামারির মতো ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। করোনা পরিস্থিতি ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান বেশ আশঙ্কাজনক করে তুলেছে।

মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সকল অর্জনের মূলে রয়েছেন রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী-পুরুষ ও ছেলেমেয়ে। করোনাভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে আনতে ক্যাম্পগুলোতে কর্মরত মানবিক সহায়তা প্রদানকারী কর্মীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায়, শরণার্থীদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তারা করোনা চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে সহায়তা করছেন, যার মাধ্যমে উভয় জনগোষ্ঠী সেবা পাচ্ছেন। তারা কমিউনিটিভিত্তিক জরিপ ও করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসন্ধানে সহযোগিতা করছেন। ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, যারা করোনা পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষায় করণীয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করছেন। এই স্বেচ্ছাসেবকরা ক্যাম্পগুলোতে দুর্যোগকালীন জরুরি প্রস্তুতি, পানি ও স্যানিটেশন, সাইট উন্নয়ন সংক্রান্ত কর্যক্রম, স্বাস্থ্য ও সচেতনতা বিষয়ক বার্তাগুলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের তৃতীয় বছরে স্থানীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি যাদের উদারতায় শরণার্থীদের গ্রহণ করা হয়েছিল, তাদের পাশাপাশি শরণার্থীদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আইএসসিজির অংশীদাররা গুরুত্ব দিচ্ছে। রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের জন্য প্রণীত ২০২০ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) প্রয়োজনীয় তহবিলের আবেদন করা হয়।

করোনা মহামারির ফলে সৃষ্ট নতুন জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে আমলে নিয়ে ২০২০ সালের সংযোজিত জেআরপিতে মোট ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি আবেদন করা হয়। চলতি বছরে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক আবেদনগুলোর মধ্যে এটি একটি। এখন পর্যন্ত মোট আবেদনের মাত্র ৪৪ শতাংশ প্রাপ্তির অঙ্গীকার পাওয়া গেছে, যা প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোকে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর জন্য উদার, সহনীয় ও টেকসই সহায়তা প্রদানে অঙ্গীকার এবং সংহতি অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে জেআরপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ:
BengaliEnglish