চুয়াডাঙ্গা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে

Padma Sangbad

অনলাইন ডেস্ক।।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহত পরিবাররা প্রাপ্য সম্মান পাননি। বরং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শহীদ পরিবাররাই জুলাই সনদ আয়োজনের মূল আকর্ষণ হলেও, তাদের মঞ্চ থেকে দূরে সরিয়ে বসিয়ে অমর্যাদা করা হয়েছে। আহতদের ওপর হামলা চালিয়ে এবং অসম্মান করে জুলাই সনদকে ‘পাওয়ার এলিট’-এর সেটেলমেন্ট বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, শুক্রবার জুলাইয়ের শহীদ ও আহতরা কিছু দাবি নিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঐক্যবদ্ধ কমিশন জুলাই সনদের অঙ্গীকারের পঞ্চম দফা সংশোধনের ঘোষণা দিলেও, শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া হলে তারা রাজপথে নামতে হতো না।

তিনি আরও বলেন, সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান না করে আহত যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করছি।

এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ আয়োজনের সময় আইনগত ভিত্তি ও বৈধতা নিশ্চিত না করে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জাতিকে পরিষ্কার ধারণা না দিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে।

তিনি বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই ৭২ সালের বন্দোবস্ত বিলোপ করে নতুন সাংবিধানিক অগ্রযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিচার সংস্কারের অংশ হিসেবে জুলাই সনদ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশে ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেছে এনসিপি।

আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে জাতিকে ধোঁয়াশায় রাখা হয়েছে। সনদের আইনিভিত্তি হিসেবে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’-এর উল্লেখ নেই। আমরা বলেছি, অভ্যুত্থান-পরবর্তী যেকোনো বন্দোবস্তের নৈতিক ও আইনিভিত্তি থাকতে হবে। কিন্তু সনদে জনগণের মৌলিক সার্বভৌম ক্ষমতার কোনো উল্লেখ নেই।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের আওতাভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের কিছু অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে যা ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। ফলে জুলাই সনদ জনগণের সঙ্গে একটি সাংবিধানিক প্রতারণায় পরিণত হতে পারে।

এ কারণে এনসিপি সরকারপ্রধান ড. ইউনূসকে গণভোটের পূর্বে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ জারির আহ্বান জানিয়েছে, যাতে এর আইনভিত্তি ও বাস্তবায়ন স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

শেষে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদের আইনিভিত্তি নিয়ে আলোচনায় আমরা জনগণের পাশে থাকব। কোনো অবস্থাতেই এটি আইনভিত্তিহীন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিলে পরিণত হবে না। আশা করছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

আপডেট : ১২:৪৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে

আপডেট : ১২:৪৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক।।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহত পরিবাররা প্রাপ্য সম্মান পাননি। বরং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শহীদ পরিবাররাই জুলাই সনদ আয়োজনের মূল আকর্ষণ হলেও, তাদের মঞ্চ থেকে দূরে সরিয়ে বসিয়ে অমর্যাদা করা হয়েছে। আহতদের ওপর হামলা চালিয়ে এবং অসম্মান করে জুলাই সনদকে ‘পাওয়ার এলিট’-এর সেটেলমেন্ট বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, শুক্রবার জুলাইয়ের শহীদ ও আহতরা কিছু দাবি নিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঐক্যবদ্ধ কমিশন জুলাই সনদের অঙ্গীকারের পঞ্চম দফা সংশোধনের ঘোষণা দিলেও, শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া হলে তারা রাজপথে নামতে হতো না।

তিনি আরও বলেন, সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান না করে আহত যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করছি।

এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ আয়োজনের সময় আইনগত ভিত্তি ও বৈধতা নিশ্চিত না করে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জাতিকে পরিষ্কার ধারণা না দিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে।

তিনি বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই ৭২ সালের বন্দোবস্ত বিলোপ করে নতুন সাংবিধানিক অগ্রযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিচার সংস্কারের অংশ হিসেবে জুলাই সনদ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশে ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেছে এনসিপি।

আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে জাতিকে ধোঁয়াশায় রাখা হয়েছে। সনদের আইনিভিত্তি হিসেবে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’-এর উল্লেখ নেই। আমরা বলেছি, অভ্যুত্থান-পরবর্তী যেকোনো বন্দোবস্তের নৈতিক ও আইনিভিত্তি থাকতে হবে। কিন্তু সনদে জনগণের মৌলিক সার্বভৌম ক্ষমতার কোনো উল্লেখ নেই।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের আওতাভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের কিছু অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে যা ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। ফলে জুলাই সনদ জনগণের সঙ্গে একটি সাংবিধানিক প্রতারণায় পরিণত হতে পারে।

এ কারণে এনসিপি সরকারপ্রধান ড. ইউনূসকে গণভোটের পূর্বে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ জারির আহ্বান জানিয়েছে, যাতে এর আইনভিত্তি ও বাস্তবায়ন স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

শেষে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদের আইনিভিত্তি নিয়ে আলোচনায় আমরা জনগণের পাশে থাকব। কোনো অবস্থাতেই এটি আইনভিত্তিহীন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিলে পরিণত হবে না। আশা করছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী কার্যকর উদ্যোগ নেবে।