চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা ।।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ এ শ্লোগানকে ধারন করে চুয়াডাঙ্গায় দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জাতীয় পতাকা ও দুর্নীতির দমন কমিশনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে প্রধান সড়কে মানববন্ধন গড়ে তোলা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন দপ্তরের ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, দুনীতি দমন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, দুনীতি দমন কমিশন সমন্বিত ঝিনাইদহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব রেবেকা সুলতানা।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস এটা শুধুমাত্র একটা দেশে না, এটা বিশ্বব্যাপী রয়েছে। দুর্নীতি কোথাও কম রয়েছে, কোথাও বেশি রয়েছে। আমরা যদি র্যাংকিং দেখি, তাহলে আমাদের অবস্থানটা কিন্তু অনেক উপরে দুর্নীতি করার বিষয়ে। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাধীন হয়েছিলাম, সেই লক্ষ্য উদ্দেশ্য কিন্তু আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছিল অর্থনৈতিক মুক্তিসহ সকল দিকে আমরা ভালো থাকবো সেই জন্য। আমাদের সেই উদ্দেশ্য কিন্তু সফল হয়নি। এখনো পর্যন্ত আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি রয়ে গিয়েছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, সামাজিক পর্যায়ে সকল পর্যায়ে আমাদের দুর্নীতির প্রভাব এবং মাত্রা অনেক বেশি। সেই মাত্রাটাকে কিভাবে কমানো যায় আমাদের প্রত্যেকের জায়গা থেকে সেই কাজ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে আমাদের একতাবদ্ধ হওয়া খুবই জরুরি। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যক্রম গ্রহণ করা গেলে সমাজে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া, আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধিকরণসহ নাগরিকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ সমাজসহ সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা যেন ভালো মতো নৈতিকতার সাথে ছেলে মেয়েকে গড়ে তুলি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা যেন এর সাথে থাকে। সামাজিক যে প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে যেমন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে যদি আমাদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয় তাহলে দুর্নীতির পরিমাণ অনেকটাই কমে যেতে পারে। আমাদের দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমত আমাদের মধ্যে নৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে হবে। আমাদের মাঝে নিজ নিজ জায়গা থেকে যদি নৈতিকতা ঠিক থাকে তাহলে দুর্নীতি কমানো সম্ভব।
এর আগে আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোওয়াত করেন কারী কবির হোসেন। আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার জেসমিন আক্তার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহবায়ক আসলাম হোসেন অর্ক, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার রিফা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিভিন সরকারী ও বেসরকারী দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। এ সময় বক্তারা বলেন, দুর্নীতি এমন একটি ব্যাধি যা রাষ্ট্রের শিকড়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একটি ঘুষ, একটি অনিয়ম, একটি মিথ্যা সমাজের ওপর পাহাড়ের মতো প্রভাব ফেলে।



















