চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে নীরব ভোটযুদ্ধ: কার দখলে যাবে আ’ লীগ ও সনাতন ভোট?

মোঃ আব্দুর রহমান অনিক।।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গা–২ (দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সরব প্রচারের বাইরে এক ধরনের নীরব ভোটযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটার এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট যা শেষ পর্যন্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোয় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকদের বাইরে রাখার বিষয়ে অনেক রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য থাকলেও দলটির সমর্থক ভোটব্যাংক এখনো সক্রিয় রয়েছে। সেই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এই আসনে বিজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এই ভোটগুলো নিজেদের অনুকূলে টানতে বিএনপি ও জামায়াত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজ নিজ ঘাঁটির ভোটের পাশাপাশি আওয়ামী লীগপন্থী ও সনাতন ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারলে জয়-পরাজয়ের পাল্লা যেকোনো দিকে ঝুঁকে যেতে পারে। আবার অনেকের ধারণা, আ’ লীগের একটি বড় অংশ ভোটকেন্দ্রে নাও যেতে পারে। তবে তারা যদি ভোট দেয়, সেই ভোট কোন প্রতীকে যাবে সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতাদের অনেকে পলাতক বা কারাবন্দী এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও চাপের মুখে। এই বাস্তবতায় আ’ লীগঘনিষ্ঠ ভোটারদের আচরণ নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গত ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এই জেলায় পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে দু’জন সরে দাঁড়ান। ফলে বর্তমানে তিনজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তারা হলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু (ধানের শীষ), জেলা জামায়াতের আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিব (হাতপাখা)।
এই আসনটি তিনটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর আওতায় রয়েছে দামুড়হুদা উপজেলা,জীবননগর উপজেলা, চুয়াডাঙ্গা সদরের চারটি ইউনিয়ন, দর্শনা পৌরসভা ও জীবননগর পৌরসভা। মোট ভোটকেন্দ্র ১৭৪টি। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ ও সনাতন ভোট কোন দিকে যাবে তা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শিক নৈকট্য, স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, গণ-অভ্যুত্থানের পর আ’ লীগঘনিষ্ঠদের সঙ্গে প্রার্থীদের আচরণ এবং কেন্দ্রীয় কোনো ইঙ্গিত সবকিছুই এখানে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে ভোটের দিন চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে মূল লড়াই যে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, সে বিষয়ে একমত অনেকেই। তবে শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণ, ভোটার উপস্থিতি ভোটের গতিপথই ঠিক করে দেবে। শেষ হাসি কার মুখে ফুটবে।























