যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া এলাকার বহু বিতর্কিত কথিত ডাক্তার এরশাদ হোসেন আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। নিজেকে খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) পরিচয় দিয়ে বাড়ি বাড়ি যেয়ে রোগীকে পাইলস অপারেশন করছেন তিনি। নিয়মিত চেম্বার করছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ঐশী মেডিকেল হল নামে একটি ফার্মেসিতে। রোগীদের লিখছেন হাই এন্টিবায়োটিক। তার অপচিকিৎসার তালিকা দীর্ঘ। একাধিকবার তার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন অফিসে পড়েছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ।
সূত্র জানায়, মাধ্যমিক গন্ডি পেরোতে না পারা এরশাদ হোসেন বিভিন্ন সময় এমবিবিএস ডাক্তারের সহকারী হিসাবে কাজ করছেন। একদিন হঠাৎ গ্রামে প্রচার শুরু করেন তিনি ডাক্তারি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। হয়েছেন মেডিসিন বিষয়ে অভিজ্ঞ। করতে পারেন পাইলসসহ নানা কঠিন ও জটিল অপারেশন। বিভিন্ন স্থানে আন্ডারগ্রাউন্ড চেম্বারে দেখা শুরু করেন রোগী। সর্বশেষ ঝিকরগাছার ঐশী মেডিকেল হলে আস্তানা গেড়েছেন।
তার একটি ব্যবস্থাপত্র হাতে এসেছে গ্রামের কাগজে। সেখানে তিনি উদ্ভট সব ডিগ্রি ব্যবহার করেছেন। নামের স্থানে লিখছেন (বি) ডাক্তার। ডিগ্রি ব্যবহার করছেন, এইচ ই এন্ড পিএইচসি), মেডিসিন অভিজ্ঞ। সিভিল সাজর্ন অফিস ঝিনাইদহ। রেজিঃ নম্বর ৮১, আইডি নম্বর-৭৫৭। এমন কোনো রেজিস্ট্রেশন, আইডি নম্বর বা ডিগ্রি সারা বাংলাদেশে নেই বলে নিশ্চিত করেছে যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার আসাদুজ্জামান জানান, তিনি যশোর শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চেম্বার করেন। মঙ্গলবার যশোর সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের মিঠু নামে এক রোগী যান তাকে দেখাতে। এ সময় রোগী অভিযোগ করেন, ডাক্তার আসাদুজ্জামান সেজে তার পাইলস অপারেশন করেছেন এরশাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় আবারও এরশাদের কাছে গেলে জানতে পারেন যে, তার পাইলস অপারেশন করেছেন যিনি তিনি কোনো ডাক্তার নন। বর্তমান রোগীর অবস্থা আশংকাজনক। ডাক্তার আসাদুজ্জামানের নাম ভাঙিয়ে একাধিক রোগীকে পাইলস অপারেশন করিয়েছেন ভুয়া ডাক্তার এরশাদ।
অভিযোগ অস্বীকার করে এরশাদ হোসেন বলেন, মিঠু তার আত্মীয়। তিনি কোনো অপারেশন করাননি। প্রথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন মাত্র। তিনি শার্শার ডাক্তার আসাদুজ্জামান নামে একজনের কাছে রোগীকে রেফার করেছেন। রোগী ভুল করে যশোর শহরের ডাক্তার আসাদুজ্জামানের কাছে গিয়েছেন।
তার ডিগ্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, তিনি সূর্য হাসি ক্লিনিক থেকে একটি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস থেকে তাকে ওই সর্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে ওই কথিত ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ওপ্রকাশক: মো: আব্দুর রহমান। +88 01954-105871
বার্তা-সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম হোসেন। +8801888105799
E-mail : padmanews1@gmail.com