September 21, 2021, 7:58 am

স্বামীর রক্ত যোগাড়ের কথা বলে ধর্ষণ: ২ জন রিমান্ডে

দৈনিকপদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন রোগীকে রক্ত যোগাড় করে দেওয়ার নাম করে তার স্ত্রীকে মিরপুরে নিয়ে ‘ধর্ষণের’ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী রোববার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
দুই আসামি মনোয়ার হোসেন ওরফে সজল (৪৩) এবং মশনু আরা বেগম ওরফে শিল্পীকে (৪০) এদিন আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই স্বপন কুমার শীল
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়।
আদালত প্রত্যেক আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান জানান।
রক্তশূন্যতাসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে আসা এক ব্যক্তি গত ১৫ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন। তার সাথে ছিলেন তার স্ত্রী। চিকিৎসার জন্য এবারই প্রথম তারা ঢাকায় এসেছেন।
ডাক্তারের পরামর্শে ওই দিনই স্বামীর জন্য রক্ত যোগাড় করতে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ব্লাড ব্যাংকে যান ওই নারী। ব্লাড ব্যাংকের সামনে ৩-৪ জনকে দেখে রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানালে তাদের একজ রক্ত যোগাড় করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
রক্ত যোগাড় করে দেওয়ার নাম করে পরদিন ওই নারীকে মিরপুরের মধ্যমনিপুর পাড়ায় মাশনুআরা বেগম শিল্পীর বাসায় নিয়ে সজল ‘ধর্ষণ করেন’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
র্যাব-২ এর সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদ আহসান জানান, ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে ওই নারীকে ‘হত্যার হুমকি’ দিয়েছিলেন সজল। সে কারণে তিনি হাসপাতালে ফিরে চুপ করে ছিলেন।
“গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সজল আবার ওই নারীর মোবাইলে ফোন করলে তার স্বামী ধরেন। তখন রক্ত যোগাড় হয়েছে বলে সজল তাকে জানায়। ফোন পেয়ে ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে রক্ত আনার জন্য বললে তিনি পুরো ঘটনা স্বামীর কাছে খুলে বলেন।”
এরপর ওই নারী এবং তার স্বামী পুরো ঘটনা লিখিতভাবে জানালে র্যাব তদন্ত করে সত্যতা পায় এবং শুক্রবার রাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদ।
তিনি জানান, সজল বেকার, শেযারবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় তাদের নিজেদের বাড়ি আছে। তার মা গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
মায়ের কারণে সজলকে হাসপাতালে থাকতে হয় জানিয়ে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, “গ্রেপ্তার মশনুআরা বেগম ওরফে শিল্পী তালাকপ্রাপ্তা। একাই মিরপুরের মধ্য মনিপুরের বাসায় থাকেন। টাকার বিনিময়ে সেখানে ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ:
BengaliEnglish