সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে নিজ কক্ষেই পাঁচঘণ্টা আত্মগোপনে থাকা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এএফএম আনিছুর রহমানকে বরিশাল বিভাগে বদলি করা হয়েছে। তার লাহামহীন দুর্নীতি নিয়ে গ্রামের কাগজে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ খোঁজখবর নেয়া শুরু করে। শুরু হয় তার বদলির গুঞ্জন। তিনি বদলি ঠেকাতেও ছিল ব্যাপক তোড়জোড়। সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে দুর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তার। গত বুধবার তাকে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে, তার স্থানে যোগদান করেছেন কুড়িগ্রাম থেকে আসা নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক। তবে, আনিছুর রহমান বদলি হলেও তার ঘনিষ্ট সহযোগী আর এক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এস্টিমেটর রবিউল রয়েছেন বহাল তবিয়তে। দ্রুত তাকেও বদলির দাবি জানিয়েছেন ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এএফএম আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ ছিলনা। টেন্ডারে নির্ধারিত পণ্যের পরিবর্তে নিম্নমানের পণ্য দেয়া তার ‘কাজে’ পরিণত হয়েছিল। তিনি ঠিকাদারদের জিম্মি করে টাকা হাতাতেন। ওই অফিসে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার আনতে গেলেই ঠিকাদারদের কাজের তিনভাগের একভাগ টাকা দিতে হতো আনিছুরকে। অন্যথায় আটকে যেত ওয়ার্ক অর্ডার। এছাড়া ঠিকাদারদের রিপাইরিং কাজের জন্য মোট টাকার দেড় শতাংশ দিতে হতো তাকে। আরও নানা অজুহাতে টাকা হাতাতেন তিনি। এসব টাকা আদান প্রদানের মাধ্যম ছিলেন এস্টিমেটর রবিউল। আনিছুর রহমান অফিস বাদ দিয়ে থাকতেন অফিসের তিনতলার রেস্টহাউজে।
দৈনিক গ্রামের কাগজ সহ কয়েকটি পত্রিকায় অনুসন্ধানে উঠে আসে নড়াইলের একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্রান্ডের এসির বদলে তিনি দিয়েছেন চাইনা এসি। তার ঘুষ লেনদেনের একটি অডিও রেকর্ড আসে গ্রামের কাগজের হাতে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে তিন দিন কার কার্যালয়ে গেলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে দেখা করেন নি। উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এসব বিষয়ে গ্রামের কাগজে দফায় দফায় রিপোর্টও হয়েছে। সর্বশেষ ওই দপ্তরের বিভিন্ন খরচ নিয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে গেলে ঘাবড়ে যান তিনি। বেলা ১২টায় সাংবাদিক দেখে নিজ কার্যালয়ের কক্ষে ভেতর থেকেই তালা লাগিয়ে দেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিনি ওই রুমেই থাকেন। পরে ৫টার পর সাংবাদিকদের সরিয়ে তিনতলার রেস্টহাউজে চলে যান। কিন্তু সাংবাদিকদের সাথে দেখা দেননি তিনি। বাধ্য হয়ে গ্রামের কাগজের এই প্রতিবেদক ডাকযোগে তথ্য চেয়ে ওই প্রতিষ্ঠান প্রধান আনিছুর রহমানের কাছে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন জানান। এরমাঝে গত বুধবার তিনি যশোর থেকে বদলি হয়ে বরিশালে চলে যান।
এদিকে, নির্বাহী প্রকৌলশী আনিছুর রহমানের বদলির খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে। তবে, তার অবৈধ লেনদেনের অন্যতম সহযোগী এস্ট্রিমেটর রবিউল এখনো বহাল তবিয়তে থানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত তার অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে রোববার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোর বিভাগের নবনিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, সাংবাদিকদের সাথে যে ব্যবহার আনিছুর রহমান করেছেন তা মোটেও কাম্য না। তিনি নতুন এসেছেন। সব বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কোনো ধরনের অনিয়ম দুর্নীতির প্রশ্রয় দেবেননা। সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া তথ্য অধিকার আইনে এই সাংবাদিকের আবেদনের বিষয়ে বলেন, অবশ্যই সকল তথ্য আইন অনুযায়ী দেয়া হবে।
সম্পাদক ওপ্রকাশক: মো: আব্দুর রহমান। +88 01954-105871
বার্তা-সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম হোসেন। +8801888105799
E-mail : padmanews1@gmail.com