চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা।।
চুয়াডাঙ্গায় আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা তাদের আটক করে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আটক দু’জন হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার সোনাপুর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে আবু সালেহ মাহমুদ ওরফে সাগর আহমেদ এবং চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের মৃত ফইজুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মুকবুল হোসেন।
অভিযোগ উঠেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, বিভিন্ন মামলার রায় পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস এবং আইনি সহায়তার কথা বলে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেন। এভাবে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর একাধিক ভুক্তভোগী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় উপস্থিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের চান আলীর ছেলে জুমাত আলীর কাছ থেকে একটি ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায় পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন সাগর আহমেদ। পরে বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির নজরে এলে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধন বা বৈধ সনদের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এদিকে আরও একাধিক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। দামুড়হুদার কলাবাড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, জমিজমা-সংক্রান্ত একটি ফৌজদারি মামলার কথা বলে তার কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, নানা ধরনের আইনি কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও কোনো কাজই করে দেওয়া হয়নি। এ অভিযোগ জানতে পেরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, আটক ওই উকিলের সহকারির মাধ্যমে আমি জমিজমার মামলা তার কাছে দিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিল সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিলে মামলা হেয়ারিং করে ঠিক করে দিব। পরে উকিলের কোনো খোঁজ খবর পাইনি। আজ পুলিশে ধরার পর এই ভুয়া উকিলের খোঁজ পেলাম। আরেক ভুক্তভোগি বিপ্লব হোসেন বলেন, আমার একটা মামলা ছিল ঢাকার হাইকোর্টে। ভুয়া উকিল সাগর আহমেদের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। বলেছিল মামলার রায় বের করে দিবে। কিন্তু পরে শুনছি ভুয়া উকিল।
জুমাত আলী বলেন, এই ভুয়া উকিলের সহকারির নাকি একটা মামলা ছিল। তারপর ওই সহকারি এসে বললো আমার এই উকিল ভালো। তারপর আমি তিন ধাপে ৮ লাখ টাকা দিলাম ভুয়া উকিলের কাছে। যাতে আমার ১৮ বিঘা জমি ফেরত পাই। পরে শুনছি এই উকিল ভুয়া।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মারুফ সরোয়ার বাবু (পিপি) বলেন, আইনজীবী সমিতির কাছে একটা অভিযোগ আসে এই ভুয়া উকিলের বিরুদ্ধে। পরে খোঁজখবর নিয়ে দেখি কিশোরগঞ্জের এস.এম সাগর আহম্মেদ নামে কোনো উকিল নেই। ভুয়া উকিল বিভিন্ন মামলার কথা বলে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আইনজীবী সমিতির সদস্যরা দুজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত মামলা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাগর আহমেদ প্রকৃতপক্ষে আইনজীবী কিনা, সেটিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ওপ্রকাশক: মো: আব্দুর রহমান। +88 01954-105871
বার্তা-সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম হোসেন। +8801888105799
E-mail : padmanews1@gmail.com