অনলাইন ডেস্ক।।
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আগামী ২৮ মে সারাদেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে। এ উপলক্ষে ঈদের ৫ দিন আগেই রাজধানীর গরুর হাটগুলো বসানোর কথা থাকলেও ইতোমধ্যে ঢাকার হাটগুলো বসতে শুরু করেছে। কিন্তু এখনও বেচাবিক্রি জমেনি। ব্যতিক্রম ঘটেনি হাজারীবাগ পশুর হাটের ক্ষেত্রেও। এবার শিকদার মেডিক্যাল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায় হাট বসানোর ইজারা দেয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু সেখান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে হাজারীবাগ থানার নাকের ডগায় রাস্তা দখল করে গরুর হাট বসানো হয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। গাড়ি তো দূরে থাক, মানুষ ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না।
রাজধানীর কোথাও যেন রাস্তা দখল করে গরুর হাট বসতে না পারে এ জন্য মাঠ পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার। কিন্তু হাজারীবাগে গিয়ে দেখা যায়, এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ার চিত্র। হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যানজট মুক্ত রাস্তা নিশ্চিত করতে হাটের সীমানার বাইরে কোনো পশু রাখতে দেওয়া হবে না বলেও ঢাকার পুলিশ কমিশনারের ঘোষণা রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজির দক্ষিণ পাশের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষা রাস্তা, হাজারীবাগ থানা রোড এবং বেড়িবাঁধে ওঠার রাস্তা কালুনগরে গরুর হাট বসানো হয়েছে। কালুনগর থেকে বেড়িবাঁধে ওঠার মোড়ে বসানো হয়েছে ইজারাদারদের হাসিল ঘর। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সেখান থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশাওয়ালাদের হাজারীবাগের দিকে যেতে বারণ করা হচ্ছিল।
হাজারীবাগের স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, রাস্তায় গরুর হাট বসানোর কারণে তাদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। গাড়ি নিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। হেঁটে খুবই ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। কারণ কখন গরু আক্রমণ করে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, গরুর হাটের কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। হাঁটার পথও এক রকম রুদ্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধের দুপাশের গরুর হাট বসানো হয়েছে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ চলাচলের রাস্তা তো খোলা। মানুষের চলাচলের রাস্তায় যেন গরুর হাট না বসে এ জন্য তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ও কালুনগর এলাকার রাস্তা দখল করে গরুর হাট বসার কথা স্বীকার করে ইজারাদারের প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির আমাদের সময়কে বলেন, আমরা ব্যাপারীদের বলেছিলাম রাস্তায় গরু নিয়ে না বসতে। কিন্তু তারা বসে গেছে। এসব ব্যাপারীরা হাজারীবাগ হাটের স্থায়ী লোক। তারা প্রতিবছর এখানে গরু নিয়ে বসেন। আওয়ামী লীগ আমলেও রাস্তা দখল করে এখানে হাট বসানো হয়েছিল।
জানতে চাইলে হাজারীবাগ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর (ইনভেস্টিগেশন) মো. শাহাদাৎ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, রাস্তায় হাট বসানোর বিষয়টি আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছি। এখন আমাদের ওপর যেভাবে নির্দেশনা আসবে আমরা সেভাবে কাজ করব।
কালুনগরে রাস্তা দখল করে ১৭টি গরু রেখেছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের ব্যাপারী কোহিরুল ইসলাম। একটি গরুকে গোসল করাতে করাতেই তিনি আমাদের সময়কে বলেন, এখানে বসলে ক্রেতা বেশি পাওয়া যায়, তাই গরু এখানে নিয়ে এসেছেন। রাস্তা দখল করে গরু রেখেছেন কেন জানতে চাইলে এক গাল হেসে তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ভাই আমি এখানে জায়গা পেয়েছি তাই বসে গেছি গরু নিয়ে। এক লাখ ১৭ হাজার টাকায় ছোট্ট একটি গরু বিক্রির কথাও জানান তিনি।
সরেজমিন শিকদার মেডিক্যাল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায় গিয়ে দেখা যায় পুরো খালি জায়গা গরু-ছাগলে পূর্ণ হয়ে গেছে। ক্রেতা নেই। ব্যাপারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউ খোসগল্পে ব্যস্ত। কেউ বসে আছেন, কেউবা শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। আবার কেউ নিজের গরুকে খাবার খাওয়াচ্ছেন।
জানতে চাইলে পাবনার ব্যাপারী নুরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, ১৮টি গরুর নিয়ে এসেছি। এখনও ক্রেতার দেখা পাইনি। অপেক্ষায় আছি কখন ক্রেতা আসে। তিনি বলেন, এবার গরুর আমদানি একটু বেশি। দামও বেশি হবে। কারণ গরু লালন-পালনের খরচ এবার বেশি পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, শিকদার মেডিক্যাল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায় কোরবানির পশুতে ভরে যাওয়ায় বেড়িবাঁধের রাস্তার দুই পাশেই গরুর হাট বসেছে। সেকশন যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশে কোম্পানিঘাট পর্যন্ত গরুর হাট দেখা গেছে। গরু রাখার জন্য কেউ জায়গা তৈরি করছেন। কেউবা বৃষ্টি ও গরম থেকে গরু রক্ষায় ওপরে শামিয়ানা টাঙাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচণ্ড গরমে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এই গরুর হাটের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপিত হাসিল ঘরে ছোট্ট কাগজে লেখা পশু চিকিৎসকের ফোন নম্বর।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঢাকার অস্থায়ী সব হাটেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানির পশু উঠেছে। কিন্তু ক্রেতাদের দেখা মিলছে কম। গরু, ছাগল, মহিষের পাশাপাশি কোনো কোনো হাটে উটও উঠেছে। আর দুই থেকে তিন দিন পর হাটে ক্রেতাদের ঢল নামার আশায় আছেন ব্যাপারী ও ইজারাদাররা।
সম্পাদক ওপ্রকাশক: মো: আব্দুর রহমান। +88 01954-105871
বার্তা-সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম হোসেন। +8801888105799
E-mail : padmanews1@gmail.com