চুয়াডাঙ্গা ০৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাইডেন-জেলেনস্কি ফোনালাপ

Padma Sangbad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান জোরদার হওয়ায় যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) দুই নেতা ফোনে কথা বলেন। জেলেনস্কির দাবি, এটি ছিল একটি দুর্দান্ত কথোপকথন। রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান জেলেনস্কি। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

এক টুইটে জেলেনস্কি বলেন, আমরা আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে জয়ের পথে রয়েছি। ইউক্রেন কীভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরো শক্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে সে ব্যাপারে বাইডেনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধের জন্য রাশিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রাশিয়ান উদ্যোগ ‘অগ্রহণযোগ্য’: ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন নিয়ে রাশিয়ার যে কোনো উদ্যোগ অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি রাশিয়ার নিন্দা করে জানিয়েছে, ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রটি যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা ইউক্রেনের প্রাপ্য। ইউক্রেনীয় পাওয়ার গ্রিড থেকে প্ল্যান্টটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার যে কোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জিন পিয়েরে বলেনে, জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশে একটি নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল সৃষ্টি করতে রাশিয়ার সম্মত হওয়া উচিত।

এদিকে জাপোরিঝিয়া প্ল্যান্টের নিয়মিত বিদ্যুৎ লাইন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের লাইন কেটে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার আবার সংযোগ দেওয়া হয়।

ইউক্রেন এর আগে আইএইএকে জানিয়েছিল, ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ লাইন দিনে অন্তত দুবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে এটি আবার চালু হয়েছে। আইএইএ বিবৃতিতে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে বিভ্রাটের সরাসরি কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত মার্চ মাসে রাশিয়া দখল করে নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রটি বারবার আগুনের মুখে পড়েছে। এতে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বেড়ে যায়। রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়ই একে অপরকে কেন্দ্রের আশপাশে গোলাগুলির জন্য অভিযুক্ত করেছে।

ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, অল্পের জন্য পারমাণবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে বিশ্ব।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে রুশ নিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তেজস্ক্রিয়তা বিপর্যয় নিয়ে ইউরোপজুড়ে শঙ্কা দেখা দেয়। জেলেনস্কি বলেন, শুধু আলাদা বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল থাকার কারণে জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরাপদে কাজ চালিয়ে যেতে পেরেছে।

গত বুধবার তোলা স্যাটেলাইট চিত্রগুলোতে দেখা গেছে, জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক স্থাপনাটির আশপাশে বড় একটি এলাকাজুড়ে আগুন জ্বলছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে বৈদ্যুতিক সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে জাপোরিঝঝিয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আপডেট : ০৮:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অগাস্ট ২০২২

বাইডেন-জেলেনস্কি ফোনালাপ

আপডেট : ০৮:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অগাস্ট ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান জোরদার হওয়ায় যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) দুই নেতা ফোনে কথা বলেন। জেলেনস্কির দাবি, এটি ছিল একটি দুর্দান্ত কথোপকথন। রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান জেলেনস্কি। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

এক টুইটে জেলেনস্কি বলেন, আমরা আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে জয়ের পথে রয়েছি। ইউক্রেন কীভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরো শক্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে সে ব্যাপারে বাইডেনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধের জন্য রাশিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রাশিয়ান উদ্যোগ ‘অগ্রহণযোগ্য’: ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন নিয়ে রাশিয়ার যে কোনো উদ্যোগ অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি রাশিয়ার নিন্দা করে জানিয়েছে, ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রটি যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা ইউক্রেনের প্রাপ্য। ইউক্রেনীয় পাওয়ার গ্রিড থেকে প্ল্যান্টটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার যে কোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জিন পিয়েরে বলেনে, জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশে একটি নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল সৃষ্টি করতে রাশিয়ার সম্মত হওয়া উচিত।

এদিকে জাপোরিঝিয়া প্ল্যান্টের নিয়মিত বিদ্যুৎ লাইন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের লাইন কেটে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার আবার সংযোগ দেওয়া হয়।

ইউক্রেন এর আগে আইএইএকে জানিয়েছিল, ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ লাইন দিনে অন্তত দুবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে এটি আবার চালু হয়েছে। আইএইএ বিবৃতিতে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে বিভ্রাটের সরাসরি কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত মার্চ মাসে রাশিয়া দখল করে নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রটি বারবার আগুনের মুখে পড়েছে। এতে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বেড়ে যায়। রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়ই একে অপরকে কেন্দ্রের আশপাশে গোলাগুলির জন্য অভিযুক্ত করেছে।

ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, অল্পের জন্য পারমাণবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে বিশ্ব।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে রুশ নিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তেজস্ক্রিয়তা বিপর্যয় নিয়ে ইউরোপজুড়ে শঙ্কা দেখা দেয়। জেলেনস্কি বলেন, শুধু আলাদা বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল থাকার কারণে জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরাপদে কাজ চালিয়ে যেতে পেরেছে।

গত বুধবার তোলা স্যাটেলাইট চিত্রগুলোতে দেখা গেছে, জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক স্থাপনাটির আশপাশে বড় একটি এলাকাজুড়ে আগুন জ্বলছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে বৈদ্যুতিক সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে জাপোরিঝঝিয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।