
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী শনিবার (৭ জুন) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। জামাতে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি। এ জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক।
যেহেতু বর্ষাকাল চলছে, তাই বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। যদি আবহাওয়া প্রতিকূল হয়, তবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএসসিসির প্রশাসক শাহজাহান মিয়া।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকালে জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনের পর তিনি প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনের সময় শাহজাহান মিয়া জানান, “ঈদগাহে সামিয়ানার ওপর ত্রিপাল দিয়ে ঢাকা, চমৎকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, এবং জমে থাকা পানির শঙ্কা নেই। মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারবেন।”
বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করে থাকেন। তাই নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন...
❒ আরাফার ময়দানে আকাশ-বাতাস মুখর "লাব্বাইক" ধ্বনিতে
❒ চন্দনাইশসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬০ গ্রামে শুক্রবার উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা
যারা ঈদের নামাজে আসবেন, তাদের উদ্দেশে শাহজাহান মিয়া বলেন, যারা জামাতে আসবেন, তাদের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ থাকবে, এমন কোনো ডিভাইস বা এমন কোনো যন্ত্রপাতি আনবেন না যেটা নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হতে পারে। প্রয়োজনে আপনাদের জায়নামাজও আনার দরকার নাই, পানির বোতলও আনার দরকার নাই।
জাতীয় ঈদগাহে সাধারণের প্রবেশের জন্য চারটি গেইট রাখা হয়েছে। নারীদের নামাজের জন্য আছে আলাদা ব্যবস্থা। তাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা গেইট করা হয়েছে।
ভিভিআইপি প্রবেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ দিয়ে একটি গেইট করা হয়েছে। ভিভিআইপির নিরাপত্তার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাতীয় ঈদগাহে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন।
জাতীয় ঈদগাহে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাবের আলাদা আলাদা কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া থাকবে ফায়ার ব্রিগেডের একটি টিম।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত উপলক্ষে পুলিশ, র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর রয়েছে। আমরা আশা করছি যে, এখানে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না।
সার্বিক প্রস্তুতির তথ্য তুলে ধরে শাহজাহান মিয়া বলেন, এই ঈদগাহে যাতে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, সেরকম প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। ভিভিআইপি গ্যালারিতে ২৫০ জনের মত নামাজ আদায় করতে পারবেন।
ঈদ উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহের প্রধান ফটকের সামনে নান্দনিকভাবে তোরণ সাজানো হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে ‘আত্মত্যাগ, আত্মোন্নয়ন ও সহানুভূতির মহিমায় উদ্ভাসিত হোক এবারের ঈদুল আযহা। ঈদ মোবারক’।
ঈদগাহ প্রাঙ্গণে রয়েছে অজুর ব্যবস্থা। আলাদাভাবে খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঈদগাহের মাঠ প্রায় পুরোটাই ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। প্যান্ডেলের নিচে মাঠে ম্যাট বিছানো হবে। এছাড়া ফ্যান, লাইট ও মাইকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ওপ্রকাশক: মো: আব্দুর রহমান। +88 01954-105871
বার্তা-সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম হোসেন। +8801888105799
E-mail : padmanews1@gmail.com