চুয়াডাঙ্গা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেকদের ইতিবাচক মন্তব্যে স্বস্তিতে ইসি

Padma Sangbad
২৮

গাইবান্ধা-৫ উপ-নির্বাচন বন্ধ প্রশ্নে সাবেক কমিশনারদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মন্তব্য পেয়ে স্বস্তিতে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, গাইবান্ধায় আমরা যে অ্যাকশনটা নিয়েছি, ওনারা বলেছেন—এটা সঠিক হয়েছে। আইনগতভাবে ও সাংবিধানিকভাবে ঠিক হয়েছে। ওনারা আমাদের মুরব্বিজন, গুরুজন হিসেবে পরামর্শ দিয়েছেন—সততার সাথে, সাহসিকতার সাথে আমাদের এগিয়ে যেতে।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে সাবেকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিইসি হাবিবুল আউয়াল এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, আজ আমাদের পক্ষ থেকে আমরা কোনো বক্তব্যই দিইনি; তাদের শুনেছি। সার্বিক বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা তাদের ডেকেছিলাম, এটা সত্য গাইবান্ধাতে যে একটা ঘটনা ঘটে গেলো, আমাদের প্রয়োজন ছিলো আরো এনলাইটেন্ড হওয়া; ওনাদের তরফ থেকে কোনো গাইডেন্স আছে কিনা, কীভাবে মূল্যায়ন করেছেন অতটুকু জেনেছি।

তিনি বলেন, এটা ক্রিটিক্যাল ছিলো। প্রথমবারের মতো বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশন নিয়েছে এবং এটা যথেষ্ট সেনসেশন ক্রিয়েট করেছে সর্বমহলে। এটা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য হয়েছে।

ভোট বন্ধ করার পর সাবেকদের কাছ থেকে নতুন করে মূল্যায়ন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, মূল্যায়নের খুবই প্রয়োজন রয়েছে। যে কোনো বিষয়ে বিচারক হিসেবে আমরা সহকর্মীদের জিজ্ঞেস করি—বিষয়টা ঠিক হয়েছে কিনা। আমরা শুদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছি কি নেইনি—আমাদের অভিমতে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারপরেও এটা সঠিক নাও হতে পারে। কোর্টে গিয়ে কেউ চ্যালেঞ্জ করেন; ওনারা যদি বলতেন সঠিক সিদ্ধান্ত নেননি তখন আমাদের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন হতো।

সিইসি বলেন, ওনারা সকলেই একমত পোষণ করেন, আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে, বলেছেন এগিয়ে যান। আমরা বলতে চাই—আমরা ওনাদের কাছে যে গাইডেন্স, পরামর্শ পেয়েছি, বক্তব্য শুনেছি আমাদের এডুকেটেড করেছে, ইন্সপায়ার করেছে।

গাইবান্ধায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ইসির উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে—সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের এমন মন্তব্যের বিষয়ে সিইসি বলেন, অপেক্ষা করেন। আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। রিপোর্টটা আসুক। তারপরে আপনারা দেখেন আমরা কোনো পদক্ষেপ নিই কিনা। ওয়েট অ্যান্ড সি। কাজেই একটু অপেক্ষা করতে হবে।

সাবেক এই আইন সচিব বলেন, ইভিএম নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে কথা হয়েছে। অধিকাংশই পক্ষে বলেছেন। এটা নিয়ে জনমনে একটা নেগেটিভ পারসেপশন রয়েছে। এই পারসেপশন দূর করতে হবে।

বুধবার বেলা ১১টা থেকে তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সাবেক সিইসি আব্দুর রউফ, কে এম নূরুল হুদা, কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, মো. শাহনেওয়াজ; সাবেক ইসি সচিব ড. মোহাম্মাদ সাদিক, মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ, সিরাজুল ইসলাম, হেলাল উদ্দীন আহমেদ, এমএম রেজা এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী ও মোখলেছুর রহমান অংশ নেন।

বৈঠকে আসার জন্য মোট ২৮ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত ছিলেন ১৪ জন। এদের মধ্যে বিচারপতি আব্দুর রউফের অধীনে মাগুরা উপনির্বাচন, কাজী রকিবের অধীনে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও কে এম নূরুল হুদার অধীনে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে সাবেক সিইসিদের মধ্যে এ টি এম শামসুল হুদা ও আবু হেনা যুক্তরাষ্ট্রে আছেন আর ‘বিতর্কিত’ এম এ আজিজ আমন্ত্রণ পাননি।

বর্তমান কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল, নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা, আনিছুর রহমান, মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। আর নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান সাউথ আফ্রিকা সফরে আছেন।

