নির্বাচন কমিশন মাঠ সাজাবে তফসিলের পর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ সাজাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ইসি বার্তা দিয়েছে যে, তফসিল ঘোষণার পর মাঠ প্রশাসনে ‘বড়’ রদবদলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া নির্বাচন আয়োজনের জন্য আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্য কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সভায় যোগ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, অর্থসচিব, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সংস্থার প্রধানরা।
আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে বদলি নিয়ে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তফসিল ঘোষণার পর আমরাও সেভাবে জানাব। তিনি বলেন, বৈঠকে ভোটকেন্দ্র মেরামত নিয়ে কথা হয়েছে। তারা বলেছে ব্যবস্থা নেবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার সুষ্ঠু প্যানেল করতে পারব বলে আশা করি। পার্বত্য এলাকায় হেলিপ্যাড নির্মাণ, ভোটের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সরকারি প্রচারযন্ত্রে প্রচার, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা সহজীকরণ, ঋণখেলাপিদের চিহ্নিতকরণ, বিভিন্ন বাহিনীর সাশ্রয়ী বাজেট, আচরণবিধি প্রতিপালনে পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগ, পরীক্ষায় যেন প্রভাব না পড়ে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, মেডিক্যাল টিম গঠন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সচিব আরও বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগেভাগে প্রস্তুত করে রাখে। প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল তৈরি করা হচ্ছে।
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ১৬ নভেম্বর অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও ভুল প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে যেন বিভ্রান্ত করা না হয়, সঠিক তথ্য প্রবাহটা যেন নিশ্চিত করা হয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাসহ অন্যান্য যে শৃঙ্খলা, যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাÑ এটা রেগুলার পদ্ধতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করবে।
আখতার আহমেদ বলেন, আরেকটি প্রশ্ন এসেছিলÑ মাঠ পর্যায়ে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং পুলিশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়টি নিয়ে। বদলি হবেন এবং মাঠ প্রশাসনে যে সব বদল হবে, সেটা প্রাথমিকভাবে এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব পরিপ্রেক্ষিতে কাজ করছে। পরবর্তীতে যখন নির্বাচনের তফসিল হবে, তাদের সেভাবে জানাব।
নির্বাচনী প্রচার ও জনসচেতনতা কার্যক্রম বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নেতৃত্বে কাজ করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। ইসি সংসদ টেলিভিশনের এয়ারটাইম এবং বিটিভি নিউজের ফ্ল্যাশ বার্তা ব্যবহার করে ভোটার সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আগমনের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে ইসি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি সভায় জানানো হয়, ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ ও প্রদানের জন্য তাদের চার-পাঁচ দিন সময় প্রয়োজন। ইসি তাদের সময় দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানায়। নির্বাচনী বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, অর্থ বিভাগের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তবে সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় খরচ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ব্যয় না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
আটটি দল নভেম্বরে গণভোট চেয়েছে, এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেনÑ নির্বাচনের সঙ্গে তিনটি মূল ধারা রয়েছে। একটি হচ্ছে রাজনৈতিক দল, ভোটার এবং নির্বাচন কমিশন। কাজেই এই তিনটি মেইন স্ট্রিম একটি আরেকটির সঙ্গে ইন্টারঅ্যাক্ট করতেই আসবে। এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এলেই আমরা চের মধ্যে আছি। এটা চিন্তা করাটা অত্যন্ত অমূলক।





















