চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা।।
দর্শনায় রেলইয়ার্ডে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য চুরির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ দর্শনা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। আহত ব্যবসায়ী ওয়াসিম (৪৮) বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিনগরে এ ঘটনা ঘটে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওয়াসিমের ছেলে হাফিজুলের দায়ের করা অভিযোগে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- ইন্তাজ (৪৮), হুমায়ুন (৪০), রুবেল (৩০), মনিরুল হোসেন ওরফে মইন্না (৪২), সোবহান (৪২), লিটন ওরফে মুলকো (২৪) এবং ইমন (২৬)। এজাহারে ইমনকে নিষিদ্ধ ঘোষিত দর্শনা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের সবার বাড়ি দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিনগরে।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার আগের রাতে (২৬ অক্টোবর) রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে হুমায়ুন, রুবেল ও ইমন, ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে দর্শনা রেলইয়ার্ডে আমদানিকৃত পণ্য চুরির প্রস্তাব দেয়। ওয়াসিম এতে রাজি না হলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা। এর পরদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে হুমায়ুনের দোকানের সামনে পৌঁছালে ওয়াসিমের গতিরোধ করা হয়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় অবস্থান নেওয়া সাতজন তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, লোহার রড, জিআই পাইপ, ধারালো দা, হাসুয়া ও চাকু নিয়ে ওয়াসিমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রুবেলের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তার গলায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে লিটন তাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর রুবেলের দা দিয়ে মাথায় কোপ দিতে গেলে তা ওয়াসিমের বাম হাঁটুতে লাগে। হুমায়ুনের দা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তা ঠেকাতে গিয়ে ওয়াসিমের বাম হাতের কব্জিতে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে কব্জির তিনটি হাড় কেটে টুকরো হয়ে যায়। এ ছাড়া ইন্তাজের হাতে থাকা চাকুর আঘাতে ওয়াসিমের অণ্ডকোষে কাটা জখম হয় এবং ইমনের লোহার রডের আঘাতে তার ঘাড়ের পেছনে গুরুতর জখম হয়। অন্য আসামিরাও তাকে বেধড়ক মারধর করেন।
একপর্যায়ে ওয়াসিম অজ্ঞান হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে চলে যায়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা এক ভ্যানচালক তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দর্শনা রেলইয়ার্ডকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য। তাদের লাগাতার চুরির কারণে রেলইয়ার্ডে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও বহুলাংশে কমে গেছে। এ ছাড়া হুমায়ুনের দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি অস্ত্রের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় হাফিজুল নামে একজন বাদী হয়ে একটি এজাহার দর্শনা থানায় দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’
সম্পাদক ওপ্রকাশক: মো: আব্দুর রহমান। +88 01954-105871
বার্তা-সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম হোসেন। +8801888105799
E-mail : padmanews1@gmail.com