
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা শাখায় গর্ভকালীন সেবা কার্ড বিতরণের সময় প্রতি ব্যক্তির কাছ থেকে ২০০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নূরুল হুদাকে হাতেনাতে ধরার পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা শাখা অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা শাখায় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নূরুল হুদা দীর্ঘদিন ধরে সেবা নিতে আসা গর্ভবতী নারীদের কাছ থেকে কার্ড প্রতি ২০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে উপস্থিত হয়ে হাতেনাতে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়।
নিয়ম অনুযায়ী কেবল মেডিকেল অফিসারের কাজ হওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত নূরুল হুদা নিজেই চিকিৎসকের দায়িত্ব নিয়ে সেবা কার্ডে সিল ও স্বাক্ষর করছিলেন। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত সিলটিতে তাঁকে 'পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা' হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে দেখানো হয়েছে। এ সময় দাপ্তরিক গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে বহিরাগত এক ওষুধ কোম্পানির (বায়োফার্মা) প্রতিনিধি রাজু আহমেদকে দিয়ে কার্ডগুলো লিখিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে আসে।
কার্ড নিতে আসা ভুক্তভোগী লুৎফুন নেছা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “এর আগে কখনো সেবা কার্ডের জন্য কোনো টাকা দিতে হয়নি। কিন্তু এবার নূরুল হুদা টাকা ছাড়া কার্ড দিচ্ছিলেন না এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেছিলেন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী নূরুল হুদার অবৈধভাবে সিল ব্যবহার ও টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা শাখায় কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব রহমান মুঠোফোনে জানান, “অফিস স্টাফকে সেবা কার্ড দেওয়ার দাপ্তরিক অনুমতি আমি দিয়েছি, তবে কার্ডের বিনিময়ে টাকা আদায় করার বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ওপ্রকাশক: মো: আব্দুর রহমান। +88 01954-105871
বার্তা-সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম হোসেন। +8801888105799
E-mail : padmanews1@gmail.com