চুয়াডাঙ্গা ০২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রথা ভেঙে বিয়ে, কনে সহযাত্রীদের নিয়ে বরের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে

Padma Sangbad

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।

বাংলাদেশে বিয়ের প্রচলিত প্রথা ভেঙে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সদ্য বিবাহিত এক দম্পতি। সমাজে বিয়ের যে প্রচলিত প্রথা রয়েছে সম্প্রতি সেটি ভেঙে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ঝিনাইদহের সদ্য বিবাহিত এক দম্পতি। বুধবার (১৩ জুলাই) বিকাল ৪টায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপ‌জেলার মনোহরপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রথা ভাঙার বিয়ে। আর এ বিয়েতে কনেযাত্রী নিয়ে বরের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করেছেন কনে।


বাংলাদেশের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী বর তার আত্মীয়স্বজনসহ অন্যান্য সহযাত্রীদের নিয়ে কনের বাড়ি যান বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে। এরপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকার ইউএনও’র গাড়ি চালক আব্দুল কাদেরের মেয়ে ইতি সেলিনা এক্ষেত্রে উল্টো কাজটি করেছেন। তিনি তার সহযাত্রীদের নিয়ে একই উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের সামসুদ্দিন লস্করের ছেলে, দীপ্ত টি‌ভির সাংবা‌দিক এমএ মা‌লেক শান্তর বাড়িতে গিয়ে হাজির হন এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

প্রথাগতভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশমুখে যেভাবে বরকে বরণ করা হয়, তেমনি এই বিয়েতেও কনেকে ফুলের মালা পরিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে বরণ করে নেন বরপক্ষের আত্মীয়স্বজন। এরপর বর-কনে আসনে বসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় এবং কনে থেকে যান ছেলের বাড়িতে।

কিন্তু ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা প‌রিষ‌দের আবাসিক এলাকার আব্দুল কা‌দে‌রের মেয়ে সে‌লিনার ক্ষেত্রে ঘটনাটি উল্টো হয়েছে। ব্যতিক্রমধর্মী এই বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহের কমতি ছিলনা। অনুষ্ঠান দেখতে বরের বাড়িতে যেমন উৎসাহী জনতার ভিড় ছিল তেমনি কনের বাড়িতেও অনেক মানুষ জড়ো হন। প্রথার বাইরের এ বিয়ের প্রস্তাবটি আসে মূলত বর শান্তর পক্ষ থেকে। তারা চেয়েছেন এই বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।

এ ব্যাপারে কনে সেলিনা বলেন, ছেলেরা যদি পারে মেয়েদেরকে বিয়ে করে নিয়ে আসতে তাহলে মেয়েরা কেন পারবে না। পুরুষশাসিত সমাজ থেকে মেয়েরা যাতে বেরিয়ে আসতে পারে সেজন্য তিনি কনের বাড়িতে নয়; বরের বাড়িতে কনেযাত্রী নিয়ে বিয়ে করতে এসেছেন। নতুন নিয়মে বিয়ে করতে পেরে আমি অনেক খুশি। প্রথমে ভেবেছিলাম এভাবে বিয়ে করা ঠিক হবে কিনা। কিন্তু পরে আমি সম্মতি জানাই। শুরুতে দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশী আপত্তি জানালেও পরে তারা রাজি হন।
ব্যতিক্রমী এ বিয়ে নিয়ে বর এমএ মালেক শান্ত লস্কর বলেন, প্রচলিত নিয়ম ভেঙে কনে এসেছেন তাদের বাড়িতে বিয়ে করতে। এই বিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে সম্পন্ন হয়েছে। কনে তার পূর্বপরিচিত। ৫ লাখ টাকার দেনমোহরে এ বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফতেমা লিজা বলেন, ব্যতিক্রমী এ বিয়ের কনে ইতি সেলিনা তার পরিবহন ড্রাইভারের কন্যা। বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেযাত্রী হিসাবে আমিও উপস্থিত ছিলাম।
বাংলাদেশের চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী বর তার আত্মীয়-স্বজনসহ সহযাত্রীদের নিয়ে কনের বাড়ি যান বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে। এরপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে কনের বাড়ি থেকে কনেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