আপডেট : ১২:৫১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২

সাবেকদের ইতিবাচক মন্তব্যে স্বস্তিতে ইসি

আপডেট : ১২:৫১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২
২৮

গাইবান্ধা-৫ উপ-নির্বাচন বন্ধ প্রশ্নে সাবেক কমিশনারদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মন্তব্য পেয়ে স্বস্তিতে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, গাইবান্ধায় আমরা যে অ্যাকশনটা নিয়েছি, ওনারা বলেছেন—এটা সঠিক হয়েছে। আইনগতভাবে ও সাংবিধানিকভাবে ঠিক হয়েছে। ওনারা আমাদের মুরব্বিজন, গুরুজন হিসেবে পরামর্শ দিয়েছেন—সততার সাথে, সাহসিকতার সাথে আমাদের এগিয়ে যেতে।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে সাবেকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিইসি হাবিবুল আউয়াল এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, আজ আমাদের পক্ষ থেকে আমরা কোনো বক্তব্যই দিইনি; তাদের শুনেছি। সার্বিক বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা তাদের ডেকেছিলাম, এটা সত্য গাইবান্ধাতে যে একটা ঘটনা ঘটে গেলো, আমাদের প্রয়োজন ছিলো আরো এনলাইটেন্ড হওয়া; ওনাদের তরফ থেকে কোনো গাইডেন্স আছে কিনা, কীভাবে মূল্যায়ন করেছেন অতটুকু জেনেছি।

তিনি বলেন, এটা ক্রিটিক্যাল ছিলো। প্রথমবারের মতো বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশন নিয়েছে এবং এটা যথেষ্ট সেনসেশন ক্রিয়েট করেছে সর্বমহলে। এটা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য হয়েছে।

ভোট বন্ধ করার পর সাবেকদের কাছ থেকে নতুন করে মূল্যায়ন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, মূল্যায়নের খুবই প্রয়োজন রয়েছে। যে কোনো বিষয়ে বিচারক হিসেবে আমরা সহকর্মীদের জিজ্ঞেস করি—বিষয়টা ঠিক হয়েছে কিনা। আমরা শুদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছি কি নেইনি—আমাদের অভিমতে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারপরেও এটা সঠিক নাও হতে পারে। কোর্টে গিয়ে কেউ চ্যালেঞ্জ করেন; ওনারা যদি বলতেন সঠিক সিদ্ধান্ত নেননি তখন আমাদের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন হতো।

সিইসি বলেন, ওনারা সকলেই একমত পোষণ করেন, আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে, বলেছেন এগিয়ে যান। আমরা বলতে চাই—আমরা ওনাদের কাছে যে গাইডেন্স, পরামর্শ পেয়েছি, বক্তব্য শুনেছি আমাদের এডুকেটেড করেছে, ইন্সপায়ার করেছে।

গাইবান্ধায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ইসির উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে—সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের এমন মন্তব্যের বিষয়ে সিইসি বলেন, অপেক্ষা করেন। আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। রিপোর্টটা আসুক। তারপরে আপনারা দেখেন আমরা কোনো পদক্ষেপ নিই কিনা। ওয়েট অ্যান্ড সি। কাজেই একটু অপেক্ষা করতে হবে।

সাবেক এই আইন সচিব বলেন, ইভিএম নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে কথা হয়েছে। অধিকাংশই পক্ষে বলেছেন। এটা নিয়ে জনমনে একটা নেগেটিভ পারসেপশন রয়েছে। এই পারসেপশন দূর করতে হবে।

বুধবার বেলা ১১টা থেকে তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সাবেক সিইসি আব্দুর রউফ, কে এম নূরুল হুদা, কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, মো. শাহনেওয়াজ; সাবেক ইসি সচিব ড. মোহাম্মাদ সাদিক, মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ, সিরাজুল ইসলাম, হেলাল উদ্দীন আহমেদ, এমএম রেজা এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী ও মোখলেছুর রহমান অংশ নেন।

বৈঠকে আসার জন্য মোট ২৮ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত ছিলেন ১৪ জন। এদের মধ্যে বিচারপতি আব্দুর রউফের অধীনে মাগুরা উপনির্বাচন, কাজী রকিবের অধীনে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও কে এম নূরুল হুদার অধীনে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে সাবেক সিইসিদের মধ্যে এ টি এম শামসুল হুদা ও আবু হেনা যুক্তরাষ্ট্রে আছেন আর ‘বিতর্কিত’ এম এ আজিজ আমন্ত্রণ পাননি।

বর্তমান কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল, নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা, আনিছুর রহমান, মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। আর নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান সাউথ আফ্রিকা সফরে আছেন।