চুয়াডাঙ্গা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শূণ্য ৩ পদ স্কুল ভোটে বাড়িয়েছে উত্তাপ – উত্তেজনা, ভোট কেনাবেচার হিড়িক

Padma Sangbad

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আজ বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন – ২০২২ এর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে। বিদ্যালয়ের চতুর্থতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুইটি শ্রেণি কক্ষে সকাল ১০ টার ভোট গ্রহণ শুরু হবে। বিরতিহীন ভাবে ভোট গ্রহণ চলবে বিকেলে ৪ টা পর্যন্ত।

এবার বিদ্যালয়ে ভোটার রয়েছেন ১৫২ জন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দুইটি প্যানেল থেকে মোট ১০ জন অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচন করছেন। তন্মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় লাভ করবেন ৪ জন পুরুষ ও একজন মহিলা।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনের সদস্য সচিব মো. আশরাফুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ পর্যাপ্ত পুলিশ – প্রশাসনের কঠোর পাহাড়ায় সকাল ১০ টায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে। বিরতিহীন চলবে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত। ভোট ভোটের নিয়মে চলবে। বিদ্যালয়ের এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১৫২ জন। ‘

অপরদিকে বিদ্যালয়ের ভোটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উত্তাপ – উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয়পক্ষই মোটরসাইকেল শো ডাউন, মিটিং, মিছিল করে ও অর্থপ্রদানের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। ওপেন ভোট প্রদান, প্রভাব বিস্তার করা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।

তবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বলছেন, ‘ ভোটে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। ভোটের নিয়মেই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আইন – শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ওসি সাহেব কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি পদের একজন পরিছন্নতাকর্মী, একজন আয়া ও একজন অফিস সহায়ক নামের তিনটি পদ খালী রয়েছে। অবৈধভাবে তিনটি পদে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়োগ বাণিজ্য হতে পারে। সেই নিয়োগ বাণিজ্য লুফে নিতে ভোটে ব্যাপক উত্তাপ – উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। উভয়পক্ষই মোটরসাইকেল শো ডাউন, মিটিং, মিছিল করছেন। প্রতিটি ভোট গোপনে ও সতর্কতার সাথে প্রায় তিন থেকে দশ হাজার টাকায় বেঁচাকেনা চলছে।

আরো জানা গেছে, ভোটে যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান প্যানেলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একই ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সাত্তার। উভয় আওয়ামী লীগ নেতা।

গত সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন লালন বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আব্দুস সাত্তার মেম্বর প্রায় ৪০ টি মোটরসাইকেলে শতাধিক সমর্থক নিয়ে একটি শোডাউন দিচ্ছেন। এরপর রাত ১১ টার দিকে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রায় ৩০ টি মোটরসাইকেল নিয়ে আরো একটি শোডাউন দেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ভবন, বিদ্যালয়ের আশপাশের গাছ, সড়কের দুইপাশ, লালন বাজারের বিভিন্ন দোকানে উভয়পক্ষের পোষ্টার লাগানো রয়েছে।

হাঁসদিয়া গ্রামের ভোটার সেলিম খান বলেন, ‘ চেয়ারম্যান গ্রুপ লোকের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। কিন্তু সাত্তার মেম্বর আমার এলাকার মানুষ হওয়ায় টাকা ফেরত দিয়েছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার বলেন, ‘ স্কুলে পদ খালি থাকায় নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি নিয়োগে প্রায় সাত থেকে দশ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়। তাই ভোট জমে উঠেছে। কেউ পাঁচ হাজার কেউ দশ হাজার টাকার প্রস্তাব দিচ্ছে। কিন্তু ভোট বিক্রি করব না।’

এবিষয়ে যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ প্রতিপক্ষরা ১০/১৫ হাজার টাকা দিয়ে ভোট কিনতেছে। আমার সমর্থকদের টাকা হাতের ভিতর গুজে দিচ্ছেন, কিন্তু তাঁরা ( সমর্থকরা) নিচ্ছেন না। ভোটে চরম উত্তেজনা চলছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানায়।’

যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘ প্রতিপক্ষরা ভোটে ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের ঘোষণা দিয়েছেন। সুষ্ঠ ভোট নিয়ে শঙ্খায় আছি। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য ডিসি স্যার ও ইউএনও স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। নিয়োগ হবে কি না জানিনা।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপার ভাইজার ও গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ‘ ভোটে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। ভোটের নিয়মেই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আইন – শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ওসি সাহেব কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্কুল ভোটে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ কোনোদিন দেখিনি।’

কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘ সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ২০/২৫ জন ফোর্স – অফিসার নিয়োগ থাকবে।’

ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যাপারে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডলকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। সরকারি কাজে ব্যস্ত আছেন বলে রেখে দেন।’

আপডেট : ০৬:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

শূণ্য ৩ পদ স্কুল ভোটে বাড়িয়েছে উত্তাপ – উত্তেজনা, ভোট কেনাবেচার হিড়িক

আপডেট : ০৬:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আজ বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন – ২০২২ এর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে। বিদ্যালয়ের চতুর্থতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুইটি শ্রেণি কক্ষে সকাল ১০ টার ভোট গ্রহণ শুরু হবে। বিরতিহীন ভাবে ভোট গ্রহণ চলবে বিকেলে ৪ টা পর্যন্ত।

এবার বিদ্যালয়ে ভোটার রয়েছেন ১৫২ জন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দুইটি প্যানেল থেকে মোট ১০ জন অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচন করছেন। তন্মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় লাভ করবেন ৪ জন পুরুষ ও একজন মহিলা।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনের সদস্য সচিব মো. আশরাফুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ পর্যাপ্ত পুলিশ – প্রশাসনের কঠোর পাহাড়ায় সকাল ১০ টায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে। বিরতিহীন চলবে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত। ভোট ভোটের নিয়মে চলবে। বিদ্যালয়ের এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১৫২ জন। ‘

অপরদিকে বিদ্যালয়ের ভোটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উত্তাপ – উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয়পক্ষই মোটরসাইকেল শো ডাউন, মিটিং, মিছিল করে ও অর্থপ্রদানের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। ওপেন ভোট প্রদান, প্রভাব বিস্তার করা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।

তবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বলছেন, ‘ ভোটে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। ভোটের নিয়মেই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আইন – শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ওসি সাহেব কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি পদের একজন পরিছন্নতাকর্মী, একজন আয়া ও একজন অফিস সহায়ক নামের তিনটি পদ খালী রয়েছে। অবৈধভাবে তিনটি পদে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়োগ বাণিজ্য হতে পারে। সেই নিয়োগ বাণিজ্য লুফে নিতে ভোটে ব্যাপক উত্তাপ – উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। উভয়পক্ষই মোটরসাইকেল শো ডাউন, মিটিং, মিছিল করছেন। প্রতিটি ভোট গোপনে ও সতর্কতার সাথে প্রায় তিন থেকে দশ হাজার টাকায় বেঁচাকেনা চলছে।

আরো জানা গেছে, ভোটে যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান প্যানেলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একই ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সাত্তার। উভয় আওয়ামী লীগ নেতা।

গত সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন লালন বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আব্দুস সাত্তার মেম্বর প্রায় ৪০ টি মোটরসাইকেলে শতাধিক সমর্থক নিয়ে একটি শোডাউন দিচ্ছেন। এরপর রাত ১১ টার দিকে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রায় ৩০ টি মোটরসাইকেল নিয়ে আরো একটি শোডাউন দেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ভবন, বিদ্যালয়ের আশপাশের গাছ, সড়কের দুইপাশ, লালন বাজারের বিভিন্ন দোকানে উভয়পক্ষের পোষ্টার লাগানো রয়েছে।

হাঁসদিয়া গ্রামের ভোটার সেলিম খান বলেন, ‘ চেয়ারম্যান গ্রুপ লোকের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। কিন্তু সাত্তার মেম্বর আমার এলাকার মানুষ হওয়ায় টাকা ফেরত দিয়েছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার বলেন, ‘ স্কুলে পদ খালি থাকায় নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি নিয়োগে প্রায় সাত থেকে দশ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়। তাই ভোট জমে উঠেছে। কেউ পাঁচ হাজার কেউ দশ হাজার টাকার প্রস্তাব দিচ্ছে। কিন্তু ভোট বিক্রি করব না।’

এবিষয়ে যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ প্রতিপক্ষরা ১০/১৫ হাজার টাকা দিয়ে ভোট কিনতেছে। আমার সমর্থকদের টাকা হাতের ভিতর গুজে দিচ্ছেন, কিন্তু তাঁরা ( সমর্থকরা) নিচ্ছেন না। ভোটে চরম উত্তেজনা চলছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানায়।’

যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘ প্রতিপক্ষরা ভোটে ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের ঘোষণা দিয়েছেন। সুষ্ঠ ভোট নিয়ে শঙ্খায় আছি। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য ডিসি স্যার ও ইউএনও স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। নিয়োগ হবে কি না জানিনা।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপার ভাইজার ও গড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ‘ ভোটে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। ভোটের নিয়মেই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আইন – শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ওসি সাহেব কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্কুল ভোটে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ কোনোদিন দেখিনি।’

কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘ সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ২০/২৫ জন ফোর্স – অফিসার নিয়োগ থাকবে।’

ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যাপারে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডলকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। সরকারি কাজে ব্যস্ত আছেন বলে রেখে দেন।’