বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য ও পদক বিজয়ী

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা ১০০ বছর পরেও আরেকজন রোকেয়া সৃষ্টি করতে পারিনি। এটি আমাদের জন্য একটি বড় দুর্ভাগ্য। বেগম রোকেয়া যে দিক-নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন এবং যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, আমরা তা বাস্তবায়নে সফল হতে পারিনি। কথা বলার মাত্রই আমরা অগ্রসর হইনি।
ড. ইউনূস আরও বলেন, আজকের অনুষ্ঠান শুধুমাত্র তাকে স্মরণ করার জন্য নয়, বরং আমাদের ব্যর্থতা মূল্যায়নের সুযোগ। কেন আমরা ব্যর্থ হয়েছি? কেন ১০০ বছর পরও আমাদের সমাজে আরও বেগম রোকেয়া জন্ম নেয়নি, যারা আমাদের পথ দেখাতো এবং জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতো?
তিনি উল্লেখ করেন, যে মহিয়সী নারীর স্মরণে আজকের অনুষ্ঠান হচ্ছে, সেই মহিয়সী নারীর আত্মা নিশ্চয়ই শান্তি পাবে। তিনি যে সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার পথে যারা আজকের রোকেয়া পদক অর্জন করেছেন, তারা সেই সমাজ নির্মাণের প্রেরণা দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সারা জাতি তাদের উদাহরণ থেকে তাদের পথচলা থেকে শিক্ষা পাই এবং যে আদর্শে বেগম রোকেয়া আমাদেরকে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন, অতি চমৎকারভাবে তুলে ধরেছিলেন তার বক্তব্যে, তার লেখায়; আজকে যে চারজন পুরস্কার পেলেন, তারা রোকেয়ার সেই পথে আমাদের জাতিকে তুলে ধরলেন, এগিয়ে দিলেন। আমরা ভাগ্যবান, আমরা ভাগ্যবতী।
এবার পদক পেয়েছেন- নারীশিক্ষা শ্রেণিতে (গবেষণা) রুভানা রাকিব, নারী অধিকার শ্রেণিতে (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার শ্রেণিতে নাবিলা ইদ্রিস ও নারী জাগরণ শ্রেণিতে (ক্রীড়া) ঋতুপর্ণা চাকমা।
উল্লেখ্য, ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস। খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। প্রতিবছর নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের বিশিষ্ট নারীদের রোকেয়া পদক দেওয়া হয়।

























