চুয়াডাঙ্গা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কয়েদিদের ফুল দিয়ে বরণ করে খুলনায় আধুনিক নতুন জেলা কারাগারের উদ্বোধন

Padma Sangbad

খুলনা সংবাদদাতা।।
দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলনার নতুন ও আধুনিক জেলা কারাগার চালু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০০ জন বন্দিকে নিয়ে এ কারাগারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার প্রধান নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন সকাল ১০টা থেকে পুরাতন খুলনা জেলা কারাগার থেকে কয়েদি স্থানান্তর শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজন ভ্যানে করে কয়েদিদের নতুন কারাগারে আনা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ নতুন বন্দিদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
পর্যায়ক্রমে জেলার নয় উপজেলার কয়েদি ও হাজতিদের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। পুরাতন কারাগারে খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার বন্দিদের রাখা হবে।

জেল সুপার প্রধান নাসির উদ্দিন জানান, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১০০ কয়েদি দিয়ে নতুন কারাগারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”
এর আগে, গত ২৫ অক্টোবর এক বোর্ড সভায় উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও কারা অধিদপ্তরের হেডকোয়ার্টারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু হয়।

ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত ১৯১২ সালে নির্মিত পুরাতন খুলনা কারাগারটি মহানগর কারাগার হিসেবে চালু থাকবে। সেখানে বন্দিদের ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৬৭৮ জন।

নতুন জেলা কারাগারটি খুলনা শহরের বাইপাস সড়কের জিরো পয়েন্টের কাছে ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত। ২৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক কারাগারে মোট ৫২টি ভবন রয়েছে।
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সংশোধনাগার হিসেবে নকশা করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে ৪ হাজার বন্দি থাকার সুযোগ রয়েছে। বিচারাধীন ও দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য পৃথক ইউনিট ছাড়াও কিশোর ও নারী বন্দিদের জন্য রয়েছে আলাদা আবাসন ব্যবস্থা।

নতুন খুলনা জেলা কারাগারে বন্দি ও কারারক্ষীদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে— ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল, ওয়ার্কশপ ও পাঠাগার, কারারক্ষীদের সন্তানদের জন্য বিদ্যালয়, নারী বন্দিদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার, নারী বন্দিদের বিনোদনের জন্য আলাদা কেন্দ্র।

কারা কর্তৃপক্ষের মতে, এই নতুন জেলা কারাগার চালুর মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের বন্দি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এটি শুধু কারাবাসের স্থান নয়, বরং বন্দিদের পুনর্বাসন ও মানবিক বিকাশের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে।

আপডেট : ০১:২৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

কয়েদিদের ফুল দিয়ে বরণ করে খুলনায় আধুনিক নতুন জেলা কারাগারের উদ্বোধন

আপডেট : ০১:২৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

খুলনা সংবাদদাতা।।
দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলনার নতুন ও আধুনিক জেলা কারাগার চালু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০০ জন বন্দিকে নিয়ে এ কারাগারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার প্রধান নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন সকাল ১০টা থেকে পুরাতন খুলনা জেলা কারাগার থেকে কয়েদি স্থানান্তর শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজন ভ্যানে করে কয়েদিদের নতুন কারাগারে আনা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ নতুন বন্দিদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
পর্যায়ক্রমে জেলার নয় উপজেলার কয়েদি ও হাজতিদের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। পুরাতন কারাগারে খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার বন্দিদের রাখা হবে।

জেল সুপার প্রধান নাসির উদ্দিন জানান, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১০০ কয়েদি দিয়ে নতুন কারাগারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”
এর আগে, গত ২৫ অক্টোবর এক বোর্ড সভায় উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও কারা অধিদপ্তরের হেডকোয়ার্টারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু হয়।

ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত ১৯১২ সালে নির্মিত পুরাতন খুলনা কারাগারটি মহানগর কারাগার হিসেবে চালু থাকবে। সেখানে বন্দিদের ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৬৭৮ জন।

নতুন জেলা কারাগারটি খুলনা শহরের বাইপাস সড়কের জিরো পয়েন্টের কাছে ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত। ২৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক কারাগারে মোট ৫২টি ভবন রয়েছে।
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সংশোধনাগার হিসেবে নকশা করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে ৪ হাজার বন্দি থাকার সুযোগ রয়েছে। বিচারাধীন ও দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য পৃথক ইউনিট ছাড়াও কিশোর ও নারী বন্দিদের জন্য রয়েছে আলাদা আবাসন ব্যবস্থা।

নতুন খুলনা জেলা কারাগারে বন্দি ও কারারক্ষীদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে— ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল, ওয়ার্কশপ ও পাঠাগার, কারারক্ষীদের সন্তানদের জন্য বিদ্যালয়, নারী বন্দিদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার, নারী বন্দিদের বিনোদনের জন্য আলাদা কেন্দ্র।

কারা কর্তৃপক্ষের মতে, এই নতুন জেলা কারাগার চালুর মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের বন্দি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এটি শুধু কারাবাসের স্থান নয়, বরং বন্দিদের পুনর্বাসন ও মানবিক বিকাশের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে।