চুয়াডাঙ্গা ০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লার মুরাদ নগরে ইউপি সদস্যের হাতে মারধরের শিকার নারী, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

Padma Sangbad

কুমিল্লার মুরাদনগরে ইউপি সদস্য ও তার ভাইয়ের হাতে মারধরের শিকার এক নারীর সিসিটিভি ফুটেজ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। আহত ওই নারী ভয়ে বাড়ি ছেড়ে গিয়ে অন্য উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন সুরুজ মিয়ার মার্কেটের দেলোয়ার মিয়ার দোকানে প্রকাশ্যে এক নারীকে লাঠিশোটা দিয়ে মারধর করে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেলোয়ার, তার ভাই সুমন সরকার ও তার চাচাতো ভাই রাসেল।

আহত নারী উত্তর ত্রিশ গ্রামের মো. শরিফুল ইসলামের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৩৭)।

ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম জানান, গত সোমবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় উত্তর ত্রিশ নিজ গ্রাম থেকে কোম্পানীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে একই গ্রামের মৃত শাহ আলম মেম্বারের ছেলে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও তার ভাই সুমন মিয়ার (৩০), নেতৃত্বে উত্তর ত্রিশ গ্রামের আলাউদ্দিন, মো. সুদন মিয়ার ছেলে মো. হাবিব (২৬), রাসেল (২৪), মো. ইউনুস মিয়ার ছেলে মো. জামাল মিয়া (২৬), মৃত লতিফ মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩০) হাসু মিয়া ছেলে হেলাল (২৬), মৃত তবদল হোসেনের ছেলে রনি (২৩)সহ আরও ৫/৬ জন তাকে বেধড়ক মারধর করে।

মারধরের কারণ হিসাবে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৯১ সাল থেকে তার সাথে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে ১০০ শতাংশ জমির বাটোয়ারা মামলা চলছে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের। ওই জমির আপোষ মীমাংসা করবে বলে মরিয়ম বেগমকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে দোকানের ভিতরে মারধর করে ইউপি সদস্য দেলোয়ার ও তার লোকজন।

তিনি আরও জানান, ইউপি সদস্য দেলোয়ার ও তার লোকজনের ভয়ে দেবীদ্বার উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মারধরের ঘটনা মনে হলেই ভয়ে বুক ধড়ফড় করে। এ ঘটনায় মামলা করলে তারা আমাকে অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছে। তাই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আছি।

অভিযুক্ত নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

১৫নং নবীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেন বলেন, মরিয়ম বেগম ও দেলোয়ার মেম্বারের সাথে ঝামেলার কথা শুনেই ঘটনাস্থলে এসে উভয়কে নিভৃত করি।

মুরাদনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু হাসিম বলেন, মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছে। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা শেষ করে আসলে মামলাটি নথিভূক্ত করা হবে।

আপডেট : ০১:১৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

কুমিল্লার মুরাদ নগরে ইউপি সদস্যের হাতে মারধরের শিকার নারী, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

আপডেট : ০১:১৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

কুমিল্লার মুরাদনগরে ইউপি সদস্য ও তার ভাইয়ের হাতে মারধরের শিকার এক নারীর সিসিটিভি ফুটেজ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। আহত ওই নারী ভয়ে বাড়ি ছেড়ে গিয়ে অন্য উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন সুরুজ মিয়ার মার্কেটের দেলোয়ার মিয়ার দোকানে প্রকাশ্যে এক নারীকে লাঠিশোটা দিয়ে মারধর করে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেলোয়ার, তার ভাই সুমন সরকার ও তার চাচাতো ভাই রাসেল।

আহত নারী উত্তর ত্রিশ গ্রামের মো. শরিফুল ইসলামের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৩৭)।

ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম জানান, গত সোমবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় উত্তর ত্রিশ নিজ গ্রাম থেকে কোম্পানীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে একই গ্রামের মৃত শাহ আলম মেম্বারের ছেলে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও তার ভাই সুমন মিয়ার (৩০), নেতৃত্বে উত্তর ত্রিশ গ্রামের আলাউদ্দিন, মো. সুদন মিয়ার ছেলে মো. হাবিব (২৬), রাসেল (২৪), মো. ইউনুস মিয়ার ছেলে মো. জামাল মিয়া (২৬), মৃত লতিফ মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩০) হাসু মিয়া ছেলে হেলাল (২৬), মৃত তবদল হোসেনের ছেলে রনি (২৩)সহ আরও ৫/৬ জন তাকে বেধড়ক মারধর করে।

মারধরের কারণ হিসাবে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৯১ সাল থেকে তার সাথে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে ১০০ শতাংশ জমির বাটোয়ারা মামলা চলছে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের। ওই জমির আপোষ মীমাংসা করবে বলে মরিয়ম বেগমকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে দোকানের ভিতরে মারধর করে ইউপি সদস্য দেলোয়ার ও তার লোকজন।

তিনি আরও জানান, ইউপি সদস্য দেলোয়ার ও তার লোকজনের ভয়ে দেবীদ্বার উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মারধরের ঘটনা মনে হলেই ভয়ে বুক ধড়ফড় করে। এ ঘটনায় মামলা করলে তারা আমাকে অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছে। তাই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আছি।

অভিযুক্ত নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

১৫নং নবীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেন বলেন, মরিয়ম বেগম ও দেলোয়ার মেম্বারের সাথে ঝামেলার কথা শুনেই ঘটনাস্থলে এসে উভয়কে নিভৃত করি।

মুরাদনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু হাসিম বলেন, মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছে। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা শেষ করে আসলে মামলাটি নথিভূক্ত করা হবে।