চুয়াডাঙ্গা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট নিয়ে সতর্ক করলো আইইএ প্রধান

Padma Sangbad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট চলছে। হু হু করে বাড়ছে তেল-গ্যাসের দাম। এ অবস্থায় অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বিশ্ব পরিস্থিতি। তাই সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এই সতর্ক করেন। খবর : ব্লুমবার্গ।

আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেছেন, ‘গভীরতা ও জটিলতার দিক থেকে এত বড় জ্বালানি সংকট এর আগে দেখেনি বিশ্ব। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয়তো এখনো আসেনি। এটি সারা বিশ্বকেই ভোগাচ্ছে।’

বিরল বলেন, ‘মূল্যবৃদ্ধির ফলে গ্যাসের ট্যাংক ভরা, ঘরবাড়ি গরম রাখা ও শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহের খরচ সারা বিশ্বেই বাড়ছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং এর ফলে আফ্রিকা থেকে শ্রীলঙ্কায় প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দেখা দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট যেমন জ্বালানি সক্ষমতা ও পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়াতে প্ররোচিত করেছিল, তেমনি এবার হয়তো পরিশুদ্ধ জ্বালানিতে স্থানান্তরে আরও দ্রুত সরকারি নীতি গ্রহণ দেখতে পারে বিশ্ব। ইউরোপে এবারের শীতকাল খুব, খুব কঠিন হবে। এটি একটি বড় উদ্বেগ, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী জেনিফার গ্রানহোম বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বিশৃঙ্খলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। বিশ্বব্যাপী পরিশুদ্ধ জ্বালানির জন্য আমাদের পদক্ষেপ হতে পারে সর্বশ্রেষ্ঠ শান্তি পরিকল্পনা। আমরা শুদ্ধ জ্বালানি চাই এবং তা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এক প্রভাবশালী জ্বালানি সরবরাহকারী- রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিশুদ্ধ জ্বালানিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। গ্রানহোম বলেন, চীন অনেক প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইন নিয়ে কাজ করছে। আমরা যদি নিজস্ব সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি না করি তাহলে সেটি আমাদের দুর্বল করে দিতে পারে।’

আইইএর তথ্যমতে, সৌরবিদ্যুতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার শতকরা ৮০ ভাগই নিয়ন্ত্রণ করে চীন। ২০২৫ সাল নাগাদ এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৯৫ শতাংশ। এ ছাড়া লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি খাতে বেশিরভাগ আধিপত্য চীনের, বায়ু টারবাইনের অন্যতম প্রধান উৎপাদক তারা এবং খুব শিগগির পরিশুদ্ধ হাইড্রোজেন প্রযুক্তি সক্ষমতা তৈরিতেও কাজ করছে দেশটি।

ইউনির্ভাসিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক মার্টিন গ্রিন মনে করেন, চীনের জিনজিয়াং অঞ্চল থেকে পণ্য আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ এবং উচ্চ-কার্বন শক্তি দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানিতে ইউরোপের ট্যাক্সসহ বিভিন্ন বিষয় ভারতের মতো উৎপাদকদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার সুযোগ করে দিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে টালমাটাল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। ওই সময় বিশ্বের বৃহত্তম তেল-গ্যাস রপ্তানিকারক ও নিত্যপণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ছিল রাশিয়া।

আপডেট : ১১:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট নিয়ে সতর্ক করলো আইইএ প্রধান

আপডেট : ১১:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট চলছে। হু হু করে বাড়ছে তেল-গ্যাসের দাম। এ অবস্থায় অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বিশ্ব পরিস্থিতি। তাই সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এই সতর্ক করেন। খবর : ব্লুমবার্গ।

আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেছেন, ‘গভীরতা ও জটিলতার দিক থেকে এত বড় জ্বালানি সংকট এর আগে দেখেনি বিশ্ব। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয়তো এখনো আসেনি। এটি সারা বিশ্বকেই ভোগাচ্ছে।’

বিরল বলেন, ‘মূল্যবৃদ্ধির ফলে গ্যাসের ট্যাংক ভরা, ঘরবাড়ি গরম রাখা ও শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহের খরচ সারা বিশ্বেই বাড়ছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং এর ফলে আফ্রিকা থেকে শ্রীলঙ্কায় প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দেখা দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট যেমন জ্বালানি সক্ষমতা ও পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়াতে প্ররোচিত করেছিল, তেমনি এবার হয়তো পরিশুদ্ধ জ্বালানিতে স্থানান্তরে আরও দ্রুত সরকারি নীতি গ্রহণ দেখতে পারে বিশ্ব। ইউরোপে এবারের শীতকাল খুব, খুব কঠিন হবে। এটি একটি বড় উদ্বেগ, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী জেনিফার গ্রানহোম বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বিশৃঙ্খলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। বিশ্বব্যাপী পরিশুদ্ধ জ্বালানির জন্য আমাদের পদক্ষেপ হতে পারে সর্বশ্রেষ্ঠ শান্তি পরিকল্পনা। আমরা শুদ্ধ জ্বালানি চাই এবং তা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এক প্রভাবশালী জ্বালানি সরবরাহকারী- রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিশুদ্ধ জ্বালানিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। গ্রানহোম বলেন, চীন অনেক প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইন নিয়ে কাজ করছে। আমরা যদি নিজস্ব সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি না করি তাহলে সেটি আমাদের দুর্বল করে দিতে পারে।’

আইইএর তথ্যমতে, সৌরবিদ্যুতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার শতকরা ৮০ ভাগই নিয়ন্ত্রণ করে চীন। ২০২৫ সাল নাগাদ এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৯৫ শতাংশ। এ ছাড়া লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি খাতে বেশিরভাগ আধিপত্য চীনের, বায়ু টারবাইনের অন্যতম প্রধান উৎপাদক তারা এবং খুব শিগগির পরিশুদ্ধ হাইড্রোজেন প্রযুক্তি সক্ষমতা তৈরিতেও কাজ করছে দেশটি।

ইউনির্ভাসিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক মার্টিন গ্রিন মনে করেন, চীনের জিনজিয়াং অঞ্চল থেকে পণ্য আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ এবং উচ্চ-কার্বন শক্তি দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানিতে ইউরোপের ট্যাক্সসহ বিভিন্ন বিষয় ভারতের মতো উৎপাদকদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার সুযোগ করে দিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে টালমাটাল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। ওই সময় বিশ্বের বৃহত্তম তেল-গ্যাস রপ্তানিকারক ও নিত্যপণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ছিল রাশিয়া।