আপডেট : ০৪:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২

প্রথা ভেঙে বিয়ে, কনে সহযাত্রীদের নিয়ে বরের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে

আপডেট : ০৪:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।

বাংলাদেশে বিয়ের প্রচলিত প্রথা ভেঙে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সদ্য বিবাহিত এক দম্পতি। সমাজে বিয়ের যে প্রচলিত প্রথা রয়েছে সম্প্রতি সেটি ভেঙে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ঝিনাইদহের সদ্য বিবাহিত এক দম্পতি। বুধবার (১৩ জুলাই) বিকাল ৪টায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপ‌জেলার মনোহরপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রথা ভাঙার বিয়ে। আর এ বিয়েতে কনেযাত্রী নিয়ে বরের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করেছেন কনে।


বাংলাদেশের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী বর তার আত্মীয়স্বজনসহ অন্যান্য সহযাত্রীদের নিয়ে কনের বাড়ি যান বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে। এরপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকার ইউএনও’র গাড়ি চালক আব্দুল কাদেরের মেয়ে ইতি সেলিনা এক্ষেত্রে উল্টো কাজটি করেছেন। তিনি তার সহযাত্রীদের নিয়ে একই উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের সামসুদ্দিন লস্করের ছেলে, দীপ্ত টি‌ভির সাংবা‌দিক এমএ মা‌লেক শান্তর বাড়িতে গিয়ে হাজির হন এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

প্রথাগতভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশমুখে যেভাবে বরকে বরণ করা হয়, তেমনি এই বিয়েতেও কনেকে ফুলের মালা পরিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে বরণ করে নেন বরপক্ষের আত্মীয়স্বজন। এরপর বর-কনে আসনে বসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় এবং কনে থেকে যান ছেলের বাড়িতে।

কিন্তু ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা প‌রিষ‌দের আবাসিক এলাকার আব্দুল কা‌দে‌রের মেয়ে সে‌লিনার ক্ষেত্রে ঘটনাটি উল্টো হয়েছে। ব্যতিক্রমধর্মী এই বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহের কমতি ছিলনা। অনুষ্ঠান দেখতে বরের বাড়িতে যেমন উৎসাহী জনতার ভিড় ছিল তেমনি কনের বাড়িতেও অনেক মানুষ জড়ো হন। প্রথার বাইরের এ বিয়ের প্রস্তাবটি আসে মূলত বর শান্তর পক্ষ থেকে। তারা চেয়েছেন এই বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।

এ ব্যাপারে কনে সেলিনা বলেন, ছেলেরা যদি পারে মেয়েদেরকে বিয়ে করে নিয়ে আসতে তাহলে মেয়েরা কেন পারবে না। পুরুষশাসিত সমাজ থেকে মেয়েরা যাতে বেরিয়ে আসতে পারে সেজন্য তিনি কনের বাড়িতে নয়; বরের বাড়িতে কনেযাত্রী নিয়ে বিয়ে করতে এসেছেন। নতুন নিয়মে বিয়ে করতে পেরে আমি অনেক খুশি। প্রথমে ভেবেছিলাম এভাবে বিয়ে করা ঠিক হবে কিনা। কিন্তু পরে আমি সম্মতি জানাই। শুরুতে দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশী আপত্তি জানালেও পরে তারা রাজি হন।
ব্যতিক্রমী এ বিয়ে নিয়ে বর এমএ মালেক শান্ত লস্কর বলেন, প্রচলিত নিয়ম ভেঙে কনে এসেছেন তাদের বাড়িতে বিয়ে করতে। এই বিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে সম্পন্ন হয়েছে। কনে তার পূর্বপরিচিত। ৫ লাখ টাকার দেনমোহরে এ বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফতেমা লিজা বলেন, ব্যতিক্রমী এ বিয়ের কনে ইতি সেলিনা তার পরিবহন ড্রাইভারের কন্যা। বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেযাত্রী হিসাবে আমিও উপস্থিত ছিলাম।
বাংলাদেশের চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী বর তার আত্মীয়-স্বজনসহ সহযাত্রীদের নিয়ে কনের বাড়ি যান বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে। এরপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে কনের বাড়ি থেকে কনেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।