চুয়াডাঙ্গা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে রহস্যজনক মৃত্যু: পরকীয়ার গুঞ্জন নাকি পারিবারিক নির্যাতনের জটিল ফাঁদে শিল্পী মল্লিক? স্বামী পুলিশ হেফাজতে

Padma Sangbad

যশোর সংবাদদাতা।।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি আত্মহত্যা হতে পারে; তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

রবিবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে শিল্পী মল্লিক (২০) নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ নিজ শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিল্পী যশোর সদর উপজেলার সাড়াপোল-রুপদিয়া গ্রামের অনন্ত মল্লিকের মেয়ে এবং হরিনা গ্রামের রনি রায়ের স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বামী রনি রায়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের চার বছর পর থেকে শিল্পী ও রনির সংসারে নানা কলহ চলছিল। রনির মা দীপ্ত রায়ের সঙ্গে এক প্রতিবেশীর অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে শিল্পীর আপত্তির পর থেকেই ঘরে অশান্তি বেড়ে যায়। অন্যদিকে, স্বামীপক্ষ অভিযোগ করেছে—শিল্পীরই এক প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শিল্পী নিজ ঘরে যান এবং কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। রনি ও তার পরিবারের দাবি—শিল্পী মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন।

তবে শিল্পীর পরিবার এই দাবি মানতে নারাজ। তারা অভিযোগ করেন, শাশুড়ির পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় রনি ও তার মা দীপ্ত রায় মিলে শিল্পীকে নির্যাতন করতেন এবং শেষ পর্যন্ত শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। নিহতের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

নিহতের ভাই মহিত মল্লিক বলেন, “আমার বোন কোনো দিন এমন কাজ করতে পারে না। ওকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন তারা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চায়।”

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রনি রায় ও তার মা দীপ্ত রায়কে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, শিল্পীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ থাকা প্রতিবেশী ইমন রায় ও দীপ্ত রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত গনেশ ডাক্তার ঘটনাস্থল ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মণিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন,আমরা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপডেট : ০১:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

মণিরামপুরে রহস্যজনক মৃত্যু: পরকীয়ার গুঞ্জন নাকি পারিবারিক নির্যাতনের জটিল ফাঁদে শিল্পী মল্লিক? স্বামী পুলিশ হেফাজতে

আপডেট : ০১:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

যশোর সংবাদদাতা।।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি আত্মহত্যা হতে পারে; তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

রবিবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে শিল্পী মল্লিক (২০) নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ নিজ শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিল্পী যশোর সদর উপজেলার সাড়াপোল-রুপদিয়া গ্রামের অনন্ত মল্লিকের মেয়ে এবং হরিনা গ্রামের রনি রায়ের স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বামী রনি রায়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের চার বছর পর থেকে শিল্পী ও রনির সংসারে নানা কলহ চলছিল। রনির মা দীপ্ত রায়ের সঙ্গে এক প্রতিবেশীর অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে শিল্পীর আপত্তির পর থেকেই ঘরে অশান্তি বেড়ে যায়। অন্যদিকে, স্বামীপক্ষ অভিযোগ করেছে—শিল্পীরই এক প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শিল্পী নিজ ঘরে যান এবং কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। রনি ও তার পরিবারের দাবি—শিল্পী মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন।

তবে শিল্পীর পরিবার এই দাবি মানতে নারাজ। তারা অভিযোগ করেন, শাশুড়ির পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় রনি ও তার মা দীপ্ত রায় মিলে শিল্পীকে নির্যাতন করতেন এবং শেষ পর্যন্ত শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। নিহতের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

নিহতের ভাই মহিত মল্লিক বলেন, “আমার বোন কোনো দিন এমন কাজ করতে পারে না। ওকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন তারা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চায়।”

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রনি রায় ও তার মা দীপ্ত রায়কে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, শিল্পীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ থাকা প্রতিবেশী ইমন রায় ও দীপ্ত রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত গনেশ ডাক্তার ঘটনাস্থল ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মণিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন,আমরা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।