চুয়াডাঙ্গা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিজয় ভাষণে ট্রাম্পকে খোঁচা মামদানির, যা বললেন

Padma Sangbad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
নিউইয়র্কে মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে জয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই নেতা।

মঙ্গলবার রাতের উদযাপনে মামদানি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমি জানি আপনি দেখছেন, আপনার জন্য আমার চারটি শব্দ। আপনি ভলিউমটা বাড়িয়ে নিন!’

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, মামদানি জিতলে ফেডারেল তহবিল আটকে দিতে পারেন এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।

মামদানি বলেন, ‘নিউইয়র্ক অভিবাসীদের শহরই থাকবে, অভিবাসীরা এই শহর তৈরি করেছেন, অভিবাসীরা এই শহর চালাচ্ছেন এবং আজ রাত থেকে শহরের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন একজন অভিবাসী।’

ট্রাম্প অবশ্য মামদানির নাম উল্লেখ না করেই ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘অ্যান্ড সো ইট বিগিনস (শুরুটা হয়েই গেল)!’

মামদানি ভোটের দিন পর্যন্ত জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন ৪৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে। কুয়োমোর সমর্থন ছিল ৩২ শতাংশ, আর রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ার সমর্থন ছিল ১৬ শতাংশ।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুয়োমোর পাশে দাঁড়ান এবং বলেন- প্রার্থী স্লিওয়াকে ভোট দেওয়া মানে মামদানিকে ভোট দেওয়া। তবে স্লিওয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

ব্রুকলিনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শ্রমজীবী মানুষকে ধনী ও ক্ষমতাবানরা বোঝাতে চেয়েছে যে ক্ষমতা তাদের হাতে নয়। কিন্তু গত এক বছরে আপনারা প্রমাণ করেছেন, আপনাদের হাতেই সেই ক্ষমতা। আজকের এই জয় অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি রাজনৈতিক বংশের পতন ঘটিয়েছি।’

প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমোকে উদ্দেশ করে মামদানি বলেন, ‘আমি তার ব্যক্তিজীবনের জন্য শুভকামনা জানাই। তবে আজকের পর তার নাম আর উচ্চারণ করতে চাই না।’

নিজের নীতিমালা তুলে ধরে মামদানি বলেন, ‘এই নির্বাচনে জনগণ ‘পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে’ এবং এমন এক শহরের পক্ষে রায় দিয়েছে, যেখানে সবাই বসবাস করতে পারবে।’

তিনি নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান-ইয়েমেনি মুদি দোকান মালিক, সেনেগালিজ ট্যাক্সিচালক, উজবেক নার্স এবং ইথিওপীয় ‘আন্টি’-দের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই শহর আপনাদের হাতেই গড়ে উঠেছে।’

বক্তৃতায় মামদানি আবেগআপ্লুত হয়ে তার বাবা-মা ও স্ত্রী রামার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমি যা হয়েছি, তা বাবা-মায়ের জন্যই।’

নিউইয়র্ক সিটি ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই কারণে মামদানি ভোটের দিন পর্যন্ত শহরের নতুন মেয়র হওয়ার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন। এই শহরে শেষবার কোনো রিপাবলিকান মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০০১ সালে।

জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করে ইতিহাস রচনা করেছেন। এছাড়া তিনি নিউইয়র্ক শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দাপট দেখিয়েছেন।

৩৪ বছর বয়সী এই গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক ও কুইন্স থেকে নির্বাচিত রাজ্য পরিষদের সদস্য ৫০% -এর বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। কুয়োমো মাত্র ৪০% -এর কিছু বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন, আর রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে ৭% -এর সমান্য বেশি ভোট পেয়েছেন।

মামদানির ঐতিহাসিক জয় ঘিরে দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের উৎসব চলছে।

আপডেট : ০২:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

বিজয় ভাষণে ট্রাম্পকে খোঁচা মামদানির, যা বললেন

আপডেট : ০২:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
নিউইয়র্কে মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে জয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই নেতা।

মঙ্গলবার রাতের উদযাপনে মামদানি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমি জানি আপনি দেখছেন, আপনার জন্য আমার চারটি শব্দ। আপনি ভলিউমটা বাড়িয়ে নিন!’

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, মামদানি জিতলে ফেডারেল তহবিল আটকে দিতে পারেন এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।

মামদানি বলেন, ‘নিউইয়র্ক অভিবাসীদের শহরই থাকবে, অভিবাসীরা এই শহর তৈরি করেছেন, অভিবাসীরা এই শহর চালাচ্ছেন এবং আজ রাত থেকে শহরের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন একজন অভিবাসী।’

ট্রাম্প অবশ্য মামদানির নাম উল্লেখ না করেই ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘অ্যান্ড সো ইট বিগিনস (শুরুটা হয়েই গেল)!’

মামদানি ভোটের দিন পর্যন্ত জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন ৪৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে। কুয়োমোর সমর্থন ছিল ৩২ শতাংশ, আর রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ার সমর্থন ছিল ১৬ শতাংশ।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুয়োমোর পাশে দাঁড়ান এবং বলেন- প্রার্থী স্লিওয়াকে ভোট দেওয়া মানে মামদানিকে ভোট দেওয়া। তবে স্লিওয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

ব্রুকলিনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শ্রমজীবী মানুষকে ধনী ও ক্ষমতাবানরা বোঝাতে চেয়েছে যে ক্ষমতা তাদের হাতে নয়। কিন্তু গত এক বছরে আপনারা প্রমাণ করেছেন, আপনাদের হাতেই সেই ক্ষমতা। আজকের এই জয় অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি রাজনৈতিক বংশের পতন ঘটিয়েছি।’

প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমোকে উদ্দেশ করে মামদানি বলেন, ‘আমি তার ব্যক্তিজীবনের জন্য শুভকামনা জানাই। তবে আজকের পর তার নাম আর উচ্চারণ করতে চাই না।’

নিজের নীতিমালা তুলে ধরে মামদানি বলেন, ‘এই নির্বাচনে জনগণ ‘পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে’ এবং এমন এক শহরের পক্ষে রায় দিয়েছে, যেখানে সবাই বসবাস করতে পারবে।’

তিনি নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান-ইয়েমেনি মুদি দোকান মালিক, সেনেগালিজ ট্যাক্সিচালক, উজবেক নার্স এবং ইথিওপীয় ‘আন্টি’-দের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই শহর আপনাদের হাতেই গড়ে উঠেছে।’

বক্তৃতায় মামদানি আবেগআপ্লুত হয়ে তার বাবা-মা ও স্ত্রী রামার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমি যা হয়েছি, তা বাবা-মায়ের জন্যই।’

নিউইয়র্ক সিটি ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই কারণে মামদানি ভোটের দিন পর্যন্ত শহরের নতুন মেয়র হওয়ার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন। এই শহরে শেষবার কোনো রিপাবলিকান মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০০১ সালে।

জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করে ইতিহাস রচনা করেছেন। এছাড়া তিনি নিউইয়র্ক শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দাপট দেখিয়েছেন।

৩৪ বছর বয়সী এই গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক ও কুইন্স থেকে নির্বাচিত রাজ্য পরিষদের সদস্য ৫০% -এর বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। কুয়োমো মাত্র ৪০% -এর কিছু বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন, আর রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে ৭% -এর সমান্য বেশি ভোট পেয়েছেন।

মামদানির ঐতিহাসিক জয় ঘিরে দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের উৎসব চলছে।