অনলাইন ডেস্ক।।
প্রতিটি নিত্যপণ্যের অব্যাহত চড়া দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে। যশোরের বাজারে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, ডিম, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের মাঝেই সর্বশেষ আটার দাম বেড়েছেড়। কিছুটা সস্তার সবজিও তিন বছর যাবত নাগালের বাইরে। জ্বালানি তেল, গ্যাসের বাড়তি দামের পাশাপাশি বন্যা, খরাসহ নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে বাড়ানো হয় নিত্যপণ্যের দাম। সস্তার আমিষ ডিম থেকে শুরু করে সবজি সব ধরনের নিত্যপণ্যতেই চড়া দাম অব্যাহত।
শুক্রবার সকালে বাজার বসার পরে বেলা বাড়লেও বেচাকেনা ছিল তুলনামূলক কম। বড়বাজারের মাছ বাজার ছিল অনেকটাই ফাঁকা। বিক্রেতারা জানান ছুটির দিনেও বেচাকেনা আশানুরূপ নয়।
বাজারে আগাম আসা শীতকালীন সবজি বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। প্রতি কেজি শিম ৬০টাকা। ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বিটকপি ও গাজর ১৪০টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, ক্যাপসিকাম ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। মুলা ৪০, বাধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বরবটি ৬০ থেকে ৮০টাকা, বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা, কাকরোল ৬০, উচ্ছে ১০০, শসা ৬০থেকে ৮০টাকা, কচুরলতি ৬০, পটল, ঢেড়স, লাউ, কচুরমুখি ৪০, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাচকলা ৩০টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ থেকে ৬০টাকা কেজি। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫টাকা কেজিতে।
কিছুটা কমে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪টাকায়। সোনালী মুরগির ডিম ৫৬টাকা। দেশি মুরগির ডিম ৬০টাকা। হাঁসের ডিম ৭০টাকা। কোয়েল পাখির ডিম ১২টাকা হালি।
প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০টাকায়। সোনালী মুরগি ৩১০টাকা। লেয়ার মুরগি ৩৫০টাকা। দেশি মুরগি ৬০০টাকা কেজি। গরুর মাংস ৭৮০থেকে ৮০০টাকা কেজি। খাসির মাংস এক হাজার ২০০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে ইলিশে বাড়তি দাম অব্যাহত। ৫০০থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৫০থেকে ২২০টাকা, পাঙ্গাশ ২০০থেকে ২৫০টাকা, সিলভার কার্প ১৫০ থেকে ২০০, মৃগেল ৩০০, গ্রাসকার্প ২৫০থেকে ৩৫০, রুই ৩০০থেকে ৪৫০টাকা কেজি, কাতলা ৩০০ থেকে ৫০০টাকা কেজি। পাবদা ৪০০, শিং ৩৫০থেকে ৪০০, টাকি ৩৫০টাকা, ট্যাংরা ৬০০, পুঁটি ৪০০, বাটা ২০০, সরপুঁটি ১৭০, বাইম ৮০০থেকে এক হাজার টাকা, চাষের কৈ ২২০টাকা, দেশি কৈ এক হাজার ২০০টাকা। বোয়াল ৪০০থেকে ৭০০টাকা, ভেটকি ৬০০থেকে ৭০০, শোল ৭০০থেকে এক হাজার টাকা, আইড় ৮০০, পার্শে ৮০০, চিংড়ি ৮০০থেকে এক হাজার ২০০টাকা কেজি।
শ্রীধর পুকুরপাড় এলাকার শেখর দেবনাথ বলেন, প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বেশি, সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মাঝেই জ্বালানি তেলের আবারও মূল্য বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে আবারও দাম বৃদ্ধির আশংকা। বেজপাড়া এলাকার বীনা রায় বলেন, এক আঁটি লাউ শাক কিনেছি ৪০টাকা দিয়ে, আজকাল শাকেরও কি অস্বাভাবিক দাম। লোনঅফিস পাড়ার আকবর রনি বলেন, আয় রোজগারের অর্ধেক খরচ হয়ে যায় বাজার করতে গিয়ে, সাধারণ মানুষের মরার অবস্থা।
মাছ বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, সকাল সাতটা থেকে মাছ নিয়ে বসে আছি বেলা সাড়ে ১২টা বাজে এখনো কোন ক্রেতা পাইনি। কেউ কেউ মাছ দেখছে ঠিকই কিন্তু কিনছে না। আরেক বিক্রেতা শংকরও একই কথা বলেন। সবজি বিক্রেতা প্রসেনজিৎ বলেন, ছুটির দিন কিন্তু তবু বাজারে লোক নেই। নিত্যপণ্যর দাম কমলে আমরাও খুশি, আমাদেরও পরিবার আছে।
চালের বাজারে প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০থেকে ৫২টাকা কেজিতে। মিনিকেট ৬৫থেকে ৮০টাকা। কাজললতা ৫৫থেকে ৬২টাকা। আঠাশ ৫৫থেকে ৫৮টাকা। বাসমতি ৬৮থেকে ৮৪টাকা। নাজিরশাইল ৯২থেকে ৯৬টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মুদি বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০থেকে ১২৫টাকা কেজিতে। খোলা সয়াবিন তেল ২০৫টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল। খোলা আটা ৫০টাকা। প্যাকেটজাত আটা ৬০টাকা। মসুর ডাল ৯০থেকে ১৬০টাকা কেজি। মুগ ডাল ১০০থেকে ১৭০টাকা। ছোলার ডাল ১১৫টাকা। খেসাড়ি ডাল ৯০টাকা। মটরের ডাল ১১০টাকা। বুট ডাল ৬৫টাকা। লবন ৪০টাকা।
মশলার বাজারে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৬৫০থেকে ৯০০টাকায়। এলাচ পাঁচ হাজার টাকা কেজি। দারুচিনি ৫০০থেকে ৫৫০টাকা। গোলমরিচ এক হাজার ৪০০টাকা। লবঙ্গ এক হাজার ৫০০টাকা থেকে এক হাজার ৫৮০থেকে কেজি। পেঁয়াজ ৪৫থেকে ৫০টাকা কেজি। আদা ১৫০থেকে ২৬০টাকা। রসুন ৮০থেকে ২০০টাকা।
সম্পাদক ওপ্রকাশক: মো: আব্দুর রহমান। +88 01954-105871
বার্তা-সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম হোসেন। +8801888105799
E-mail : padmanews1@gmail.com