
ভাগ্যোর নির্মম পরিহাস সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কয়রার প্রতিভা সরকার মিতুর ডাক্তার হওয়া হলোনা। পিতা-মাতার স্বপ্ন ছিলো মেয়ে ডাক্তার হয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পুরন হলোনা। ভাগ্রোর কি নির্মম পরিহাস অকালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান গেল প্রতিভা সরকার মিতুর।
জানা গেছে, কয়রা উপজেলার মঠবাড়ি গ্রামের বিপ্রজিৎ সরকর ও মা দেবকী রায় দম্পত্তির একমাত্র মেয়ে অদম্য মেধাবী প্রতিভা সরকার মিতু। মিতুর লেখা-পড়া শুরু তালা উপজেলার খাজরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরে ভর্তি হন তালা সরকারী আলী আহম্মাদ বালিকা বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেনীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে আবারও উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে সকলের দৃষ্টি কাড়েন। পরে ভর্তি হন যশোর কেন্টনমেন্ট কলেজে সেখানে সাফল্যের সাথে এ প্লাস পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এবং বৃত্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে ভর্তি হন পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন প্রতিভা সরকার মিতু। এক বছর পরেই চিকিৎসক হিসাবে কর্মজীবন শুরু হওয়ার কথা ছিলো তার। এর মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা চন্ডীপুর গ্রামের অচিন্ত কুমার মন্ডলের ছেলে ইন্টার্ন চিকিৎসক অর্ঘ্য মন্ডলের সাথে তার বিবাহের দিনক্ষন ঠিক হয়েছিল। এবং বিবাহের দিনক্ষন চুড়ান্ত করতে অর্ঘ্যর জ্যাঠার শ্রাদ্ধ্র অনুষ্ঠানে যোগদিতে ৩০ জানুয়ারী তারা দু’জনে ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন অর্ঘ্য। এসময় গুরত্বতর আহত হন মিতু। অর্ঘ্যর মৃত্যুর ১০ দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু হয় প্রতিভা সরকার মিতুর।
মিতুর পিতা বিপ্রজিৎ সরকার জানিয়েছেন, ঘটনার দিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনামুড় নামক স্থানে ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থালে অর্ঘ্যর মৃত্যু হয়। ওই সময় আমার মেয়ে প্রতিভা সরকার মিতু গুরুত্বর আহত হন। পরে তাকে ঢাকার পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ ফেব্রুয়ারী মিতু মারা যান। মিতুর পিতা একটি বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থার ডুমুরিয়া উপজেলার ব্যঞ্চ ম্যানেজার এবং মা দেবকী রায় তালা উপজেলায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান সহকারী হিসাবে কর্মরত। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গোটা পরিবার শোকে কাতর।
আমাদী জায়গীরমহল তকিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঠবাড়ি গ্রামের উৎপল কুমার সানা বলেন, প্রতিভা অত্যান্ত মেধাবী ও বিনয়ী ছাত্রী ছিলেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিলো প্রতিভা ডাক্তার হয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করবেন। প্রতিভার সরকার মিতুর পিতা বিপ্রজিৎ সরকার বলেন,আমার মা চিকিৎকের অভাবে মারা যান। সে জন্য মেয়ে ডাক্তার হবে এবং জনগনের সেবা দেবে। সেই আশা নিয়ে মিতু ডাকার হয়ে কর্মজীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। তার আশা আর পুরন হলোনা। সকলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে মিতু সারা জীবনের মতো বিদায় নিয়েছেন।
সম্পাদক ওপ্রকাশক: মো: আব্দুর রহমান। +88 01954-105871
বার্তা-সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম হোসেন। +8801888105799
E-mail : padmanews1@gmail.com