চুয়াডাঙ্গা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নভেম্বরে গণভোট চায় জামায়াতসহ আট দল

Padma Sangbad

অনলাইন ডেস্ক।।
জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দিতে নভেম্বরে গণভোট আয়োজনের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আটটি দল। স্মারকলিপিতে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) আর কোনো সংশোধন না আনাসহ সংশোধিত অধ্যাদেশ কার্যকর করা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চত করার দাবি জানানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আটটি দলের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকও করেন সিইসি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ছাত্র-জনতার রক্তের স্বীকৃতি দিতে হবে। সেজন্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একদিনে করা যাবে না। কিছু দল এ প্রস্তাব করলেও আমরা আটটি দল বলেছিÑ জুলাই সনদের স্বীকৃতির জন্য জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট শেষ করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস, এই দাবির আলোকে ইসি পদক্ষেপ নেবে।

আবদুল হালিম বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশোধিত আরপিও। উপদেষ্টা পরিষদ যেটি অনুমোদন করেছে, সেটিকে হুবহু বহাল রাখতে হবে। এখানে কোনো কাটাছেঁড়া বা সংশোধনী আনা যাবে না। সরকার যেটা অনুমোদন করেছে, সেটাকেই কার্যকর করে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। নোয়াখালী ও নওগাঁসহ অনেক জায়গায় নারী প্রার্থীদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দাবি পূরণে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কোনো আলটিমেটাম দিয়েছেন কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ আমরা কোনো আলটিমেটাম দিইনি। তবে আমাদের আট দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছেÑ এই স্মারকলিপির পর কয়েক দিন অপেক্ষা করে আগামী ৩ নভেম্বর জাতীয় শীর্ষনেতারা বসে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ইসির সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসু ও তাঁরা দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন বলে এই জামায়াত নেতা জানান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ নেজাম ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুসা বিন নেজার, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পাটির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

স্মারকলিপি পেশের আগে নির্বাচন ভবন সংলগ্ন আগারগাঁও পাকা মার্কেট সড়কে জামায়াতে ইসলামী এবং নির্বাচন ভবনের সামনে ইসলামী আন্দোলন পৃথক সমাবেশ করে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি ও নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলসহ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছে দলগুলো। পাঁচ দফা দাবিতে আরও রয়েছেÑ আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং’ স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

আপডেট : ১০:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

নভেম্বরে গণভোট চায় জামায়াতসহ আট দল

আপডেট : ১০:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক।।
জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দিতে নভেম্বরে গণভোট আয়োজনের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আটটি দল। স্মারকলিপিতে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) আর কোনো সংশোধন না আনাসহ সংশোধিত অধ্যাদেশ কার্যকর করা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চত করার দাবি জানানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আটটি দলের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকও করেন সিইসি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ছাত্র-জনতার রক্তের স্বীকৃতি দিতে হবে। সেজন্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একদিনে করা যাবে না। কিছু দল এ প্রস্তাব করলেও আমরা আটটি দল বলেছিÑ জুলাই সনদের স্বীকৃতির জন্য জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট শেষ করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস, এই দাবির আলোকে ইসি পদক্ষেপ নেবে।

আবদুল হালিম বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশোধিত আরপিও। উপদেষ্টা পরিষদ যেটি অনুমোদন করেছে, সেটিকে হুবহু বহাল রাখতে হবে। এখানে কোনো কাটাছেঁড়া বা সংশোধনী আনা যাবে না। সরকার যেটা অনুমোদন করেছে, সেটাকেই কার্যকর করে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। নোয়াখালী ও নওগাঁসহ অনেক জায়গায় নারী প্রার্থীদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দাবি পূরণে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কোনো আলটিমেটাম দিয়েছেন কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ আমরা কোনো আলটিমেটাম দিইনি। তবে আমাদের আট দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছেÑ এই স্মারকলিপির পর কয়েক দিন অপেক্ষা করে আগামী ৩ নভেম্বর জাতীয় শীর্ষনেতারা বসে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ইসির সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসু ও তাঁরা দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন বলে এই জামায়াত নেতা জানান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ নেজাম ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুসা বিন নেজার, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পাটির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

স্মারকলিপি পেশের আগে নির্বাচন ভবন সংলগ্ন আগারগাঁও পাকা মার্কেট সড়কে জামায়াতে ইসলামী এবং নির্বাচন ভবনের সামনে ইসলামী আন্দোলন পৃথক সমাবেশ করে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি ও নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলসহ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছে দলগুলো। পাঁচ দফা দাবিতে আরও রয়েছেÑ আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং’ স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।