চুয়াডাঙ্গা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠিতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে নদীতে নামছে জেলেরা

Padma Sangbad

অনলাইন ডেস্ক।।
ঝালকাঠি অঞ্চলের নদীগুলো আবারও মুখর জেলেদের জালে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে শনিবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকেই ইলিশ ধরার জন্য নেমে পড়বেন জেলেরা। প্রতি বছরের মতো এবারও ইলিশের পেটে ডিম থাকার সময় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার, যাতে মাছটি প্রজননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

এই সময়ে ইলিশ মাছের পেটে ডিম থাকে বলে প্রজননের সুযোগ দিতে সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সঠিকভাবে বংশবৃদ্ধি ঘটলে নদীগুলোতে ইলিশে ভরে ওঠে, যা জাতীয় মাছের টেকসই উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। তবে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে কিছু জেলে গোপনে মাছ ধরতে নামায় প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাতে বাধ্য হয়। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটক ও শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ জেলেই দিন আনে দিন খায়। তাদের অনেকেরই কোনো সঞ্চয় নেই; প্রতিদিনের আয়ে চলে সংসার। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ অনেকের।
কেউ কিস্তির টাকা, কেউ সন্তানের ওষুধ বা স্কুলের খরচ চালাতে গিয়ে বাধ্য হয়েই মাঝনদীতে নেমেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। ফলে নিষেধাজ্ঞার এই সময়টি তাদের জীবনে যেন দুর্বিষহ বাস্তবতা হয়ে দেখা দিয়েছে।

সরকারি উদ্যোগে ইলিশের প্রজনন রক্ষা সম্ভব হলেও সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন— এত ত্যাগ-তিতিক্ষার পরও দেশের মানুষ কি সহজলভ্যভাবে ইলিশ খেতে পারবে?
তাদের দাবি, দেশের মানুষের চাহিদা পূরণের আগে ইলিশ বিদেশে রপ্তানি বন্ধ রাখা উচিত। কারণ, গত কয়েক বছরে অভিযান ও নিষেধাজ্ঞা শতভাগ সফল হলেও স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বছর ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনের তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। এখন দেখার বিষয়— এই উদ্যোগের সুফল দেশের মানুষ কতটা ভোগ করতে পারে।
জাতীয় মাছ “ইলিশ” আবারও ঘরে ঘরে সহজলভ্য হবে কিনা, সেটিই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।

আপডেট : ০৪:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

ঝালকাঠিতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে নদীতে নামছে জেলেরা

আপডেট : ০৪:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক।।
ঝালকাঠি অঞ্চলের নদীগুলো আবারও মুখর জেলেদের জালে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে শনিবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকেই ইলিশ ধরার জন্য নেমে পড়বেন জেলেরা। প্রতি বছরের মতো এবারও ইলিশের পেটে ডিম থাকার সময় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার, যাতে মাছটি প্রজননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

এই সময়ে ইলিশ মাছের পেটে ডিম থাকে বলে প্রজননের সুযোগ দিতে সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সঠিকভাবে বংশবৃদ্ধি ঘটলে নদীগুলোতে ইলিশে ভরে ওঠে, যা জাতীয় মাছের টেকসই উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। তবে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে কিছু জেলে গোপনে মাছ ধরতে নামায় প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাতে বাধ্য হয়। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটক ও শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ জেলেই দিন আনে দিন খায়। তাদের অনেকেরই কোনো সঞ্চয় নেই; প্রতিদিনের আয়ে চলে সংসার। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ অনেকের।
কেউ কিস্তির টাকা, কেউ সন্তানের ওষুধ বা স্কুলের খরচ চালাতে গিয়ে বাধ্য হয়েই মাঝনদীতে নেমেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। ফলে নিষেধাজ্ঞার এই সময়টি তাদের জীবনে যেন দুর্বিষহ বাস্তবতা হয়ে দেখা দিয়েছে।

সরকারি উদ্যোগে ইলিশের প্রজনন রক্ষা সম্ভব হলেও সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন— এত ত্যাগ-তিতিক্ষার পরও দেশের মানুষ কি সহজলভ্যভাবে ইলিশ খেতে পারবে?
তাদের দাবি, দেশের মানুষের চাহিদা পূরণের আগে ইলিশ বিদেশে রপ্তানি বন্ধ রাখা উচিত। কারণ, গত কয়েক বছরে অভিযান ও নিষেধাজ্ঞা শতভাগ সফল হলেও স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বছর ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনের তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। এখন দেখার বিষয়— এই উদ্যোগের সুফল দেশের মানুষ কতটা ভোগ করতে পারে।
জাতীয় মাছ “ইলিশ” আবারও ঘরে ঘরে সহজলভ্য হবে কিনা, সেটিই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।