চুয়াডাঙ্গা ১২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারলো বাংলাদেশ

Padma Sangbad

স্পোর্টস ডেস্ক।।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার হয়ে গেছে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। শেষ বল পর্যন্ত হয়েছে ব্যাটে বলে প্রচন্ড লড়াই। নির্ধারিত ওভারের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত টাই হয়। সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানেও লড়াই হাড্ডাহাড্ডি। শেষ পর্যন্ত জয় পায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল সিরিজ জয়ের মিশন। অন্যদিকে, সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছিলো সমতায় ফেরার মিশন।

আগে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২১৩ রান। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয় উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২১৩ রান। ফলে জয় পায়নি কোন দলই। পরে সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নেমে দশ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাল্টা ব্যাট করতে নেমে নয় রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ফলে হারতে হয়েছে এক রানে।

নির্ধারিত ওভারের শেষ ছয় বলে পাঁচ রান প্রয়োজন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আর বাংলাদেশের দরকার দু’টিউইকেট। সাইফ হাসান প্রথম দুই বলে আকিল হোসেনকে ডট দিলে ম্যাচ জমে ওঠে। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিলে সমীকরণ দাঁড়ায় দুই বলে তিন রান।

পঞ্চম বলে আকিলকে বোল্ড করেন বাংলাদেশের অফস্পিনার। এতে শেষ বলে তিন রানে ব্যাটিং করতে নেমে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন খারি পিয়েরে। কিন্তু স্কয়ার লেগের দিকে দৌড়েও বাঁহাতি ব্যাটারের ক্যাচ তালুবন্দী করে পারেননি উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। বিপরীতে ডাবল নিয়ে ম্যাচকে সমতায় ফেরান হোপ ও পিয়েরে।

সহজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। কেননা দলীয় ১৩৩ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাতটি উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে হোপের (৫৩*) লড়াকু ফিফটিতে ম্যাচ ওয়েস্টও জিতে নিয়েছিল প্রায়। কিন্তু শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ভালো শুরুর আভাস দিলেও দলীয় ৪১ রানের মধ্যে জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সাইফ হাসান ১৬ বলে ছয় ও তাওহিদ হৃদয় ১৯ বলে ১২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।

এরপর নাজমুল হাসান শান্তকে সঙ্গে নিয়ে শুরুর চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ৬৮ রানে ২১ বলে ১৫ রান করে আউট হন শান্ত। তবে একপাশ আগলে রেখে রানের চালা সচল রাখেন সৌম্য ও মাহিদুল অঙ্কন।

তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি এই দুই ব্যাটার। অঙ্কন ৩৫ বলে ১৭ ও সৌম্য ৮৯ বলে ৪৫ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। তাদের বিদায়ে পর ক্রিজে এসেই ফিরে যান নাসুম আহমেদ। এতে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও নুরুল হাসান সোহান মিলে প্রতিরোধ গড়েন। তবে দলীয় ১৬৩ রানে ২৪ বলে ২৩ রান করে আউট হন সোহান।

এরপর ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন রিশাদ হোসেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ১৪ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন এই অলরাউন্ডার।

রিশাদের এমন ঝড়ো ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ৫৮ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে গুড়াকেশ মোতি নেন তিনটি উইকেট।

আপডেট : ১১:৪০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারলো বাংলাদেশ

আপডেট : ১১:৪০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

স্পোর্টস ডেস্ক।।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার হয়ে গেছে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। শেষ বল পর্যন্ত হয়েছে ব্যাটে বলে প্রচন্ড লড়াই। নির্ধারিত ওভারের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত টাই হয়। সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানেও লড়াই হাড্ডাহাড্ডি। শেষ পর্যন্ত জয় পায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল সিরিজ জয়ের মিশন। অন্যদিকে, সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছিলো সমতায় ফেরার মিশন।

আগে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২১৩ রান। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয় উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২১৩ রান। ফলে জয় পায়নি কোন দলই। পরে সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নেমে দশ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাল্টা ব্যাট করতে নেমে নয় রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ফলে হারতে হয়েছে এক রানে।

নির্ধারিত ওভারের শেষ ছয় বলে পাঁচ রান প্রয়োজন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আর বাংলাদেশের দরকার দু’টিউইকেট। সাইফ হাসান প্রথম দুই বলে আকিল হোসেনকে ডট দিলে ম্যাচ জমে ওঠে। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিলে সমীকরণ দাঁড়ায় দুই বলে তিন রান।

পঞ্চম বলে আকিলকে বোল্ড করেন বাংলাদেশের অফস্পিনার। এতে শেষ বলে তিন রানে ব্যাটিং করতে নেমে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন খারি পিয়েরে। কিন্তু স্কয়ার লেগের দিকে দৌড়েও বাঁহাতি ব্যাটারের ক্যাচ তালুবন্দী করে পারেননি উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। বিপরীতে ডাবল নিয়ে ম্যাচকে সমতায় ফেরান হোপ ও পিয়েরে।

সহজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। কেননা দলীয় ১৩৩ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাতটি উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে হোপের (৫৩*) লড়াকু ফিফটিতে ম্যাচ ওয়েস্টও জিতে নিয়েছিল প্রায়। কিন্তু শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ভালো শুরুর আভাস দিলেও দলীয় ৪১ রানের মধ্যে জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সাইফ হাসান ১৬ বলে ছয় ও তাওহিদ হৃদয় ১৯ বলে ১২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।

এরপর নাজমুল হাসান শান্তকে সঙ্গে নিয়ে শুরুর চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ৬৮ রানে ২১ বলে ১৫ রান করে আউট হন শান্ত। তবে একপাশ আগলে রেখে রানের চালা সচল রাখেন সৌম্য ও মাহিদুল অঙ্কন।

তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি এই দুই ব্যাটার। অঙ্কন ৩৫ বলে ১৭ ও সৌম্য ৮৯ বলে ৪৫ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। তাদের বিদায়ে পর ক্রিজে এসেই ফিরে যান নাসুম আহমেদ। এতে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও নুরুল হাসান সোহান মিলে প্রতিরোধ গড়েন। তবে দলীয় ১৬৩ রানে ২৪ বলে ২৩ রান করে আউট হন সোহান।

এরপর ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন রিশাদ হোসেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ১৪ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন এই অলরাউন্ডার।

রিশাদের এমন ঝড়ো ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ৫৮ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে গুড়াকেশ মোতি নেন তিনটি উইকেট।