অনলাইন ডেস্ক।।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়াঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকাল ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় উপকরণ। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় সেগুলো ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
সরঞ্জাম পরিবহনের সময় প্রধান সড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ২৯ অক্টোবর নির্বাচন ঘিরে জেলায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্থরের প্রায় ৫ হাজার ৩শ জন কাজ করবেন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। এর মধ্যে ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ, ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার, ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির ৩ জন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ জন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ২৫ জন কাজ করবে।
এ ছাড়া মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোস ৯০টি, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক ২৫ জন, বিদেশী পর্যবেক্ষক চারজন এবং দেশি ও স্থানীয় ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচনী মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন।
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিন উপজেলায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন।
বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনেরও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও ব্যবস্থা নেয়নি। তাই সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে দাঁড়িপাল্লার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। তারপরও যদি ভোটে অনিয়ম হলে অবশ্যই আমরা দলীয়ভাবে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’
এদিকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ধানের শীষের জোয়ার দেখে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা নানাভাবে ভোটকে বিতর্কিত করার পায়তারা করছে।
তিনি বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ অপেক্ষা করে আছে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য। চারদিকে ধানের শীষের জয়জয়কার। আমি জয়ী হলে মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবো।’
জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটের মাঠে রয়েছে। আমরা আশা করি, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ ভোট শেষ হবে।’
গত ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদকে ২৫৫ ভোটে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়ী হন। তিনি পেয়েছিলেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট। ওই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এখন উপনির্বাচনের ভোটের মধ্য দিয়ে এ আসনের নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন।
সম্পাদক ওপ্রকাশক: মো: আব্দুর রহমান। +88 01954-105871
বার্তা-সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম হোসেন। +8801888105799
E-mail : padmanews1@gmail.com